২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ বাংলাদেশ জিম্বাবুইয়ে প্রথম টি২০

মিথুন আশরাফ ॥ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ যতটাই সফল হোক, টি২০তে ততটা সফল নয়। আজ সেই টি২০ ফরমেটেই খেলতে নামছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজের প্রথম টি২০তে লড়াই করবে মাশরাফিবাহিনী। ম্যাচটি মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেল পাঁচটায় শুরু হবে।

টি২০তে বাংলাদেশের অবস্থা যেমন, ঠিক একই অবস্থা জিম্বাবুইয়েরও। অবশ্য এ মুহূর্তে কোন ফরমেটেই জিম্বাবুইয়ের অবস্থা ভাল নয়। বুধবারই বাংলাদেশের কাছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। প্রথম ওয়ানডেতে ১৪৫ রানে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫৮ রানে ও তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬১ রানে হেরেছে। এর আগে অক্টোবরে আফগানিস্তানের কাছেও ওয়ানডেতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে বাংলাদেশে খেলতে এসেছে জিম্বাবুইয়ে। এমনকি আফগানদের কাছে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজে ২-০ ব্যবধানেও হেরেছে! এমন অবস্থায় টি২০তেও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা জিম্বাবুইয়ের জন্য কঠিনই হবে।

অবশ্য বাংলাদেশও যে খুব ভাল অবস্থানে আছে তা নয়। সর্বশেষ দুই ম্যাচে বাংলাদেশও হেরেছে। জিম্বাবুইয়ে যেমন দুর্বল দল আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে, বাংলাদেশ সেই তুলনায় শক্তিশালী দলের কাছেই হেরেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রতি ম্যাচে হেরেছে। দুই দলই তাই সর্বশেষ সিরিজ থেকে হারের স্মৃতি নিয়েই আজ মাঠে নামবে। এ ম্যাচটি শেষ হলে বুধবার দ্বিতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

নয় বছর আগে, ২০০৬ সালে দুই দলই একসঙ্গে টি২০তে পথ চলা শুরু করেছিল। দুই দলই পরস্পরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে স্বল্প ওভারের দুনিয়ায় প্রবেশ করেছিল। সেই ম্যাচে জয় হয়েছিল বাংলাদেশেরই। এরপর দুই দল আবার পরস্পরের বিপক্ষে খেলতে ৭ বছর অপেক্ষা করেছে। ২০১৩ সালে যখন দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজ খেলে তখন দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতে। এরপর আর বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে টি২০তে মুখোমুখি হয়নি।

আজ আবার দুই দল লড়াই করবে। এ লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকছে। দুই দলের মধ্যকার হওয়া এ পর্যন্ত তিন লড়াইয়ে ২ ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশ। হেরেছে ১ ম্যাচে। আর ৪৪ ম্যাচ খেলে এ পর্যন্ত জয় পেয়েছে ১২টিতে। জিম্বাবুইয়ে সেখানে ৪০ ম্যাচ খেলে ৭টিতে জিতেছে।

বাংলাদেশ অবশ্য খুব বেশি টি২০ খেলার সুযোগ পায় না। পেলে হয়ত ওয়ানডের মতো সাফল্যই অর্জন করতে পারত। এ বছর বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৩ টি২০ ম্যাচ খেলেছে। এরমধ্যে পাকিস্তানকে ১ টি২০তেই হারিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরেছে দুটি ম্যাচ। জিম্বাবুইয়েও খুব বেশি টি২০ খেলার সুযোগ পায় না। তবে এ বছর বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছে জিম্বাবুইয়ে। বাংলাদেশ যেখানে ৩ টি২০ ম্যাচ খেলেছে, সেখানে জিম্বাবুইয়ে এ বছরই ৯ টি২০ খেলেছে। একটি ম্যাচে জিতেছে। সেটি ভারতের বিপক্ষে। এছাড়া ৮ ম্যাচেই হেরেছে জিম্বাবুইয়ে। দুই দলই এখন জিততে চাচ্ছে। ওয়ানডের সুখ স্মৃতিকে পুঁজি করে টি২০তেও জয় তুলে নিতে চায় বাংলাদেশ। আর ওয়ানডের দুঃখ স্মৃতি ভুলে টি২০তে সুখ স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চায় জিম্বাবুইয়ে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা যেমন বলেছেন, ‘টি২০তে আমরা এখনও অতটা সফল নই। আর এটাও সত্যি যে তিন ওয়ানডে জেতার পর আমাদের আত্মবিশ্বাস ভাল থাকবে। আর আমরা মাঠে চেষ্টা করব সেই আত্মবিশ্বাস বয়ে নিয়ে যেতে। নিতে পারলে ফল আমাদের পক্ষে থাকবে আশা করি।’

জিম্বাবুইয়ে অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা বলেছেন, ‘এটা এখন অতীত (ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ)। তাই সেটা নিয়ে কিছুই বলার নেই। এটা ঘটে গেছে। এখন মূল দৃষ্টি আজকের খেলার দিকে। ভাল ক্রিকেট খেলাটাই শুধু নিশ্চিত করতে হবে। অবশ্যই পরাজিত (ওয়ানডেতে) হওয়াটা খুবই হতাশার। কিন্তু এখন একটা ভিন্ন ভার্সনের ক্রিকেট হবে। আমাদের শুধু ঘুরে দাঁড়ানোটা নিশ্চিত করতে হবে এবং সেরা অবস্থানে থাকতে হবে।’ এখন দেখা যাক, জিম্বাবুইয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নাকি বাংলাদেশ আজ প্রথম টি২০ থেকেই স্বল্প ওভারের সিরিজেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখে।