১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দু’দেশের স্বার্থে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন জরুরী

  • এশিয়াটিক সোসাইটির সেমিনার

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের স্বার্থেই উত্তর-পূর্বাঞ্চল রাজ্যগুলোর উন্নয়ন জরুরী। নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশেরই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত। এছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশ ব্যবহার করলে উভয় দেশই লাভবান হবে। শুক্রবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল: সুযোগ ও সম্ভাবনা’-শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এই সেমিনার আয়োজন করে এশিয়াটিক সোসাইটি। সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এ সময় বক্তব্য রাখেন এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আহমেদ এ জামাল ও সেমিনার আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক আকমল হোসেন। সেমিনারে বিভিন্ন পর্বে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে পারলে উভয় দেশই লাভবান হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের জন্যই উত্তর-পূর্বাঞ্চল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা বিবেচনায় উভয় দেশকেই এই অঞ্চলের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে এখানকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। সেজন্য বিসিআইএম গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিবিআইএনও চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে শীঘ্রই বাস সার্ভিস চালু হবে। এর ফলে চারটি দেশের মধ্যে বাস চলাচল করবে। ইতোমধ্যেই চারটি দেশের মধ্যে বিবিআইএন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বাস চলাচল শুরু হলে চারটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশে ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামাল এনে পণ্য তৈরি করে পুনরায় ওই অঞ্চলে রফতানি করা যেতে পারে। এটা উভয় দেশের জন্য উইন উইন পরিস্থিতির সৃৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গুয়াহাটিতে বাংলদেশের উপ-হাইকমিশন চালু করা হচ্ছে। আগরতলার ভিসা অফিসে সহকারী হাইকমিশন অফিসে উন্নীত করা হয়েছে। সেখানে খুব শীঘ্রই সহকারী হাইকমিশনার নিয়োগ দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভারত শুধু সীমান্তের কারণে বাংলাদেশের বড় প্রতিবেশী নয়। অর্থনৈতিক যোগাযোগ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদির জন্য ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী। ১৯৭১ সালের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আর উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের স্বার্থেই এই সম্পর্ক কাজে লাগাতে হবে।

সেমিনারে ‘পরিচয় প্রতিষ্ঠার রাজনীতি: বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ’-শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মহসিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পরিচয় গঠনের রাজনীতি প্রচলিত রয়েছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন গোষ্ঠী জাতিগত পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করে আসছে। এর ফলে দুই দেশেরই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এটা একটি জটিল সমীকরণ। নিরাপত্তার এই চ্যালেঞ্জ ইতোমধ্যেই দুই দেশকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

সেমিনারে ‘আসাম-বাংলা সীমান্তে ভাঙ্গা-গড়া তিন জেলা: ১৮৭৪-১৯৪৭’-শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ১৮৪৭ সালে আসাম, কাছাড়, গোয়ালপাড়া ও গারো পাহাড় নিয়ে আসাম প্রদেশ গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বাংলা ও আসামকে ভাঙ্গা-গড়া হয়। এই ভাঙ্গা-গড়া চলতে থাকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত। এর ফলে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব পড়ে। সেই প্রভাব থেকে এখনও এই অঞ্চলের মানুষ মুক্ত হতে পারেনি।

সেমিনারে কোলকাতার বঙ্কিম চন্দ্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. অনিন্দিতা ঘোষাল ‘ত্রিপুরা: গৃহ থেকে সীমান্ত ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি বলেন, দেশভাগের আগে ত্রিপুরায় রাজার শাসন ছিল। তবে দেশভাগের পর ত্রিপুরার ভূ-রাজনীতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়। ত্রিপুরায় তখন অন্যান্য অঞ্চল থেকে লোকজন এসে বসতি শুরু করেন। তবে যারাই সেখানে প্রথমে বসতি শুরু করেন, সেখানে তাদের বসবাসের অধিকারের জন্য লড়াই করতে হয়েছে।

সেমিনারের বিভিন্ন পর্বে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ভারতের নর্থ-ইস্টার্ন হিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ মহাপাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান, বিআইডিএস’র মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদ প্রমুখ। দুই দিনব্যাপী সেমিনার শনিবার শেষ হবে।

নির্বাচিত সংবাদ