২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভক্ত অনুরাগীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস শ্রদ্ধা ভালবাসায় হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদ্যাপন

ভক্ত অনুরাগীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস শ্রদ্ধা ভালবাসায় হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদ্যাপন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জন্মদিনে ব্যক্তিগতভাবে আড়ম্বর কিংবা আনুষ্ঠানিকতা পছন্দ করতেন না হুমায়ূন আহমেদ। তবে শুভানুধ্যায়ী, সুহৃদ ও স্বজনের ভালবাসায় শেষ পর্যন্ত লেখকের জন্মদিনটি ঠিকই হয়ে উঠতো আনন্দময়। অনানুষ্ঠানিক জন্মদিনটিও হয়ে যেত আনুষ্ঠানিকতাপূর্ণ। বাংলাদেশ ও বাংলা সাহিত্যের এই জনপ্রিয় ও জননন্দিত লেখক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকারের ৬৭তম জন্মদিন ছিল শুক্রবার। অজানা ভুবনে পাড়ি দেয়া এই শিল্পস্রষ্টা না থাকলেও তার জন্মদিন ঘিরে ছিল নানা আয়োজন। হুমায়ূনের বইয়ের প্রকাশক, পাঠক, অনুরাগী, বন্ধু ও সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও শ্রদ্ধা-ভালবাসায় উদ্যাপিত হলো তার জন্মদিন। তিনি যেমন অবিরাম সৃষ্টি দিয়ে মানুষকে বিনোদিত করেছেন, এটা যেন ছিল তারই প্রতিদান।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১মিনিটে প্রতিছরের মতো এবারও ধানম-ির দখিন হাওয়ায় লেখকের বসার ঘরের টেবিলে রাখা ছিল জন্মদিনের কেক। সেই কেক কেটেছেন লেখকের সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন এবং দুই পুত্র নিষাদ ও নিনিত। এ সময় কথাশিল্পী পূরবী বসু, প্রকাশক আলমগীর রহমান, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী এসআই টুটুল, ইবনে হাসান খান, সাজু খাদেমসহ হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন।

হমায়ূনের প্রিয় প্রাঙ্গণ গাজীপুরের পিরুজালীর নুহাশপল্লীতেও ছিল নানা আয়োজন। জননন্দিত এ কথাশিল্পীর পিত্রালয় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর ও জš§স্থ’ান মোহনগঞ্জেও ছিল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এসব আয়োজনে সকাল থেকে রাত অবধি ছিল ভক্তদের পদচারণা।

সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের খোলা প্রাঙ্গণে ১৫টি প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে প্রয়াত কথাশিল্পীর ৬৭তম জš§দিন উপলক্ষে হুমায়ূন আহমেদের একক বইমেলার উ™ে^াধন হয় হেমন্তের বিকেলে। যদিও আনুষ্ঠানিক উ™ে^াধনের আগেই দুপুর থেকে পাঠককুল ভিড় জমাতে শুরু করেন। ছুটির দিন হওয়ার মেলা ছিল নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর। ৬৭টি বর্ণিল বেলুন আকাশে অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে নয় দিনে হুমায়ূন আহমেদ বইমেলার উ™ে^াধন করেন তার অনুজ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় মেহের আফরোজ শাওন, সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী, কথাশিল্পী জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতীক ও অবসর প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী আলমগীর রহমান, অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, কাকলী প্রকাশনীর একেএম নাছির আহমেদ সেলিম, অনুপম প্রকাশনীর মিলন নাথ, অন্বেষা প্রকাশনের শাহাদাৎ হোসেনসহ অনেকে। মেলা উ™ে^াধনের পর অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত সালেহ চৌধুরী সম্পাদিত ‘শিশু-কিশোর হুমায়ূন রচনাবলী-২’ এর মোড়ক উšে§াচন করা হয়। মেলায় অংশ নিচ্ছেÑ অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, অনুপম প্রকাশনী, অন্বেষা, অবসর, কাকলী প্রকাশনী, জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, প্রতীক ও অবসর প্রকাশনা সংস্থা, বাংলাপ্রকাশ, সুবর্ণ, পার্ল পাবলিকেশন্স, মাওলা ব্রাদার্স, শিখা প্রকাশনী, সময় প্রকাশন ও সাগর পাবলিশার্স। ৯ দিনব্যাপী এই বইমেলা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

