১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে পুলিশের ভুলে ফেঁসে যাচ্ছেন গৃহশিক্ষক

  • সংঘর্ষের মামলায় আসামি

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম ॥ চট্টগ্রামে সন্দেহজনক আসামিকে রিমান্ডে আনার আবেদন করায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফুটেজ দেখে এক গৃহশিক্ষককে আসামির তালিকায় তুলে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিহিত শার্টের মিল থাকায় আসামির তালিকায় নাম উঠেছে গৃহশিক্ষক রবিউল হোসেন রবির। পুলিশের শনাক্তকরণের ভুলের কারণেই এ ধরনের আবেদন হয়েছে বলে ধারণা পরিবারের। চট্টগ্রাম আদালতে গত ৪ নবেম্বর আসামি সোপর্দের তালিকায় এজাহারভুক্ত আসামিকে বাদ দিয়ে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদনও জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। প্রশ্ন উঠেছে, যে কোন সংঘর্ষের সময় আতঙ্কিত পথচারী হিসেবে যে কেউ দৌড়ে পালাতে পারেন। সংঘর্ষের ক্যামেরা ফুটেজ দেখে পুলিশ কিভাবে প্রমাণ করে ওই গৃহশিক্ষক নামধারী ছাত্রলীগের ক্যাডার এমন অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ আসামি শনাক্তকরণে নতুন কৌশল হিসেবে পত্রিকার ফুটেজ ব্যবহার শুরু করেছে। সংঘর্ষকারীর চেহারা নিশ্চিত না করে শুধু পরিহিত পোশাকের ওপর ভিত্তি করে পুলিশের নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। এদিকে, পত্রিকায় প্রকাশিত ফুটেজ ও ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে নেয়া একাধিক ফুটেজ কালেকশনের মধ্য দিয়ে পুলিশ আসামি ধরার কৌশল অবলম্বন করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। কারণ, একই ধরনের বা ডিজাইনের পরিধেয় বস্ত্র বাজারে বিদ্যমান রয়েছে।

চট্টগ্রাম আদালত সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন)-এর মাধ্যমে গত ৪ নবেম্বর আসামি কোর্টে প্রেরণের একটি তালিকা আদালতে জমা দেয়া হয়। কোতোয়ালি থানার পক্ষ থেকে এসআই হারুন অর রশিদ কর্তৃক লিখিত এ তালিকায় ৫নং আসামি হিসেবে রবিউল হোসেন প্রকাশ রবি (২২), পিতা আবু তাহের দুলাল, মাতা-খালেদা বেগম, সাং দক্ষিণ গোমারমর্দন, ইদ্রিস মাস্টারের বাড়ি, থানা-হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম। বর্তমানে রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি, জিয়াউল আলমের ভাড়াটিয়া, সিআরবি, থানা কোতোয়ালি, জেলা চট্টগ্রামকে আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, রবিউল হোসেন প্রকাশ রবি মূলত একজন গৃহশিক্ষক। পড়ালেখার পাশাপাশি গৃহশিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত থেকে পারিবারিক আয়ের উৎস সৃষ্টি করেছেন। নগরীর স্বনামধন্য সরকারী মহসিন কলেজে বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের সম্মান শ্রেণীর চতুর্থবর্ষের ছাত্র সে। কলেজের রাজনৈতিক হিসাব অনুযায়ী যদি দেখা হয় তাহলে সে জামায়াত শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কিন্তু ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগের টেন্ডারবাজদের সঙ্গে জড়িত থাকার কোন সুযোগ নেই। এ ছাড়াও গত ১ নবেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সম্মান শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে গিয়েছিল। তবে তার শার্টের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে এক ক্যাডারের শার্ট মিলে যাওয়ার কারণে রবিউলকেও মামলার আসামি বানানো হয়েছে। রবিউলের বাবা নগরীর জুবিলী রোডে বেসিক ব্যাংকের নিচে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ তাকে সংঘর্ষের ঘটনায় সন্দেহজনকের তালিকা থেকে আসামির তালিকায় ঢুকিয়ে দেয়ায় পরিবারটিতে নেমে এসেছে অন্ধকার।

কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নবেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর সিআরবি সংলগ্ন সাত রাস্তার মোড় এলাকায় ছাত্রলীগ নামধারী রেলের টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সিএমপির মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি কুসুম দেওয়ান জানান, রবিকে গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি যতটুকু জানেন ফুটেজ থেকে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। পত্রিকার ফুটেজে যে ধরনের চবি প্রকাশিত হয়েছে এতে রবির পোশাকের কিছুটা মিল রয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশের কোন ধরনের ভুল হলে তদন্তের মাধ্যমে তা নিরসন করা হবে।