২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদিতে অভ্যুত্থানের গুজবের মুখে পরিবর্তনের ঘোষণা

  • দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা

সৌদি আরব অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে শুরু করে নারীর ভূমিকার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা এবং দেশটিতে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোকে কাজ করার সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি সংবলিত এক ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইনের।

নতুন বাদশাহ সালমানের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা এবং তার শক্তিশালী পুত্র টেলিগ্রাফ পত্রিকার কাছে দেশের ভবিষ্যত সরকারের বিস্তারিত কর্মসূচী তুলে ধরার এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন। যখন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে কয়েক দশকের মধ্যে যে কোন সময়ের তুলনায় এখন তীক্ষèতর দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে, তখন এ প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়া হলো। এতে পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয় যে, বাদশাহ জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর রাজপরিবারে সূচিত আমূল পরিবর্তন বিরোধিতার মুখে পড়ে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে পুরনো প্রিন্সদের এবং সিংহাসনের সাবেক উত্তরাধিকারীকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার পদক্ষেপও ছিল। অসন্তুষ্ট প্রিন্সরা বাদশাহের স্থলে তার কোন ভাইকে বসাতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছেন বলে দেশের বাইরে গুজব উঠেছে। কিন্তু টেলিগ্রাফকে দেখানো বিবৃতিতে বলা হয়, এক শতাব্দী আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশটি যেভাবে চলছে, তাতে ‘তরুণ’দের অবশ্যই স্থান দিতে হবে। এতে বলা হয়, জনগণ দেশকে নতুন ভিত্তির ওপর পূর্ণ গঠন করতে চায়, যা দেশকে এক বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবে। আর সেটি কোন বড় রকমের রদবদল ছাড়া হবে না। বিবৃতিতে স্বীকার করা হয় যে, দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বিশেষত নারী অধিকার প্রশ্নে দুর্বল হওয়ার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজেই অংশত দায়ী। এতে বলা হয়, সৌদি নারীদের ইস্যুটি বিশ্বে জনমতের এক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। মনে হয়, আমরা জনমতের নিরিখে এক্ষেত্রে হেরে গেছি। কিন্তু এটি যথার্থ, কারণ আমরা যে উপায়ে ইস্যুটি নিয়ে পদক্ষেপ নেই, তার উন্নতি ঘটাতে পারিনি।

কিন্তু দলিলে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাযতেœর ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জিত হওয়ার কথা বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যা বেশি।

এতে বলা হয়, সমাজে নারীদের ভূমিকা বাড়াতে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করতে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি এবং কয়েক বছরের প্রচেষ্টাকে খাটো করে দেখতে পারি না। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়া রোধ করার উপায় হিসেবে সৌদি আরবের দ্বার আন্তর্জাতিক কমিটি ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর জন্য খুলে দিতে হবে। যদি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোকে সৌদি আরবে কাজ করতে দেয়া হয়, তবে তা হবে এক বড় রকমের পরিবর্তন। এসব গোষ্ঠী দেশটির বিচার ব্যবস্থা, বাকস্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রতি সরকারের মনোভাবের প্রতি কড়া সমালোচনা করে এসেছে। নতুন পরিকল্পনায় বাজেট ছাঁটাই, বেসরকারী খাতের ভূমিকা বাড়ানো, অপচয় হ্রাস ও আয়ের উৎস বহুমুখী করতে অবকাঠামোতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষত ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো পুরনো মিত্রদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। সৌদি আরবে পরিবর্তন আনা হবে না কোন কোন ক্ষেত্রে বিলে বিবৃতিতে জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়। এতে গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নে মানবাধিকার কর্মীদের ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমালোচকদের কথিত চলমান দমন অভিযান সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।