২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুচিকে সেনাপ্রধানের অভিনন্দন

  • জাতীয় সমঝোতা প্রশ্নে আলোচনার আমন্ত্রণ গ্রহণ প্রেসিডেন্ট ও কমান্ডার ইন চীফের

মিয়ানমানের প্রেসিডেন্ট ও প্রভাবশালী সেনাপ্রধান বুধবার আউং সান সুচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) দেশটিতে সদ্য অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে এটি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা এই অভিনন্দন জানান। ২৫ বছর পর রবিবার দেশটিতে প্রথম অবাধ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।

প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন সুচিকে অভিনন্দন জানিয়ে নির্বাচনের ফল মেনে নেয়ার বিষয়ে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া সুচির জাতীয় সমঝোতা প্রশ্নে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেছেন। আলোচনার সময় ও স্থান উভয়পক্ষের মতৈক্যের ভিত্তিতে পরে ঠিক করা হবে। বুধবার পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা গেছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৮৫ শতাংশ আসন পেয়েছে এনএলডি। এছাড়া উচ্চকক্ষ এবং আঞ্চলিক পরিষদগুলোতেও দলটি এগিয়ে রয়েছে। নিম্নকক্ষের ৩৩০ আসনের মধ্যে ঘোষিত ২১৬টি আসনের মধ্যে এনএলডি পেয়েছে ১৭৯টি আসন। এনএলডি দাবি করছে, তারা সেখানে ২৫০টি আসন পাবে। নিম্নকক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে যে কোন দলের জন্য ২২১টি আসন প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের ফেসবুকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অভিনন্দন... আউং সান সুচি ও তার দল নির্বাচনে জনগণের সমর্থন অর্জন করেছেন। জনমতকে সরকার সম্মান দেখাবে। নির্ধারিত সময়সূচী অনুসারে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’ নির্বাচনোত্তর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট ‘অন্যসব লোকের’ সঙ্গে কাজ করবে বলে এতে আরও বলা হয়। সেনাপ্রধান মিন আউং হলাইংও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সুচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসিকে অভিনন্দন জানাই। কারণ দলটি নির্বাচনে ভাল ফল করেছে।’ নির্বাচনের সরকারী ফল প্রকাশিত হওয়ার পর সেনাপ্রধান সুচির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়। সুচির সঙ্গে সেনাপ্রধানের অনেক দিন ধরেই সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। সেনাবাহিনী প্রবর্তিত সংবিধান অনুযায়ী সুচির দল নির্বাচনে যথেষ্ট ভাল করলেও তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। কারণ এই সংবিধান অনুযায়ী কারও পরিবারের কোন সদস্য বিদেশী নাগরিক হলে তার জন্য প্রেসিডেন্ট হওয়া নিষিদ্ধ। সুচির ছেলে একজন ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী এবং তার প্রয়াত স্বামীও ছিলেন একজন ব্রিটিশ নাগরিক। সেনাবাহিনীর সঙ্গে এনএলডির মতবিরোধী এখন প্রধান ইস্যু। অনেকে মনে করেন, সুচির দল ভবিষ্যতে কখনও ক্ষমতায় এলেও সুচি যেন রাষ্ট্রপ্রধান হতে না পারেন সেটি চিন্তা করে সেনাবাহিনী কাজটি আগে থেকে করে রেখেছে।

রবিবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) ভরাডুবি হয়েছে। পার্টির অনেক প্রভাবশালী নেতা হেরে গেছেন। এটি মূলত সেনাবাহিনীর বেসামরিক রাজনৈতিক ফ্রন্ট। ২০১১ সালে কয়েকটি দলের সমম্বয়ে দলটি ক্ষমতাসীন হয়েছিল। পার্লামেন্টে ২৫ শতাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেনা শাসনাধীনে রয়েছে। এর আগে ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এনএলডি ব্যাপক জয় পেলেও জান্তা তখন ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। এরপর ২০১০ সালের নবেম্বরে নির্বাচন হলেও এনএলডি তাতে অংশ নেয়নি। সংবিধান অনুযায়ী তিন বাহিনীপ্রধান এবং স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্তরক্ষামন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা সেনাপ্রধানের হাতেই থাকছে। এছাড়া প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ক্ষমতা পার্লামেন্টের কাছ থেকে নিজের হাতে নিয়ে নিতেও পারবে।