২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাবা-মার হাত ধরে ছোট্ট শিশুও আসে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভবন নির্মাণে অনুদান দিতে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাদুঘর কর্র্র্তৃপক্ষ। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বলেও তাদের প্রত্যাশা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নতুন ভবনে ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নির্মাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণ’ অনুষ্ঠানে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় শিশুসন্তান সার্বণী মুখর পউষকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন সব্যসাচী হাজরা ও তানুজা ভট্টাচার্য্য। উদ্দেশ্য একটাইÑ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টিদের হাতে প্রতীকী ইট ক্রয়ের অনুদান তুলে দেবেন। ফুটফুটে শিশুটি বাবা সব্যসাচীর হাত ধরে ট্রাস্টিদের হাতে তুলে দেয় অনুদানের চেক। মঞ্চের সামনে দর্শকসারিতে বসে থাকা প্রতিটি হাতের করতালি যেন থামার নয়; চলতেই থাকল। বাবার হাত ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকল শিশুটি। শুধু সার্বণী মুখর পউষ নয়, এমন অনেক শিশুকেই দেখা গেল বাবা-মায়ের হাত ধরে জাদুঘর নির্মাণের অনুদান তুলে দিচ্ছে। দিনটিতে তরুণ-প্রবীণ প্রজন্মের সঙ্গে আগামীর ভবিষ্যত শিশুদের মধ্যেও ছড়িয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যে শিশুরা বাবা-মায়ের হাত ধরে অনুদান প্রদান করেছে তাদের মধ্যে ’৭১-এর চেতনা ছড়িয়ে পড়ল। এরাই আমাদের ভবিষ্যত। এদের কল্যাণে সহস্র বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুণœ থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, কে কত টাকা দিয়েছে তা কিন্তু মুখ্য নয়। অনুদান প্রদানে কত মানুষ অংশগ্রহণ করেছে সেটাই আমাদের কাছে মুখ্য। আমরা চেয়েছি সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করুক। আমরা চেয়েছি অনুদান প্রদানের মাধ্যমে সবার মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক। সাড়াও পেয়েছি আশানুরূপ।

বক্তারা বলেন, সেগুনবাগিচার তুলনায় নতুন ভবনটি ৮০ গুণ বড়। এখন পর্যন্ত অনেকেই অনুদান প্রদান করেছেন। আমরা প্রথম ৭১ জনকে সংবর্ধনা দিচ্ছি। জাদুঘর নির্মাণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পৃথক অনুদান প্রদান করবে। আলাদা এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা গ্রহণ করা হবে। ১০ হাজার টাকা দিয়ে যারা প্রতীকী ইট ক্রয় করেছেন তাদের অবদান আমাদের কাছে অনেক।

আবু মুসা মোঃ হাসান প্রতীকী ইট ক্রয়ের টাকা সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবন নির্মাণে অংশগ্রহণ করতে পারায় আমি গর্বিত। সত্যিই এ আনন্দ অন্যরকম আবেগের। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ১৯৯৬ সালে অনেক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। যে লক্ষ্যে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম আজ এ ভবনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে আমাদের যাত্রা পরিপূর্ণ হয়েছে। তখন আমরা কেউ ভাবতে পারিনি এমন একটি স্থাপনায় দাঁড়িয়ে এমন অনুষ্ঠান করতে পারব। আজকের তরুণ প্রজন্ম হৃদয় থেকে বুঝতে পারছে এটা আমাদের জাদুঘর, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ইট, কনক্রিট দিয়ে জাদুঘর তৈরি হচ্ছে, কিন্তু এ জাদুঘরের ভেতরের আত্মা হচ্ছে সাধারণ মানুষের। মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। আজ সকলের সাহায্য সহযোগিতায় নতুন এ ভবন নির্মাণ প্রায় শেষের পথে। আশা করি সব সময় এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন তারেক আলী, ট্রাস্টি ড. সরোয়ার আলী।