২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মধ্যযুগীয় বর্বরতা!

রীতিমতো আঁৎকে ওঠার মতো খবর। পাষ- স্বামী ছুরি দিয়ে স্ত্রীর দু’চোখ খুঁচিয়ে অন্ধ করে দিয়েছে। ঘটনাস্থল টঙ্গীর জামাইবাজার এলাকা। স্ত্রীর নাম শিউলী আক্তার, স্বামীর জুয়েল হাসান। ২০০৯ সালে শিউলীর প্রথম স্বামী খুন হলে সে বিয়ে করে চাচাত ভাই জুয়েলকে। প্রথম পক্ষে শিউলীর এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। জুয়েল টঙ্গীতে ইট-বালুর ব্যবসা করলেও ছিল মাদকাসক্ত, সন্দেহপ্রবণ। বিয়ের পর শিউলী জানতে পারেন, স্বামী ইয়াবাসহ প্রায় সব রকম মাদকেই আসক্ত। অতঃপর ঘটনার গতি যেদিকে যায়, ধাবিত হলো সেদিকেই। নিয়মিত নেশার টাকার জন্য শিউলীকে প্রতিনিয়ত মারধর করত জুয়েল। এক পর্যায়ে চাপ দেয় আগের স্বামীর কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে নেশার টাকা এনে দেয়ার জন্য। শিউলী এতে রাজি না হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসায় এসে চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে ফেলে শিউলীর দু’চোখ। এতেও ক্ষান্ত হয়নি জুয়েল। আহত ও রক্তাক্ত শিউলীকে ভেতরে রেখে দরজায় তালা মেরে পালিয়ে যায় সে। পরে এক পর্যায়ে প্রতিবেশীরা শিউলীকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা বলেছেন, মানুষ যে কত বর্বর, নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক হতে পারে তা শিউলীর দু’চোখের অবস্থা দেখে অনুমান করা চলে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রুমানা মঞ্জুরের কথা। এক্ষেত্রে রুমানার স্বামীও দু’চোখ অন্ধ করে দিয়েছিল রুমানার।

শিউলী আক্তারের ভবিষ্যত এখন অন্ধকার। নারী নির্যাতন প্রায় যেন নিত্যদিনের ঘটনা। ঘরে-বাইরে প্রতিদিনই নারী নানাভাবে, নানা উপায়ে নির্যাতিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে নারীর পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের ঘটনাও কম নয়। সাম্প্রতিককালে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। দু’একটি ক্ষেত্রে দ্রুত বিচারসহ অপরাধীদের শাস্তি হলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে বিচারে বিলম্ব হচ্ছে নানা কারণে। আসামিরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে, ধরা পড়লেও কেউ কেউ বেরিয়ে যাচ্ছে জামিনে।

গত কয়েক বছরে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন যে অনেক বেড়েছে তা পরিষ্কার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নারীর অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি প্রশংসিত। এরপরও নানা ক্ষেত্রে নারী এখনও অবহেলিত, ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার সর্বোপরি একশ্রেণীর পুরুষের কূপম-ূক মানসিকতা নারী উন্নয়ন ও অগ্রগতির হ্রাস টেনে ধরতে চাইছে। নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার যথাসম্ভব দ্রুত বিচারসহ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। অপরাধের শাস্তি সুনিশ্চিত করা গেলে সমাজে কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রেরও সবিশেষ দায় ও করণীয় রয়েছে। শিউলী আক্তারের ক্ষেত্রেও অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা দরকার।