২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাব্য সঙ্কটে ফেরি চলাচলে ঝুঁকি

  • শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুট

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে আবারও নাব্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অব্যাহত পানি হ্রাসের কারণে এই সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই এখন ফেরি চলছে ঝুঁকি নিয়ে।

এতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিমুলিয়া ঘাটের কাছে এ্যাপ্রোচ নৌরুট ও বেসিন এলাকা এবং মাগুরখ- হতে হাজারা চ্যানেল প্রায় ৩শ’ মিটার এলাকাজুড়ে নাব্য সঙ্কট প্রকট রূপ নিয়েছে। ড্রেজিং অব্যাহত থাকলেও ক্রমাগত পানি হ্রাসের কারণে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। তাই সঙ্কট থেকেই যাচ্ছে। এতে করে ফেরি চলছে পদ্মার তলদেশ ঘেঁষে ঝুঁকি নিয়ে।

বিআইডব্লিটিসির মাওয়াস্থ সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোঃ খালেদ নেওয়াজ জানান, ফেরি চলছে ঝুঁকি নিয়ে। পানি স্বল্পতার কারণে ফেরিগুলো ঘাটে ভিড়তে গিয়ে নদীর তলদেশে ঠেকে যাচ্ছে। এতে ফেরির প্রপেলারসহ ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র দেয়া পানির হিসাবের সঙ্গে কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দেয়া পানির হিসাবে ফেরিগুলো নদীতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলার কথা। কিন্তু ফেরিগুলো চলতে গিয়ে নদীর তলদেশ ঘেঁষে ঘেঁষে পদ্মা পারি দিচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার একেএম শাহজাহান জানান, প্রতিদিনই ৬-৭ সেন্টিমিটার করে পানি হ্রাস পাচ্ছে পদ্মা নদীতে। বেসিন ও এপ্রোচ এলাকায় মাত্র ২টি ড্রেজার কাজ করছে। ১২০ ফুট প্রশস্ত এই এলাকায় প্রথম ধাপের ড্রেজিং বা এক পাশে জ্রেজিংয়ের সময় অপর পাশ দিয়ে ফেরি চলতে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে ফেরিগুলোকে। কারণ পদ্মার পানি ক্রমাগত কমতে থাকায় এক পাশ ড্রেজিংয়ের সময় অপর পাশ নাব্য সঙ্কট আরও বেশি করে দেখা দিচ্ছে। ফলে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১৬টি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনসহ দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন শিমুলিয়া ৩নং রো রো ঘাটের সামনে ডুবোচরে আটকা পড়ে। পানি হ্রাসের কারণে এ পয়েন্টে ফেরিটি আটকে গেলেও এক পর্যায়ে ৬ ঘণ্টা পর ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ টাগ আইটি-৩৯৫ দিয়ে ফেরিটি টেনে উদ্ধার করে মাওয়া বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। এ সময় ডুবোচরে আটকে থেকে শত শত যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। বিআইডব্লিউটিএ’র দুটি ড্রেজার গত ঈদ-উল-আযাহার পর হতে বেসিন এলাকায় পলি অপসারণ কাজ চলমান ছিল। তবে তা ধীরগতিতে হওয়ায় চলতি শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই ফেরি চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ পদ্মায় একদিকে পানি হ্রাস অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে ৩টি ফেরিঘাটের পন্টুনের মুখেই ড্রেজিং ও ড্রেজিংয়ের সরঞ্জাম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচলসহ ফেরি পারাপার। এতে করে দ্রুতগতিতে ড্রেজিং কাজ শেষ করা না হলে যে কোন মুহূর্তে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) সুলতান আহমেদ খান জানিয়েছেন, জুলাই মাস থেকে এ সময় পর্যন্ত নৌরুটের পদ্মায় প্রায় ১০ ফুট পানি হ্রাস পেয়েছে। আমারা পানির হ্রাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ড্রেজিং করে চলেছি। ৭-৮ দিনের মধ্যে শিমুলিয়া ঘাটের বেসিন এলাকায় ড্রেজিং শেষ হবে। আর এ মাসের মধ্যে এপ্রোচ এলাকার নৌরুটের ড্রেজিং শেষ হবে বলে তিনি দাবি করেন। ধীরগতির কাজের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, ড্রেজিং মেশিনের সমস্যা হলে তা মেরামতে একটু সময় লাগতেই পারে। তাছাড়া একপাশ দিয়ে ফেরি সচল রেখে কাজ করায় ড্রেজিংয়ে কিছুটা দেরি হতেই পারে।