২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেজদারত খাদেমকে হত্যার চেষ্টা সৈয়দপুরে

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ হাসনাই (৬০) নামের আরও এক খাদেমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে এক দুর্বৃত্ত। মাগরিবের নামাজ আদায় অবস্থায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং জবাই করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে সৈয়দপুর উপজেলা শহরের হাতিখানা স্মরণীয় কারবালার মাঠে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সৈয়দপুর উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। খাদেম সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট রেলওয়ে কলোনি এলাকার মৃত গোলাম রসুলের ছেলে। ঘটনার পর পুলিশের একটি দল ওই এলাকা ঘিরে রেখে তার আশপাশ এলাকা তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু কাউকে আটক করতে পারেনি। উল্লেখ্য, মাত্র দু’দিন আগে রংপুরে এক খাদেমকে হত্যা করার পর ফের এ ঘটনা ঘটল।

সুত্র মতে, হাসনাই হাতিখানা স্মরণীয় কারবালার খাদেমের দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই খাদেম সাংবাদিকদের জানান তিনি প্রতিদিনের মতো হাতিখানা স্মরণীয় কারবালার স্থানে একাই মাগরিবের নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় কালো কাপড় পরিহিত এক যুবক পেছন থেকে তার ঘারে ধারালো অস্ত্রের কোপ দেয়। ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এ সময় যুবকটি পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাদেমকে সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

সৈয়দপুর থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যায় জামায়াতের ২ সদস্য গ্রেফতার ॥ বিডিনিউজ জানায়, রংপুরে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় দুই জামায়াত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা মাজার প্রাঙ্গণে ওরস শরীফের বিরোধিতা করে আসছিল বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে রহমত আলীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। চৈতার মোড়ে রহমত আলীর একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। সেখান থেকে ৪০০ গজ দূরে মজকুরনীপাড়ায় তার বাড়ি।

কাউনিয়া থানার ওসি এ বি এম জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুধবার ভোরে মধুপুর এলাকার বাসিন্দা ‘একাত্তরের রাজাকার কমান্ডার’ আব্দুস ছাত্তার মাওলানার ছেলে মোর্শেদ আলী (৩৬) ও ভাতিজা শহিদুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে নিহত রহমত আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তবে, তদন্তের সার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান ওসি।

তিনি বলেন, গ্রেফতার দুজনই মধুপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য। ঘটনার পর থেকে রাজাকার কমান্ডার ছাত্তার মাওলানা (৭০) পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ওসি বলেন, রহমত আলী ‘সহজ-সরল প্রকৃতির’ লোক ছিলেন। এলাকায় তার কোন শত্রু ছিল বলে তদন্তে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জামায়াত নেতা ওরস বন্ধের হুমকি দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহতের ভাতিজা আইনজীবী ফেরদৌস ইসলাম বলেন, রহমত আলী আমার আপন চাচা। বাড়ির কাছে আমার দাদা আব্দুস সাত্তারের নামে মাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়। চাচা ওই মাজারের খাদেম ছিলেন। আগামী ২১ নবেম্বর দাদা আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকীতে মাজার প্রাঙ্গণে ওরসের আয়োজন করা হয়। এবারও প্রস্তুতি চলছিল।

একাত্তরের রাজাকার কমান্ডার ছাত্তার মাওলানা ও স্থানীয় জামায়াত নেতারা বলে আসছিল, ওরসের আয়োজন ধর্মবিরোধী কাজ। কয়েকবার ওরস বন্ধ করার হুমকি দেয় তারা। এ বছরও ওরস না করার জন্য হুমকি দিয়েছিল তারা।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাউনিয়া উপজেলা ইউনিট কমান্ডার মোহাম্মদ সুরুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে আব্দুস ছাত্তার মাওলানার নামে বাহাত্তর সালে সাতটি মামলা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ছাত্তার এলাকায় ফিরে আবার জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।