২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধে উত্তপ্ত সংসদ

সংসদ রিপোর্টার ॥ বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিতাদেশের ঘটনায় বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অচিরেই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। একটি কমিটি গঠন করে প্রয়োজনে স্পীকারের নেতৃত্বে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফারাজী। আলোচনায় আরও অংশ নেন- আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও নুরুল ইসলাম সুজন, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোঃ সেলিম।

আলোচনার সূত্রপাত করে রুস্তম আলী ফারাজী বলেন, মন্ত্রী সাহেবরা কী চিন্তা করেন তা ভাবতে অবাক লাগে। তারা নিশ্চয়ই জানেন, জনগণ এই সংসদের প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়েছেন। তারা এখানে জবাবদিহিতা করবে। তাদের এখানে দায়বদ্ধতা আছে। কিন্তু অনেক মন্ত্রীর দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে।

পরিপত্র জারি করা নিয়ে তিনি বলেন, আজ মন্ত্রীর সামনে অনেকেরই আকাক্সক্ষা ছিল এটা নিয়ে দু-একটা কথা বলবেন। মন্ত্রী হয়তবা জবাব দেবেন। আমাদের বক্তব্যের পর তিনি ৩০০ বিধিতে কথা বলবেন। কিন্তু এটা উনি আঁচ করে আগেই অধিবেশন থেকে চলে গেছেন।

ফারাজী আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী এর আগে বক্তব্য দিয়ে বলেছিলেন রাজনীতিবিদরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন না। পরিচালনা করলে সেখানে অনিয়ম হয়, দুর্নীতি হয়। তাহলে উনি (শিক্ষামন্ত্রী) কি সবাইকে দুর্নীতিবাজ বলতে পারেন? তাহলে তো আপনিও (স্পীকার) তার ভেতর পড়েন। তাহলে আমরা সবাই পড়ি। এভাবে ওনার বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি। তার উচিত এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়া। যদি প্রয়োজন হয় শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিনিধি আছেন, তাদের নিয়ে আলোচনা করেন, পারলে গোলটেবিল করেন। বিতর্ক করেন কিভাবে সুন্দর করা যায়। কোনকিছু না করে জনৈক আমলার কথায় তড়িঘড়ি করে একদিনের ভেতরে একটি পরিপত্র জারি করে দিলেন, যেটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও অস্বস্তি বোধ করেছেন।

বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এই স্থগিতাদেশের কারণ হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি চাইলে কোন নিয়োগ দিতে পারে না। নিয়োগ বোর্ডে মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা অধিদফতর এবং সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি থাকে। দুর্নীতি হয়ে থাকলে তারাই এর জন্য দায়ী। এখানে এমপিদের ঘাড়ে দুর্নীতির দায় চাপিয়ে দিয়ে তাদেরই নিয়োগের দায়িত্ব দেবেন এটা হতে পারে না। এমপিরা কোন ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে চলমান সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠনের দাবি জানান।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, মেধার প্রশ্নে কোন ধরনের ছাড় নেই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণাই মেনে চলি। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে মন্ত্রী ও সরকারী কর্মকর্তারা তার দায় এড়াতে পারেন না। তিনি বলেন, এটা নিয়ে সকলে কথা বলছে, বিশ্ববাসীর কাছে ভুল মেসেজ যাবে। অনেকেই ভাববে সরকারের বিরুদ্ধে সব এমপিরা একত্রিত হয়েছে। তাই এটা নিয়ে আর বিতর্ক নয়। সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি ব্যবস্থা আমরা কোন আলোচনা ছাড়াই বাতিল করতে পারি না।

মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, সরকারী প্রজ্ঞাপনে সংসদ সদস্যদের অপমানিত করা হয়েছে। অনেক আগে থেকে এমপিদের অবহেলা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কিন্তু এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। এটা সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।

নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে তা মন্ত্রীর চিন্তাপ্রসূত। এখানে কোন সংশোধন আনার প্রয়োজন হলে তা সংসদে আলোচনা হতে পারত

হাজী সেলিম বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সংসদে আলোচনা ছাড়াই একটা প্রজ্ঞাপন জারি করে দিলেন। এমন হলে তো টিআইবির কথাই সত্য হবে। সংসদ পুতুল নাচের নাট্যশালা হবে।