১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রেফতার আতঙ্কে ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও ॥ বিগত সরকার বিরোধী আন্দোলনের পর মামলা-গ্রেফতার বন্ধ হলেও ফের জেলা জুড়ে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়েছে।

এতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাই বেশি গ্রেফতার হচ্ছে। ২০ দলীয় জোটের কোন কর্মসূচি নেই। তবুও নাশকতার অভিযোগ ও পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের। এতে করে দল পুনর্গঠন করে ঘুরে দাড়ানোর পথে থাকা বিএনপি বেকায়দায় পড়েছে।

কোথাও কোথাও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই চলছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান। গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরবাড়িতে থাকতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এখানে-সেখানে। আবার আদালতে আত্মসমর্পণের পরও পাঠানো হচ্ছে কারাগারে এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।

তারা জানায়, নতুন নির্বাচনের দাবিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালীন ঠাকুরগাঁও জেলা জুড়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ১ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। আন্দোলন থেমে যাওয়ার পরে কিছু দিন গ্রেফতার অভিযান কম থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে তার ব্যাপকতা লাভ করেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিএনপি এক নেতা বলেন, সম্প্রতি দল পুনর্গঠনে বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষণা আসার পরই সরকার তা বাধাগ্রস্ত করতে এই ধরপাকড় শুরু করেছে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হামলা-মামলা সরকারের পরিকল্পনারই অংশ। গত কয়েকদিন ধরে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা যাতে পুনর্গঠিত হতে না পারেন, সেই ভয়ে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দলের পুনর্গঠন কাজ চলছে। ফলে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বসবেন, পরামর্শ করবেন, সিদ্ধান্ত নেবেন এটিই স্বাভাবিক।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ- সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলায় আসামী করেছে কয়েক হাজার। বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ে কাউন্সিল ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রাক্কালে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের সরকার নতুন করে ধরপাকড় শুরু করেছে। দলের ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে।