২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক লাখেরও বেশি বিও এ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে ॥ অর্থমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ নির্ধারিত সময়ে নবায়ণ ফি না দেয়ায় গত অর্থবছরে এক লাখেরও বেশি বিও এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। দেশে বর্তমানে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১৬৯ মার্কিন ডলার বা ১৩ হাজার টাকা। আর মাথাপিছু সরকারী ঋণের পরিমাণ ২৬ হাজার টাকা। গত ১৫ বছরে এ ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩ গুণ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদকে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মন্ত্রী আরও জানান, একই সময় ব্যাংকে গচ্ছিত জনগণের আমানত ৮ গুণেরও বেশি বেড়েছে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ে নবায়ণ ফি না দেয়ায় গত ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩৩টি বেনিফিশিারি ওনার (বিও) এ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বতর্মানে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১৬৯ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ১৬০ টাকা।

সরকারদলীয় অপর সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের সম্পদের পরিমাণকে ব্যাংকে গচ্ছিত জনগণের আমানত হিসাবে বিবেচনায় নিলে গত ১৫ বছরে ব্যাংকে গচ্ছিত জনগণের আমানতের পরিমাণ ৮ গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ব্যাংকে গচ্ছিত জনগণের আমানতের পরিমাণ ছিল ৮১ হাজার ৬০৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি ২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মাথাপিছু সরকারী ঋণের পরিমাণ ৩ গুণ বেড়েছে। ২০০০-২০০১ অর্থবছরে মাথাপিছু সরকারী ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ১১৪ দশমিক ২৭ টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ১৫২ দশমিক ৭৭ টাকা।

কাজী কেরামত আলীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের ঋণ নিয়ে আত্মসাতের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের পর মামলা দায়ের করা হয়। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) মান্ডি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তের জন্য তা দুর্নীতি দমন কমিশনে সরবরাহ করে থাকে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডাঃ রুস্তম আলী ফারাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকার এখনও সফল হতে পারেনি। পাচারকারীরা খুব ধুরন্ধর। যখন আমরা কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করি তাদের ধরার জন্য তখন তারা পাল্টা নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফাঁকি দেয়।