২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুরনো রূপে মাশরাফি দ্যুতি

মোঃ মামুন রশীদ ॥ ইনজুরি ধাক্কায় বার বার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশের অপরিহার্য পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা ক্যারিয়ারের অনেক সময় কাটিয়েছেন গ্যালারিতে বসে। অথচ ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকেই তিনি মূল স্ট্রাইক বোলার। কিন্তু বার বার ইনজুরির শিকার হয়ে নিজের গতিটাও কমাতে বাধ্য হয়েছেন, আবার ম্যাচ খেললেও বিরতি দিয়ে ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করতে হয়েছে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাতি পাওয়া মাশরাফিকে। আর সে কারণেই দীর্ঘদিন শুরুর ওভারেই বল হাতে নেননি। উদীয়মান তরুণ গতিধরদের সুযোগ দিয়েছেন, আবার কখনও কখনও বাংলাদেশ দল কৌশলগত কারণে স্পিন আক্রমণ দিয়েও শুরু করেছে বোলিং। এবার জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও বোলিং উদ্বোধন করেননি। তবে আবার মাশরাফি নিজেকে স্বরূপে আবির্ভূত হলেন জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে প্রথম টি২০ ম্যাচে। প্রথমেই বল হাতে নিয়ে অতীতকে ফিরিয়ে আনলেন শুরুতেই প্রতিপক্ষ শিবিরে আঘাত হেনে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট শিকার করে তৃতীয় ওভারে আবার আঘাত হেনে শুরুতেই জিম্বাবুইয়েকে ফেলেছেন বিপদের মুখে। পুরনো এই ভয়ঙ্কর রূপে প্রত্যাবর্তন করা মাশরাফি প্রথম টি২০ ম্যাচে বোলিং শেষ করেছেন দারুণ কিপটেমি দেখিয়ে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে।

ইনিংসের শুরুতেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলা যেকোন দলের প্রধান স্ট্রাইক বোলারের যেন কর্তব্যেরই একটা অংশ। মাশরাফি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর অনেকবারই এমনটা করে দেখিয়েছেন। এমনকি যে সময় বাংলাদেশ দল বিশ্ব ক্রিকেটে মাধা উঁচু করে তোলার প্রয়াস চালিয়ে যেতেই হিমশিম খাচ্ছিল সে সময়েও। কিন্তু যে পেসারের ইনজুরিই একটা বড় অংশ, তিনি এতদিন শুধু টিকে গেছেন চরম আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার কারণে। শল্যবিদের ছুরির নিচে ১১ বার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। তবু নিজের সামর্থ্য, সক্ষমতা নিয়ে টিকেই আছেন মাশরাফি। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের হৃদয় থেকে কখনই এক চুল সরেননি মাশরাফি। আর এত ইনজুরির পরও তিনি নিজেকে অন্যতম অপরিহার্য বোলার হিসেবেই টিকিয়ে রেখেছেন। সে কারণে ২০০৯ সালেই বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম মিশনে গিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আবার ইনজুরি। অবশেষে গত বছর আবারও ওয়ানডে ও টি২০ অধিনায়কত্ব পেয়েছেন বিন্দুমাত্র ফুরিয়ে না যাওয়া ইনজুরির বিরুদ্ধে সফলতম এক যোদ্ধা মাশরাফি। কিন্তু বল হাতে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেননি এতদিন। ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বশেষ চলতি বছর ২২ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওভারেই বল হাতে নিয়েছিলেন। ওই ম্যাচে ৪৪ রানে নেন দুই উইকেট। ওই সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। আর টি২০ ক্রিকেটে সর্বশেষ প্রথম ওভারেই বোলিং করেছেন ওই একই দলের বিপক্ষে ৩০ মার্চ ২০১৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপে। সেদিনটা ভাল যায়নি, ৪ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। ১৬০ ওয়ানডের ১৩৪ ইনিংসেই প্রথম ওভার বোলিং করেছেন মাশরাফি। আর ৩২ টি২০ ম্যাচে ২৬ বারই বল হাতে নিয়েছেন প্রথম ওভারে।

দীর্ঘ ৬ মাস ও ৯ ওয়ানডে এবং ৩ টি২০ ও ১৯ মাস পর আবার প্রথম ওভারেই বল হাতে আক্রমণে আসলেন মাশরাফি জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে প্রথম টি২০ ম্যাচে। আর এসেই আঘাত হানলেন। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে তিনি ফিরিয়ে দেন সিকান্দার রাজাকে (৪)। আগের বলটিকেই চার হাঁকিয়েছিলেন এ ওপেনার। সেটারই প্রতিশোধ হিসেবে রাজাকে সাজঘরে ফেরালেন। নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আবারও আঘাত হানেন মাশরাফি। এবার ফিরিয়ে দেন অধিনায়ক ও বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান এলটন চিগুম্বুরাকে (০)। প্রথম স্পেলে দারুণ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা মাশরাফি ২ ওভারে ৬ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। পরের স্পেলে এসে অবশ্য ২ ওভারে ১৪ রান দিয়ে আর কোন উইকেট পাননি। ওই সময়টাতে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন ম্যালকম ওয়ালার। তবে মাশরাফি তখনও মিতব্যয়িতাই দেখিয়েছেন। আর শুরুতে যে ধাক্কাটা দিয়েছেন জিম্বাবুইয়েকে সেটা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। ১৩১ রানেই গুটিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে মাশরাফির বোলিং বিশ্লেষণ ৪-০-২০-২।