১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের জয়োৎসব

বাংলাদেশের জয়োৎসব
  • প্রথম টি২০

মিথুন আশরাফ ॥ ওয়ানডেতে যেমনটি হয়েছে, টি২০তেও তাই হচ্ছে। জয়ের ধারাতেই আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জয়োৎসব চলছেই। ওয়ানডেতে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার পর দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচেও জিতেছে বাংলাদেশই। প্রথম টি২০তে শুক্রবার ৪ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে।

দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েও গেছে বাংলাদেশ। এখন রবিবার দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটিতে জিতলে স্বল্প ওভারের সিরিজেও জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। সাফল্য কানায় কানায় ভরে যাবে। জিম্বাবুইয়ে দেশে ফিরবে খালি হাতে।

জিম্বাবুইয়ে ১৩১ রান করেছে। ২০ ওভারও পুরো খেলতে পারেনি। ১৯.৩ ওভারে এ রান করতেই অলআউট হয়ে যায়। এর মধ্যে এক ম্যালকম ওয়ালারই করেছেন ৬৮ রান। মূলত এ এক ব্যাটসম্যানের জন্যই এতদূর যেতে পেরেছে জিম্বাবুইয়ে। কিন্তু দল খুব বেশিদূর যেতে পারেনি। ২ উইকেট করে নেয়া মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুস্তাফিজুর রহমান, জুবায়ের হোসেন লিখন, আল আমিন হোসেন যে তা করতে দেননি। এত কম রানে কী আর বাংলাদেশ বিপদে পড়তে পারে। কিন্তু পড়েনি। তামিম ইকবালের ৩১, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত ২২, সাব্বির রহমান রুম্মনের ১৮, লিটন কুমার দাসের ১৭, নাসির হোসেন ১৬ ও মাশরাফি বিন মর্তুজার অপরাজিত ১৫ রানের ইনিংসে ১৭.৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করেই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সফরে আসার আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে জিম্বাবুইয়ে। টি২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। এরপরও মনে হয়েছে যেহেতু ম্যাচটি টি২০, বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই ধরা দেবে। কিন্তু কোথায় সেই চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ তো হেসেখেলেই জিতল।

দলের ৬ রানের সময় এনামুল হক বিজয় (১) আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-সাব্বির জুটিতে ৩৯, চতুর্থ উইকেটে নাসির-তামিম জুটিতে ২৫, ষষ্ঠ উইকেটে লিটন-মাহমুদুল্লাহ জুটিতে ৩৮ ও সপ্তম উইকেটে মাশরাফি-মাহমুদুল্লাহ অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যে ১৮ রান আসে, সেখানেই বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। জিতেও যায়। একের পর এক জুটি হয় বাংলাদেশের। সেই তুলনায় জিম্বাবুইয়ে শুধু একটি বড় জুটিই পায়। তাতে করে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকে। ৮০ রানে অবশ্য সাব্বির, মুশফিক (২), নাসির ও তামিম আউটের পর কিছুটা বিপদ ঘনিয়ে আসতে থাকে। কিন্তু এরপর আর একটি উইকেটের পতনই ঘটে। সেটি ১১৮ রানে। লিটন আউট হন। দলের যখন জিততে ২৯ বলে ১৪ রান দরকার এমন সময় মাশরাফি ব্যাট হাতে নেমে ধুন্ধুমার ব্যাটিং করতে থাকেন। ছক্কা হাঁকিয়েই মাশরাফি খেলাও শেষ করেন। জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে টানা তিন ওয়ানডেতেই জিতে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ১৪৫ রানে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫৮ রানে ও তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬১ রানে জিতে। সেই জয় শক্তিতে পরিণত হয়ে টি২০তেও কাজে লাগে। এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা টি২০তে ১৯ মাস পর আবার প্রথম ওভারে বল করতে আসেন। প্রথম ওভারে আবার উইকেটও নেন। জিম্বাবুইয়ের অশুভ আরেকটি দিনও সেই সঙ্গে শুরু হয়ে যায়। এরপর এক এক করে ৩৮ রানের মধ্যেই ৪ উইকেটের পতন ঘটে জিম্বাবুইয়ের। নিজের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে আবার উইকেট শিকার করেন মাশরাফি। তখন প্রেসবক্সে রসিকতাও শুরু হয়ে যায়, আরেকটি ম্যাচ খেলা হয়ে যেতে পারে। মনে করা হচ্ছিল, ৮০ রানের মধ্যেই জিম্বাবুইয়ে গুটিয়ে যাবে। কিন্তু ওয়ালার এসেই দৃশ্যপট পাল্টে দেন।

এমনই অবস্থা দাঁড় হয়, ক্যারিয়ারের প্রথম টি২০ খেলতে নামা জুবায়ের হোসেন লিখনের প্রথম ওভারেই ১৭ রান নেন ওয়ালার। পরের ওভারে নাসিরের ৬ বলেও ২০ রান নিয়ে নেন। দ্রুতই স্কোরবোর্ডে রান যুক্ত হতে থাকে। যেখানে ৯ ওভারে ৩৯ রান থাকে, সেখান থেকে ১১ ওভারে গিয়ে স্কোরবোর্ডে ৭৬ রান যুক্ত হয়ে যায়। ওয়ালারের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে দ্রুতই ১০৫ রান হয়ে যায় জিম্বাবুইয়ের। পঞ্চম উইকেটে ওয়ালার-এরভিন মিলে ৬৭ রানের জুটিও গড়েন। এমন সময় জুটিটি ভাঙ্গেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আবার শুরু হয়ে যায় জিম্বাবুইয়ের উইকেট পড়ার ধুম। এরপর আর ২৬ রানই স্কোরবোর্ডে যুক্ত করতে পারে জিম্বাবুইয়ে। ১২২ রানে গিয়ে ওয়ালারও আউট হয়ে যান। মুস্তাফিজ এ মারমুখী ব্যাটসম্যানকে আউট করেন। আউট হওয়ার আগে ৩১ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৮ রান করেন ওয়ালার। সঙ্গে মাত্র ২০ বলে অর্ধশতক করে জিম্বাবুইয়ের হয়ে সবচেয়ে কম বলে অর্ধশতক করার রেকর্ড গড়েন ওয়ালার।

জিম্বাবুইয়ের ইনিংসে এ একজন ব্যাটসম্যানই কিছু করে দেখায়। তা না হলে পুরোটা ম্যাচেই বাংলাদেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। ম্যাচও জিতে নেয়। ওয়ানডের মতো টি২০তেও জয়োৎসব বজায় থাকে।