২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে গ্রেফতার এড়াতে শিবির ক্যাডারদের বেশভুষার পরিবর্তন

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ শিবির ক্যাডার চেনা দায়। এমন উক্তি সিএমপির এক উর্ধতন কর্মকর্তার। কারণ বিভিন্ন অভিযানে শিবির ক্যাডার গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ বিব্রত অবস্থায় পড়ে। এর পেছনে রয়েছে বাবা সরকারদলীয়, ভাইয়েরা জামায়াতের একনিষ্ঠ কর্মী আবার একই পরিবারে ছাত্রলীগেরও ছত্রছায়া রয়েছে এমন পরিচয়ও মেলে গ্রেফতারের পর। সম্প্রতি শিবির ক্যাডাররা তাদের বেশভুষায় পরিবর্তন এনে নিজেদের আড়ালে রাখার চেষ্টা করছে।

এদিকে, বছর খানেক ধরে নগরীর ১৬টি থানা এলাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া জামায়াত শিবির কর্মীদের ছাড়াতে সরকারদলীয়দের অপতৎপরতার বিষয়টি উল্লেখ্য। পারিবারিক অথবা আত্মীয়স্বজনকে সরকারদলীয় পরিচয় দিয়ে থানা থেকে জামায়াত শিবিরকে ছাড়াতে আসার ঘটনা অহরহ ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিদের ফুটেজ অথবা ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করলেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় সরকারদলীয় কিছু নেতার ভূমিকার কারণে।

জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ দিনের নাশকতার ঘটনায় চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলা ও নগরীর ১৬টি থানায় প্রায় অর্ধশত মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। কিন্তু গ্রেফতারের কোটা শতকরা ৫ ভাগও নয়। এর কারণ হিসেবে পুলিশ চিহ্নিত করছে সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের অপতৎপরতাকে। কারণ, গ্রেফতার হলেই পুলিশের ওপর প্রভাব ফেলতে থাকে এসব নেতা। রাজনৈতিক আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে জামায়াত-শিবিরপন্থী আত্মীয়কে রক্ষায় উঠেপড়ে লাগে। এতে বিব্রত অবস্থায় পড়ে পুলিশ। এ ব্যাপারে বাকলিয়া থানার ওসি জানান, শিবিরকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে বেশভুষায় পরিবর্তন করছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকের সময় গ্রেফতার করার পর পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ ও পরিচয়ের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের মিল না থাকায় পুলিশকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। বিএড কলেজ এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃতরা শিবিরের একনিষ্ঠ হলেও পারিবারিক পরিচয় ভিন্ন।