চ্যানেল আইতে হুমায়ূন মেলা ॥ বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল আই হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনকে ‘হিমু দিবস’ ঘোষণা করে আয়োজন করে ‘হুমায়ূন মেলা’। শুক্রবার সকাল ১০টায় এ মেলার উদ্বোধন হয়। হুমায়ূন মেলায় ছিল তার ভক্তদের পদচারণা। সঙ্গীত, নৃত্য ও স্মৃতিচারণার পাশাপাশি ছোট ছোট স্টলে সাজানো ছিল নানা পসরা। হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় চরিত্র হিমুর পছন্দের পোশাক হলুদ পাঞ্জাবি পরে দল বেঁধে মেলায় আসে তরুণরা। তরুণীদের পরনে ছিল হলুদ রঙের শাড়ি। ৬৭টি হলুদ রঙের বেলুন উড়িয়ে শুরু হয় মেলার আনুষ্ঠানিকতা। উ™ে^াধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেনÑ চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। তিনি বলেন, হিমু মেলায় আজ যারা উপস্থি’ত হয়েছেন তারা প্রত্যেকে নিজেকে হিমু মনে করেন। হুমায়ূন আহমেদ আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তার চরিত্র হিমু আমাদের মাঝে বেঁচে আছে; বেঁচে থাকবে।’ হিমু মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবি ব্যাংকের ব্যবস্থ’াপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, হুমায়ূন আহমেদের জš§দিনে হিমু মেলার আয়োজনে এবি ব্যাংক সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্বিত। ভবিষ্যতে এবি ব্যাংক চ্যানেল আইয়ের এমন মহৎ আয়োজনে অংশীদার হতে চায়।

মেলায় হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্রের গান নিয়ে খুদে গানরাজ ও সেরাকণ্ঠ শিল্পীদের কণ্ঠে অন্য হুমায়ূনের ডিভিডি এবং অবসর থেকে প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উšে§াচন করা হয়।

নুহাশ পল্লীতে ম্যুরাল উন্মোচন ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা গাজীপুর থেকে জানান, নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পিরুজালী গ্রামের নুহাশ পল্লীতে শুক্রবার জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক, লেখক ও নাট্যকার হুমায়ুন আহমেদের ৬৭তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে। এবারের জন্ম দিনে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের প্রতিকৃতির ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়েছে। হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবী জানিয়েছে হুমায়ুনের পরিবার ও ভক্তরা।

বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা ১মিনিটে নুহাশ পল্লীর সকল স্থাপনায় ৩৬০টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করার মধ্য দিয়ে জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এদিনটি উদযাপন করছে হুমায়ুনের পরিবার সদস্য, ভক্ত ও নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা কর্মচারীরা। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে নিশাদ-নিনিতকে নিয়ে শাওন নুহাশ পল্লীতে আসেন। পরে ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে শাওন প্রয়াত হুমায়ুন আহমদের কবর জিয়ারত ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এসময় হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া নুহাশ পল্লীতে এবারের জন্ম দিনে উন্মোচন করা হয় তাঁর প্রতিকৃতির ম্যুরাল। হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যুরালটি উদ্বোধন করেন। পরে তিনি হুমায়ুন আহমদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন এবং জন্ম দিনের কেক কাটেন। এ সময় হুমায়ুন আহমেদের দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত এবং কন্ঠ শিল্পী এস আই টুটুল তার সঙ্গে ছিলেন। এছাড়াও নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে কেক কাটা হয়। জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকার বাসায় মোমবাতি জ্বালিয়ে কেক কাটা হয়।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, আমি প্রতিদিন যেভাবে ভাবি আজকেও সেভাবেই ভাবছি। বিখ্যাত মানুষ গুলোর ক্ষেত্রে যা হয়, জন্ম দিন মৃত্যু দিন, বিশেষ দিনগুলোতে খবর গুলো আমরা পাই। আমরা তার খোঁজ করি, পরিবার পরিজনদের সঙ্গে কথা বলি। পরিবারের লোকজন কিন্তু প্রতিটা মূহুর্তেই তাকে স্বরণ করে। আমিও প্রতিটি মূহুর্তে প্রতিটি নি:শ্বাসে হুমায়ুন আহমেদকে যেভাবে স্বরণ করি আজকেও সেভাবে স্বরণ করছি। হুমায়ুন আহমদের জন্মদিনটি উদাপন করতে ভাল লাগে। বাংলাদেশের এমনকি পৃথিবীর আনাচে কানাচে যেখানে বাংলা ভাষাভাষির মানুষ আছেন তারও ছোট্র করে হলেও হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিনটা উদযাপন করে। এ উদযাপনটা দেখতে আমার ভাল লাগে। এ উদযাপনের খবর যখন পাই, ছবি দেখি। আমার খুব ভাল লাগে।

তিনি বলেন, আমি মানতেই পারি না যখন কোন অনুষ্ঠানে বলা হয় আজ ‘প্রয়াত’ হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন। সাহিত্যিক, চিত্র শিল্পী, কবি এ ধরণের মহান মানুষ কখনো প্রয়াত হন না। আমি চাই না ‘প্রয়াত’ হুমায়ুন আহমেদ কথাটা বলা হউক। তিনি বলেন, আমি চাই রাষ্ট্রীয়ভাবে হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন পালন হউক।