২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষমতাধর ১০ ব্যক্তি

  • ভ্লাদিমির পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েই তিনি একের পর এক নিজের ইচ্ছে পূরণ করছেন। হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের মিশনে যেন নেমেছেন তিনি। ক্রিমিয়া দখল করায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে দেশটিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। কিন্তু কোন কিছুই তাকে তার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা থেকে হটাতে পারেনি। গত অক্টোবর মাসে তিনি সিরিয়াতে আইএস শক্তিকে উৎখাত করতে প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তারপর থেকে আইএস বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে রাশিয়া। আমেরিকা, ন্যাটোসহ পশ্চিমাবিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ ও সংস্থাগুলো পুতিনের এসব কার্যক্রম চেয়ে চেয়ে দেখা এবং অসাড় তর্জন-গর্জন ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না। এসব কিছু বিবেচনায় বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকার শীর্ষে ভøাদিমির পুতিন।

এ্যাঞ্জেলা মের্কেল

জার্মানির চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মের্কেল। তিনি এমনই একজন যিনি গত দশ বছর ধরে সবচেয়ে ক্ষমতাধর মহিলা হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বমন্দা থেকে উত্তরণে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রীসের সঙ্কট দূরীকরণে তিনি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন। আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে দিয়ে নাৎসি যুগের যে দুর্গন্ধ জার্মানির বাতাসে অল্প হলেও লেগেছিল, তা দূর করে দিয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্কট নিরসনেও তিনি যথেষ্ট কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। এ্যাঞ্জেলা মের্কেল কেবল নিজ দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিম-লেও সমানভাবে ক্ষমতাধর। আর এসব কারণেই বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় ভøাদিমির পুতিনের পরই তাঁর অবস্থান।

বারাক ওবামা

বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের তালিকায় এখনও আমেরিকার অবস্থান সবার উপরে। ক্ষমতাধর এই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধিও তাই বিশাল। সেই হিসেবে বারাক ওবামা বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত ক্ষমতাবান একজন। তবে তারই বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষমতাবান হওয়ার কথা থাকলেও তার শাসনামলের শেষ বছরে এসে তিনি নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি অনেকখানিই খুইয়ে ফেলেছেন। একদিকে নিজের প্রশাসন চালাচ্ছেন অনেকটা ঢিমে তালে অন্যদিকে তিনি ইউরোপের ক্ষেত্রে এ্যাঞ্জেলা মের্কেলের উপর কর্তৃত্ব করতে পারছেন না। আবার মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রেও পুতিনের কর্তৃত্বকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। এসব কারণেই বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় তার অবস্থান এখন তৃতীয়।

পোপ ফ্রান্সিস

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ছয় ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১.২ বিলিয়ন মানুষের আধ্যাত্মিক নেতা পোপ ফ্রান্সিস। খ্রীস্টান ধর্মের এই ধর্মগুরু নিজের কর্মপরিধিকে কেবল চার্চের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি বিশ্ব শান্তি আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি আমেরিকান কংগ্রেস এবং জাতিসংঘে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন সমস্যার সমাধান, মধ্যপ্রাচ্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাসহ বিশ্ব শান্তি আনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য দেন। তিনি ফিলাডেলফিয়া কারাগারে গিয়ে ধর্মযাজকদের দ্বারা যৌন নির্যাতিত নারীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, যা ছিল অবিশ্বাস্য। শুধু তাই নয়, তিনি দারিদ্র্য, নারীর অধিকার আদায়, গর্ভপাত, সমকামী বিবাহ ইত্যাদি ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আর এসব কারণেই ফোর্বসের বিশ্বের ক্ষমতাধরের তালিকায় চতুর্থ স্থানে তিনি অবস্থান করছেন।

শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে মাও ঝেডংয়ের পর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শি চীনে প্রাইভাটাইজেশন সহায়ক সংস্কার ঘটিয়েছেন। চীনের সর্বত্রই এখন আধুনিকায়নের ছোঁয়া। আর এটা হয়েছে শি এর চেষ্টা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। তিনি তার কর্মকা-গুলো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন, যা আসলে জবাবদিহিতা সৃষ্টির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শি দুর্নীতি দূরীকরণে তার আগের সরকার প্রধানদের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে সমুন্নত রাখতে তিনি একের পর এক যুগান্তরকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। চীনের বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনিই এখন চালকের আসনে। গত অক্টোবর মাসেই তিনি আমেরিকা এবং ব্রিটেন ঘুরে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন করেন। দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে প্রভাব বিস্তার তাকে ফোর্বসের তালিকায় পঞ্চম স্থান দিয়েছে।

