২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাহজালালে অবৈধ স্থাপনা বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন ও আশপাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরে নিñিদ্র নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে গজিয়ে ওঠা বেশকিছু দোকানপাট ও অস্থায়ী ছাউনি।

জানা যায়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টসংলগ্ন এবং কার্গো কারপার্কের চারদিকসহ আশপাশের প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত প্রায় ২০০ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। ডেপুটি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানের আগে গত ২৪ আগস্ট অবৈধ দখলদারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখল ছেড়ে দেয়ার নোটিস প্রদান করা হয়। এজন্য পর পর তিন দিন মাইকিংও করা হয়। কিন্তুুু তাতেও অবৈধ দখলদাররা জায়গা না ছাড়ায় বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

জানা যায়, শুধু অবৈধ দোকান বা স্থাপনা ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিলবোর্ডও উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সিভিল এ্যাভিয়েশন। এমনকি বৈধ বিলবোর্ড যেগুলো নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ সেগুলোও উচ্ছেদ করা হবে।

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ জানান, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টসংলগ্ন ও কার্গো কারপার্কের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণসহ আশপাশ এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত দোকানপাট স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করা হয়েছে। আরও যেসব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হবে সেগুলোও উচ্ছেদ করা হবে।

সিভিল এ্যাভিয়েশন সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের প্রবেশমুখসহ ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও চোখে পড়ার মতো অবৈধ বিলবোর্ড রয়েছে। প্রভাবশালীদের চাপের মুখে এসব বিলবোর্ডের জন্য স্থান বরাদ্দ দেয়া হয় কোন ধরনের দরপত্র ছাড়াই। সিভিল এ্যাভিয়েশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জনকণ্ঠকে জানান, অবৈধ দোকান ও বিলবোর্ড সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে, যাতে কোন বিতর্ক দেখা না দেয়।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে ভেতর পর্যন্ত যেভাবে বিলবোর্ড আর নিয়ন সাইন স্থাপন করা হয়েছে তা নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এসব বিলবোর্ডের রক্ষণাবেক্ষণ করতে আসা লোকজন যদি কাজের অজুহাতে কোন ধরনের নাশকতায় জড়িয়ে যায় সেটা প্রতিরোধ করাটা কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব এগুলো সরিয়ে নেয়াই নিরাপদ।

ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ জনকণ্ঠকে বলেন, শুধু বাইরে নয়, বিমানবন্দরের ভেতরেও যদি কোন বৈধ দোকানের মেয়াদ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে সেগুলোও উচ্ছেদ করা হবে। কারণ এগুলোর আড়ালে যদি কিছু ঘটে যায় তখন এর দায়দায়িত্ব কেউ নিতে চাইবে না। মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।