২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দুই লেখক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, যাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে, ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে। পরের চার দশক আপন সৃষ্টিশীলতায় আচ্ছন্ন রেখেছেন তিনি কোটি বাঙালীকে। তাঁর একটা নিজস্ব কণ্ঠস্বর আছে। পড়ামাত্রই তাঁর লেখা চেনা যায়। পরিস্থিতিনির্মাণ, বর্ণনাভঙ্গি, সংলাপে তিনি এমন এক শৈলীর উদ্ভাবন করেছেন যা বাংলা সাহিত্যে অতুলনীয়।

আপন দ্যুতিতে উদ্ভাসিত প্রয়াত এই লেখকের স্মরণে এবং এদেশের নবীন-প্রবীণ কথাসাহিত্যিকদের শিল্পসৃষ্টিতে প্রেরণা যোগাতে প্রবর্তিত হয়েছে ‘এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় পাক্ষিক ‘অন্যদিন’র এই উদ্যোগ। প্রথমবারের মতো ‘এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫’ পেয়েছেন দেশের দুইজন লেখক। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য প্রবীণ কথাশিল্পী শওকত আলী এবং নবীন সাহিত্যশ্রেণীতে (অনুর্ধ পঁয়ত্রিশ বছর বয়স্ক লেখক) সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘পা’ (গল্প সংকলন)’র জন্য। তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বিকেলে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, হুমায়ূন আহমেদের অনুজ কথাশিল্পী মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, হুমায়ূন আহমেদের লেখা যেমন আচ্ছন্ন করে, তাঁর ব্যক্তিজীবনও তেমন আচ্ছন্ন করে। আমার লেখার ক্ষমতা থাকলে তাঁকে নিয়ে একটি বড় গ্রন্থ লিখতে পারতাম। লেখক, নাট্যকার ও বন্ধু হিসেবে তিনি ছিলেন একেক রকম। নাটকের ক্ষেত্রে সে যেটা চাইত আমি সেটা করতে পারতাম। অভিনেতা হিসেবে আমার জীবনের মোড় হুমায়ূনের হাত দিয়ে হয়েছে। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যেমন অসাধারণ একজন লেখক পেয়েছিলেন, আমি তেমনি একটি অসাধারণ বন্ধু পেয়েছিলাম। পরে তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই লেখকের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

পাক্ষিক অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বক্তব্য রাখেন এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া।

পুরস্কার প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আজ যাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে তাদের একজন প্রবীণ কথাশিল্পী শওকত আলী, যার বই পড়ে বড় হয়েছি। দ্বিতীয় জনের লেখার সঙ্গে পরিচিত নই। আজ তাঁর সঙ্গে পরিচিত হলাম, নিশ্চয়ই তিনি ভাল লেখক বলেই পুরস্কার পেয়েছেন। আমরা আগামীতেও তাঁর কাছ থেকে ভাল ভাল লেখা পাব। তিনিও আজ থেকে আমাদের পরিবারের একজন হয়ে গেলেন। হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁর সম্পর্কে বলে শেষ করা কঠিন। তবে তাঁর প্রথম প্রকাশিত ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের প্রথম পাঠক আমি। একজন সাহিত্যিক কি পরিমাণ জনপ্রিয় হতে পারেন হুমায়ূন আহমেদ তার প্রমাণ। বাংলাদেশের মানুষ তাঁর অভাব অনুভব করেন। আমি আশা করব নতুন লেখকরা তাঁর লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে, ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে লেখা-লেখিতে এগিয়ে আসুক।

অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, আজ যে দুইজন লেখক পুরস্কৃত হচ্ছেন- তার মধ্যে শওকত আলীর সঙ্গে আমরা বিশেষ পরিচিত, তাঁর লেখা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। কিন্তু নবীন লেখিকা সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমামের লেখার সঙ্গে পরিচিত নই। যা হোক তাঁর প্রথম লেখার প্রথম পুরস্কার তাঁকে লেখা-লেখির ব্যাপারে আরও উৎসাহ বাড়িয়ে দেবে বলে বিশ্বাস করি।

এ পুরস্কারের বিচারকম-লীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, হুমায়ূন কেবল সাহিত্য সৃষ্টি করেনি, পাঠকও সৃষ্টি করেছেন। তাঁর অবর্তমানে এই পুরস্কার তাঁর স্মৃতির প্রতি সার্থক শ্রদ্ধা হিসেবে গৃহীত হবে।

এরপর অতিথিরা প্রবীণ ও নবীন দুই লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য প্রবীণ কথাশিল্পী শওকত আলীর হাতে পুরস্কারের অর্থমূল পাঁচ লাখ ও সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমামের হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।

সবশেষে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় গান গেয়ে শোনান শিল্পী এসআই টুটুল।

নির্বাচিত সংবাদ