২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাবধান জঙ্গীরা আবারও হামলা চালাতে পারে

রাজধানীতে একই দিনে একজন প্রকাশককে কুপিয়ে হত্যা এবং অন্য আরেকজন প্রকাশকসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক মুক্তমনাদের হত্যা করা হচ্ছে। ব্লগার হত্যার পর এবার প্রকাশকদের হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর বিবৃতিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তাদের এ হত্যাকা- নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা মুক্তচিন্তাকে সহ্য করতে পারছে না আর এ কারণে তারা বেছে বেছে মুক্তবুদ্ধির মানুষজনদের হত্যা করছে। আক্রমণ করছে।

ধর্মানুগোষ্ঠীর হাতে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন সিলেটে অনন্ত বিজয় দাশ, রাজধানীতে একুশের বইমেলা থেকে ফেরার পথে অভিজিত রায়, তেজগাঁয়ে ওয়াশিকুর রহমান বাবু, পল্লবীতে ব্লগার রাজীব হায়দার, বুয়েটের ছাত্র আরিফ রায়হান দ্বীপ নির্মম হত্যার শিকার হন। খিলগাঁওয়ে বাসায় ঢুকে নীলাদ্রি চ্যাটার্জী ওরফে নিলয় নীল (৪০) নামে এক ব্লগারকে দিনে-দুপুরে চাপাতি দিয়ে হত্যা করে জঙ্গীরা। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর শনিবার শাহবাগে জাগৃতি প্রকাশনার ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে জঙ্গীরা। এছাড়া মুক্তচিন্তার লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লেখক ড. হুমায়ূন আজাদ, মাওলানা নরুল ইসলাম ফারুকী, মধ্যবাড্ডায় সাবেক পিডিবির চেয়ারম্যান খিজির খান, গোপীবাগের কথিত পীর লুৎফর রহমানসহ ৬ জন, রাজধানীর উত্তরার দলছুট সদস্য রাশিদুল ইসলাম, খালিশপুরে বাবা-ছেলে, সাভারে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যা করা হয়।

এর আগে মহরমের দিন শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলে গ্রেনেড ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গ্রেনেড হামলায় দু’জন নিহত এবং আহত হন শতাধিক। কিছুদিন আগে ফাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কামরাঙ্গীর চরে উদ্ধারকৃত বোমার সঙ্গে তাজিয়া মিছিলে ছোড়া বোমার সাদৃশ্য আছে। অন্যকিছু ঘটনায় ব্যবহৃত গ্রেনেডের সঙ্গে তাজিয়া মিছিলে ছোড়া গ্রেনেডের একটি সাদৃশ্যও নাকি রয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় নিলে বলা যায় একটি ঠা-া মাথার উগ্র মৌলবাদীচক্র পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের নৃশংসতা ঘটিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক কোন সম্প্রদায়ের ইন্ধনে এরা এদেশে এ রকম বোমা হামলা চালাচ্ছে কিনা তারও অনুসন্ধানও দরকার। কয়েকদিন আগে যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পেতে রিভিউ পিটিশন করে। তার এই রিভিউ পিটিশনে সাক্ষী দিয়ে সাকাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ঢাকা আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানী কিছু নাগরিক। এখানে একটি প্রশ্ন জাগে, ‘৭১-এর বিষয় নিয়ে কোন সাহসে পাকিস্তানী নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে ‘৭১-এর অপকর্মকারীকে রক্ষা করতে চায়?

আবর বিশ্বের আইএস এবং আফ্রিকার বোকো হারাম হলো পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর বাজার দখল প্রক্রিয়ার একটি প্রডাক্ট। কারণ ওইসব অঞ্চলে পুঁজিবাদীরা বাজার দখল করতে গিয়ে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার শিখায় আজ সেই শেখানোর ফল ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ’৭৫-এর পর যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মকে প্রাধান্য দেয়া হয় তখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি প্রকাশ্যে রাজনীতিতে চলে আসে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার শুরু করে। জনসমর্থন পাওয়ার জন্য মূল রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বাদ দিতে হবে। তাহলে আর ওই মৌলবাদীরা কারও কোলে আশ্রয় নিতে পারবে না।

অশোক কুমার সাহা

কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

বিকল্প নেই

দেশে এখন অনেক মায়েরা নিজের বুকের দুধ পান করার পরিবর্তে বাজারে কৃত্রিম দুধ পান করান নিজের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার জন্য। এতে লাভের চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। ভবিষ্যত জীবন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে শিশুর। মায়ের দুধ হচ্ছে শিশুর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট খাবার এবং পানীয়। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ মায়ের দ্রুত আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই। অপুষ্টির কারণে প্রতিদিন দেশে অনুর্ধ পাঁচ বছর বয়সী ২০০ শিশু মারা যাচ্ছে।

