২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বৈরুতে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা

  • নিহত ৪৩, আহত ২৪০, লেবাননে জাতীয় শোক ॥ আইএসের দায়িত্ব স্বীকার

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন ২৪০ জনেরও বেশি। বৈরুতে এই ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় লেবাননে শুক্রবার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। খবর আল-জাজিরার।

লেবাননের ভেতরে হিজবুল্লাহর শক্ত কোন ঘাঁটিতে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে চালানো প্রথম হামলা এটি। সিরিয়ায় চারবছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে হিজবুল্লাহ যখন তাদের অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে ঠিক সেই সময়ে হামলাটি চালানো হলো। ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র এই রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষে লড়াই করার জন্য শত শত যোদ্ধা পাঠিয়েছে। সিরীয় সরকারী বাহিনী হিজবুল্লাহ ও ইরানি বাহিনী এবং রাশিয়ার বিমান হামলার সহায়তায় বিদ্রোহীসহ আইএসের জঙ্গীদের মোকাবিলায় লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনের শেষভাগে শিয়াদের কমিউনিটি সেন্টারে দুটি বিস্ফোরণই প্রায় একই সময়ে ঘটেছে। বুর্জ আল-বারাজনেহ এলাকার বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার একটি বেকারির কাছে এ বিস্ফোরণ দুটি ঘটানো হয়। বিস্ফোরণস্থলের কাছেই হিজবুল্লাহ পরিচালিত একটি হাসপাতালও রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়ায়েল আবু ফাউর জানিয়েছেন, ৪৩ জন নিহত ও ২৪০ জন আহত হয়েছেন। অনলাইনে সমর্থকদের পোস্ট করা এক বিবৃতিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) দাবি করেছে, বুর্জ আল-বারাজনেহ এলাকায় তাদের সদস্যরা একটি বিস্ফোরক বোঝাই বাইকের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। বিস্ফোরণের পর সেখানে উৎসুক মানুষেরা জড়ো হওয়ার পর একজন আত্মঘাতী হামলাকারী দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে। এদিকে আইএস দাবি করেছে, হামলায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গোষ্ঠীটি তার শত্রুদের ‘দীর্ঘ লড়াইয়ের’ হুঁশিয়ারি জানিয়েছে।

ফুয়াদ খাদ্দাম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী আলজাজিরাকে বলেন, আইএস জঙ্গীরা আত্মঘাতী হামলার জন্য এ স্থানটিকে টার্গেট করেছে। কারণ আমাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য তাদের আর কোন বিকল্প নাই। তিনি বলেন, তারা এ স্থানকে হামলার লক্ষ্য স্থল করেছে কারণ আমরা শিয়া মতাবলম্বী। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে দিচ্ছি যে, আমাদের দমানো যাবে না। বৃহস্পতিবার হামলার কয়েক ঘণ্টার পর আইএসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, খলিফার সৈন্যরা এই হামলার জন্য দায়ী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সেনা কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলাস্থলে তৃতীয় আত্মঘাতী বোমাবাজের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্যস্ত সময়ে এ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয় এ সময় স্থানটিতে পরিবারের সদস্যরা কাজ শেষে জমায়েত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় প্রথম হামলা চালানোর মাত্র কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে। উল্লেখ্য দক্ষিণ বৈরুতের বেশিরভাগ এলাকাই হিজবুল্লাহ গেরিলাদের শক্ত ঘাঁটি। ২০১৪ সালে আল কায়েদার সংশ্লিষ্ট জঙ্গী গোষ্টীগুলো বৈরুতে কয়েক দফা আত্মঘাতী হামলা চালায়। বিস্ফোরণস্থলে উপস্থিত হিজবুল্লা কর্মকর্তা হোসেন খলিল আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এখানে যা ঘটল তা অপরাধ। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। এ লড়াই হবে দীর্ঘমেয়াদি। শিয়া মুসলিমদের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শক্তঘাঁটি বলে পরিচিত অঞ্চলটিতে এই হামলা চালানো হয়। ইসলামিক স্টেট (আইএস) দাবি করেছে, তারাই এই হামলা চালিয়েছে।