বিল গেটস

বিশ্বের সেরা ধনী বিল গেটস। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে বিল গেটস ও তার বন্ধু পল এ্যালেন যে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন তা আজ ডালপালা, শাখা প্রশাখা গজিয়ে মহীরুহ। তিনি চেয়েছিলেন প্রতিটি মানুষই যেন কম্পিউটার ব্যবহার করে। এখন আমেরিকার ৮৪ শতাংশ মানুষেরই নিজস্ব কম্পিউটার আছে।

আর সর্বত্রই হচ্ছে মাইক্রোসফটের ব্যবহার। বছর পনেরো আগে বিল এবং তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস এক দাতব্য ফাউন্ডশন গড়ে তোলেন। উদ্দেশ্য বিশ্ব থেকে অসমতা দূর করা। এই কাজে ইতোমধ্যে ত্রিশ বিলিয়নেরও বেশি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। একদিকে মাইক্রোসফটের মাধ্যমে বিশ্বে নিজের প্রভাব সৃষ্টি এবং অন্যদিকে বিপুল দাতব্য কাজের উদ্যোগ বিল গেটসকে তালিকার শীর্ষ ছয়ে স্থান দিয়েছে।

জ্যানেট ইয়েলেন

জ্যানেট ইয়েলেন আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথম মহিলা গভর্নর। ২০১৪ সালে তিনি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই মন্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। দীর্ঘ মন্দায় আমেরিকার অর্থনীতি যখন নাকানি চুবানি খাচ্ছিল, তখন তিনি অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেন। ফলে দেখা যায়, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ফিরে পেয়েছে হার হারানো গৌরব। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়তে পারে, যা বছরের শুরু থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০০৪ সালের পর তিনি ছাড়া আর কেউই সুদের হার বৃদ্ধির দুঃসাহস দেখাতে পারেনি।

তাছাড়া অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ অর্থনৈতিক খাতের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তিনি। আর এ কারণেই দেশটির অর্থনীতি বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জ্যানেটর এসব সফলতাই তাকে বিশ্বের সপ্তম ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

ডেভিড ক্যামেরুন

যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ক্যামেরুন। এ বছরের মে মাসে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে জিতে দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে বসবাস করছেন। বিগত তেইশ বছরের মধ্যে মেজরিটি নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টি সরকার গঠন করেছে। আর নেতৃত্বে আছেন তিনি। কনজারভেটিভ এই নেতা টুইটারের বেশ ভক্ত। টুইটারে তার অনুসারীর সংখ্যা ৮ লক্ষ ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন, আইএস বিরোধী অভিযানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তিনি বিশ্বের ক্ষমতাধরদের তালিকার অষ্টম স্থান অর্জন করেছেন।

নবেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় তাঁর অবস্থান নবম। গত বছর নির্বাচনের আগ থেকেই তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিদের একজন।

নির্বাচনে জেতার পর থেকেও তাকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা- সমালোচনা। তার প্রথম বছরের শাসনামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে। বারাক ওবামা এবং শি জিনপিং এর সঙ্গে তার সাক্ষাতকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশটির অবস্থান দৃঢ় করেছে। তবে এখন মোদির জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিজের পার্টির মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণ।

ল্যারি পেজ

ফোর্বসের ক্ষমতাধরদের তালিকায় ল্যারি পেজের অবস্থান দশম। তিনি এ্যালফাবেটের সিইও। এই কোম্পানিটির অধীনে আছে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল, গুগল এক্স ল্যাব, ক্যালিকো, নেস্ট এবং ফাইবার। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৩৪.২ বিলিয়ন ডলার। আগস্ট মাসে ল্যারি গুগলের সিইও পদটি সুন্দর পিচাইয়ের কাছে ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। জুলাই মাসে শেয়ার বাজারে গুগলের রমরমা অবস্থার পরপরই তিনি এ ঘোষণা দেন। অবশ্য, গত বছরের অক্টোবর থেকেই তিনি একে একে তার দায়িত্বগুলো সুন্দরের হাতে ছেড়ে দেন।