জন্মের প্রথম ঘণ্টায় প্রথম ছয় মাস এবং প্রথম দুই বছর মায়ের দুধ পান করলে শিশু মৃত্যুর হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় এবং শিশু সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ঘণ্টায় শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ালে বছরে ২৭ হাজার নবজাতকের প্রাণ রক্ষা করা যায়।

গত ১০ বছরে মৃত্যুর হার কমেনি। এর কারণ হচ্ছে, এই সময় বুকের দুধ খাওয়ানোর হারও কমেনি। জন্মের প্রথম ঘণ্টায় মায়ের দুধ পান করালে ৬০ শতাংশ সংক্রমণ হ্রাস পেতে পারে। অথচ এ ধারণা আমাদের দেশের অশিক্ষিত মায়েদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

শিক্ষিত মায়েরাও ভুল করে থাকে। দুর্দশা পোহাতে হয় নিষ্পাপ শিশুকে। ২০০১ সালে ৫৪তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে শিশুদের জন্মের প্রথম ৬ মাস শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতর এই বিষয়ে যথেষ্ট ভূমিকা নিলেও অধিকাংশ মা আজও এ ব্যাপারে অসচেতন। বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ শিশু মায়ের দুধ পান করতে না পারায় অকালে প্রাণ হারায়।

অমিত বণিক

আইসিডিডিআরবি, টেকনাফ

মাশরুম

একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ২০০-২৫০ গ্রাম সবজি খাওয়া উচিত। উন্নত দেশের মানুষজন প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ গ্রাম সবজি খায়। যে দেশ যত বেশি উন্নত সে দেশ ততবেশি সবজি খায়। কারণ সবজি দেহকে সুস্থ, সবল, রোগমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্য উপাদান ও রোগ প্রতিরোধক ভিটামিন এবং মিনারেল। আমরা প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ গ্রাম (আলু বাদে) সবজি খাচ্ছি। প্রয়োজন ও প্রাপ্তির এই ব্যবধানের কারণে আমাদের দেশের শতকরা ৮৭% লোক অপুষ্টিজনিত রোগে ভোগেন। এ অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে পুষ্টিকর সবজি খাওয়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে, আর অধিক পরিমাণে সবজি খেতে হলে অধিক পরিমাণ সবজি উৎপাদন করতে হবে।

আবুল বাশার মিরাজ

ময়মনসিংহ

স্মৃতির শহর ঢাকা

বাংলার বারো ভূঁইয়াদের বিদ্রোহ দমনে মোগল সেনাপতি মানসিংহ বাংলায় আসেন ১৬০২ সালে। তিনি বাংলায় এসে ঢাকায় দুর্গ বানিয়ে তার সদর দফতর ভাওয়াল থেকে সরিয়ে স্থানান্তর করলেন। সেই দুর্গের চারপাশে গড়ে উঠেছিল বড় এক বাজার। মানসিংহ এই দুর্গ নির্মাণের এক শ’ বছর পর ১৭০২ সালে মুর্শিদ কুলি খাঁ এই বাজারটির নাম বদলে ‘পাদোশা’ বা ‘বাদশাহী বাজার’ রাখেন। প্রখ্যাত চার্লস ড’য়লি এই বাজার সম্বন্ধে লিখেছেন, “বাজারটি আগে ‘নাখাস’ নামে পরিচিত ছিল। এটি ছিল নিচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ২শ’ ফুটের একটি চৌকোনা চত্বর। আরবিতে ‘নাখাস’ কথাটির অর্থ দাস-বিক্রেতা।” চার্লস ড’য়লির লেখার সূত্র ধরে পরবর্র্তীতে ইতিহাসবিদরা এ নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেসব গবেষণা থেকে এই সত্যটি বেরিয়ে এসেছে যে, সে সময়ে ‘নাখাস’ কিংবা ‘পাদোশা’ কিংবা ‘বাদশাহী বাজারে’ দাস কেনা-বেচা হতো।

মুর্শিদ কুলি খাঁর জামাতা দ্বিতীয় মুর্শিদ খুলি খাঁ ১৭৩৩-৩৪ সালে বাজারটি সংস্কার করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, সে সময় থেকে ‘পাদোশা’ কিংবা ‘বাদশাহী বাজার’ একটি পূর্ণাঙ্গ বাজার হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে এই বাজারের নাম বদলে হয়ে যায় চকবাজার। আঠারো শতকেও চকবাজারের জৌলুস ও ঐতিহ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। চার্লস ড’য়লি তুলিতে সে সময়ের চকবাজারের স্বর্ণালী বিভা ধরা পড়ে। সময়ের পরিবর্তনে চকবাজারের জৌলুস কমে যায়। তবে এখনও চকবাজার তার পুরনো সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

হাজী মোখলেস

লালবাগ, ঢাকা

নির্বাচিত সংবাদ