২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রিটেন-ভারত ৯শ’ কোটি পাউন্ডের চুক্তি

  • মোদিকে উষ্ণ সংবর্ধনা ক্যামেরনের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাজ্য সফরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দুটি দেশ ১ হাজার ৩৭০ কোটি ডলারের (৯০০ কোটি পাউন্ড) কয়েকটি বাণিজ্যিক চুক্তি সই করেছে। খবর গার্ডিয়ান ও ইয়াহু নিউজের।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মোদিকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। ক্যামেরন দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারতে ব্যবসায়িক সুযোগ লাভের জন্য দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। আর মোদি অন্যান্য সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

মোদি জনবহুল বিহার রাজ্যে তার হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির পরাজয়ের পর বিশ্ব মঞ্চে তার কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করতে চাচ্ছেন। তিনি লন্ডনের বাণিজ্যিক এলাকার এক ঐতিহাসিক ভবন গিল্ড হলে দেয়া ভাষণে আরও স্বচ্ছ এক ভারতে বিনিয়োগ করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। ক্যামেরন বলেন, তিনি ভারতের অবকাঠামোর উন্নতি ঘটিয়ে মোদির দেশ পাল্টে দেয়ার চেষ্টায় সহায়তা করতে চান। আর ভারতীয় নেতা ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নেই (ইইউ) থাকুক বলে তার ইচ্ছার আভাস দেন। তিনি বলেন, ব্রিটেন ভারতের ইউরোপে প্রবেশের দ্বার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইইউর প্রতি ওই সমর্থনসূচক মন্তব্য করে ব্রিটেনের ইইউ সদস্যপদ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। ব্রিটেন স্ট্রঙ্গার ইন ইউরোপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর উইল স্ট্রর ওই মন্তব্যকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ব্রিটেন ইউরোপে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও আর্থিক দিক দিয়ে আরও ভাল থাকবে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে মোদিই সর্বশেষ একথা বললেন। ভোটলিভের কমিউনিক্যাশনস ডিরেক্টর পল স্টিফেনসন বলেন, হতাশার বিষয়, উইল স্ট্র এদেশে সরকারী সফরকালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তি উক্তির বিকৃতি ঘটাচ্ছেন। ক্যামেরন বলেন, আমি এখানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে পেরে খুশী। তিনি ভারতের জনগণের বিরাট ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছেন। তারা এক রেকর্ড ও ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী করেছে। ক্যামেরন ওই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি একে এক আধুনিক, গতিশীল অংশীদার হিসেবেই দেখি। সম্ভবত একথা সত্য যে, কয়েক বছর ধরে ব্রিটেন ও ভারতের সম্পর্ক কোনভাবে অতীতের নিগড়ে আবদ্ধ ছিল। আমার মনে হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কখনও কখনও এটি বারতের সঙ্গে বাণিজ্য পণ আদান-প্রদানেরই বিষয় এমন ভ্রান্ত ধারণার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। আজকের সম্পর্কের দিকে তাকান। ব্রিটেনের অন্যতম সফল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভারতীয় পুঁজি ও ব্রিটিশ জাগুয়ার ল্যান্ডরোভার নক্সা ও নির্মাণ দক্ষতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠেছে।

ক্যামেরন এক সংবাদ সম্মেলনে মোদিকে বলেন যে, আমরা লন্ডনকে বিশ্ববাজারে রুপী লেনদেনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত করে ওই উচ্চভিলাষী পরিকল্পনার জন্য অর্থ যোগানোর ক্ষেত্রে আপনাদের প্রথম অংশীদার হতে চাই। তিনি আরও বলেন, ১০০ কোটিরও বেশি পাউন্ডের বড় বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মোদি ঘোষণা করেন যে, ভারতের রেলব্যবস্থার সম্প্রসারণের জন্য তহবিল সগ্রহ করতে লন্ডনে রুপী বন্ড ছাড়া হবে।