২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয়ের ধারায় থাকতে চায় টাইগাররা

  • বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে টি২০ সিরিজ শুরু আজ

মিথুন আশরাফ ॥ ওয়ানডে সিরিজের পর প্রথম টি২০ ম্যাচ দিয়ে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজ খেলতে নামবে আজ বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই হবে ম্যাচ। এ ম্যাচটি শেষে বুধবার দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে জিম্বাবুইয়ের বাংলাদেশ সফরও শেষ হবে।

জিম্বাবুইয়ের বাংলাদেশ সফর শেষ হয়ে যাবে, তবে এ সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশ আসলে পুরোদমে টি২০’র দুনিয়ায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এখন থেকে টানা টি২০ ম্যাচই শুধু খেলবে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত যা চলতেই থাকবে। ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৯ বছরে ৪৪টি আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এখন থেকে আগামী ৬ মাসেই ২০টির মতো টি২০ খেলে পারে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ২টি ম্যাচ শেষে আবার যখন জিম্বাবুইয়ে জানুয়ারিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে আসবে তখন দুটি টি২০ ম্যাচ থাকতে পারে। হয়ে গেল ৪ টি২০ ম্যাচ। এরপর এশিয়া কাপে ফাইনাল না খেলতে না পারলেও গ্রুপ পর্বে ৪ টি২০ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। হয়ে গেল মোট ৮ ম্যাচ খেলা। এরপর মার্চ-এপ্রিলে বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে তিনটি, প্রথম পর্বের গ-ি অতিক্রম করলে দ্বিতীয় পর্বে আরও ৪ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। মোট ১৫ ম্যাচ খেলা হয়ে গেল। এরবাইরে আরও ম্যাচত আছেই। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ আছে একাধিক। যদি বিসিবি কোন দলের বিপক্ষে খেলা আয়োজন করে সেই সুবাদে আরও কয়েকটি টি২০ ম্যাচ খেলা হবে। ২০টির মতো টি২০ ম্যাচ খেলা হয়ে যাবে বাংলাদেশের। শুধু কী তাই, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগও (বিপিএল-টি২০) আছে এরমধ্যে। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজটি শেষ হতেই বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের বিপিএল খেলতে প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে। এখন থেকেই তাই টি২০’র দুনিয়ায় পুরোদমে প্রবেশ করে ফেলছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা টি২০ বিশ্বকাপের দিকে এখন থেকেই ফোকাস করতে চাইছেন। তাই তো বলেছেন, ‘সামনে বিশ্বকাপ আছে, মূল ফোকাস ওটাই। এশিয়া কাপও আছে।’ এজন্য সেরা কম্বিনেশন গড়ার কাজটিও এখনই শুরু করতে চান মাশরাফি, ‘যা করার এখনই করতে হবে। সেরা কম্বিনেশন ঠিক করার চেষ্টা করছি আমরা। সেদিক থেকে বললে প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে হবে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য, সেরা কম্বিনেশনটা বের করা। কারণ এরপর আমাদের ওই সুযোগটা নাই কিছু খেলে কম্বিনেশন প্রস্তুত করা।’ সঙ্গে জেতার লক্ষ্য থেকেও বিচ্যুত হচ্ছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘জেতা তো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। টি২০’তে আমরা এখনও অতটা সফল নই। আর এটাও সত্যি যে তিন ওয়ানডে জেতার পর আমাদের আত্মবিশ্বাস ভাল থাকবে। আর আমরা মাঠে চেষ্টা করব সেই আত্মবিশ্বাস বয়ে নিয়ে যেতে। নিতে পারলে ফল আমাদের পক্ষে থাকবে আশা করি।’

টানা তিন ওয়ানডেতে জিম্বাবুইয়েকে যেভাবে তলিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, তাতে টি২০ নিয়ে দল থেকে অনেক আশা করা হচ্ছে। প্রথম ওয়ানডেতে ১৪৫ রানে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫৮ রানে ও তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬১ রানে জিতে জিম্বাবুইয়েকে প্রত্যাশা মতোই হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এখন টি২০তেও সেই ধারা বজায় রাখার পালা।

যদিও জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে খুব বেশি টি২০ ম্যাচ খেলা হয়নি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ যে প্রথম টি২০ ম্যাচটি খেলেছে, সেই ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুইয়ে। সেই ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশই। এরপর দুই দল ৭ বছর পর ২০১৩ সালে আবার মুখোমুখি হয়। দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজে প্রথমটিতে হারলেও, দ্বিতীয়টিতে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশই। এরপর আর দুই দল টি২০তে পরস্পরের বিপক্ষে খেলেনি। ২ বছর পর আবারও দুই দল স্বল্প ওভারের ফরমেটে খেলবে।

ওয়ানডে, টেস্ট থেকে একেবারে ভিন্ন ফরমেট টি২০। দিনটিতে যে ভাল করবে, তারাই জিতবে। তবে টি২০তে বিশেষ একটি মুহূর্তই জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। তাই তো জিম্বাবুইয়ে অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরাকেও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। চিগুম্বুরা বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘ওয়ানডে সিরিজে হারা হতাশাজনক। তবে এখন তা অতীত হয়ে গেছে। এখন সামনে টি২০ খেলা। নতুন ফরমেট। আমরা সব ভুলে এখন আজকের ম্যাচটি নিয়েই ভাবছি। এ ফরমেটে আমরা কিছু করে দেখাতে চাই।’

সত্যিই কী তা করতে পারবে জিম্বাবুইয়ে। একদিকে বাংলাদেশ টানা তিন ওয়ানডেতে জিতেছে। জিম্বাবুইয়ের হতাশা সেখানেই ঘিরে ধরেছে। যতই জিম্বাবুইয়ানরা মুখে বলুক সব ভুলে গেছে। তা কী কোনভাবেই সম্ভব। আরেকদিকে বাংলাদেশ দলটি অনেক শক্তিশালী। যদিও দলটিতে নেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবুও যারা আছেন তারাই জিম্বাবুইয়েকে হারানোর জন্য যথেষ্ট। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেও গর্জেছে জিম্বাবুইয়ানদের কণ্ঠ। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। দলটি আবার অক্টোবরেই আফগানিস্তানের মতো দলের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে। এমন অবস্থায় জিম্বাবুইয়ের পক্ষে কী সম্ভব জয় তুলে নেয়া? আবার টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ যদিও সফল দল নয়। এরপরও ৪৪ ম্যাচে ১২টি জয় তুলে নিয়েছে। সেই তুলনায় জিম্বাবুইয়ে ৪০ ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র ৭ ম্যাচে। এখন দেখা যাক শেষপর্যন্ত কোন দল জিতে। প্রথম টি২০ দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজ। সিরিজেই বা কোন দল জিতে, সেদিকেও সবার নজর আছে।