২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার ৩১ টাকা কেজি দরে দু’লাখ টন আমন চাল কিনবে সরকার

  • কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় চাল আমদানি শুল্ক আরও বাড়ানোর উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানির কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসে শুল্ক আরোপ করা হয়। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে এখন সেই চাল আমদানির শুল্ক আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি এবার ৩১ টাকা কেজি দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহ করবে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত দুই লাখ মেট্রিক টন চাল কেনা হবে। গত ১০ মে চাল আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে সরকার। এর আগে চাল আমদানির ওপর কোন শুল্ক ছিল না। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্ক না থাকার কারণে ভারত থেকে চাল আমদানির কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছিল। যেটা কোন অবস্থাতে কাম্য নয়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে আমরা গত বছরই শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলাম। দেরিতে হলেও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, শুল্ক আরোপে বিলম্ব হওয়ার কারণে বাজারে ভারতীয় চাল অনেক চলে এসেছে। যেটার একটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সভায় চালের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শুল্ক আরও বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ শুল্ক বৃদ্ধি করার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আমরা দু’এক দিনের মধ্যেই পেয়ে যাব।’

সভায় উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিল মালিকরা চাল আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। অপরদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে চাল রফতানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। কামরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেন। এই সরকারের সময় সারের কোন সঙ্কট নেই, বীজের কোন সঙ্কট নেই। কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে। এত কিছু দেয়ার পর বাংলাদেশে ফসলের বাম্পার ফলন হচ্ছে। আমরা বিদেশে চাল রফতানি করছি।

বৈঠকে এবার ৩১ টাকা কেজি দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত দুই লাখ মেট্রিক টন চাল কেনা হবে।

তিনি বলেন, আমন ধান উৎপাদন করতে কৃষক পর্যায়ে খরচ পড়েছে কেজি প্রতি ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। আর চাল উৎপাদন পর্যন্ত এ খরচ দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি ২৮ টাকা ৫০ পয়সা। আমরা ৩১ টাকা কেজি দরে আমন চাল সংগ্রহ করব। মন্ত্রী বলেন, গত বছর ৩২ টাকা কেজি দরে তিন লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহ করা হয়। তবে সরকার এবার কোন আমন ধান কিনবে না বলেও জানান কামরুল।

কমছে ওএমএসের চাল-আটার দাম ॥ বৈঠকে সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে রাখতে খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল ও আটার দাম কমানোরও সিদ্ধান্ত হয়। দুই-এক দিনের মধ্যে ওএমএসের চাল-আটার পুনর্নির্ধারিত দাম ঘোষণা করা হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওএমএসের বিক্রয়মূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কত কমানো হবে তা কাল-পরশু জানিয়ে দেয়া হবে। বর্তমানে প্রতিকেজি আটা ২২ টাকা ও ওএমএসের চাল ২৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।