২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রন্থাগারিক ছাড়াই বগুড়া গণগ্রন্থাগার

সমুদ্র হক ॥ বগুড়া সরকারী গণগ্রন্থাগার (যা উডবার্ন সরকারী গণগ্রন্থাগার নামেও পরিচিত) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গ্রন্থাগারিক (লাইব্রেরিয়ান) ছাড়াই চলছে। সরকারী এই পদটি শূন্য হয়ে আছে ১৯৯৮ সাল হতেই। এ বছর এপ্রিল মাসে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তারপর হতে গ্রন্থাগার সহকারী, বুক শর্টার ও নৈশপ্রহরী দিয়েই চলছে এই গ্রন্থাগার। এই গ্রন্থাগারে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ’ পাঠক বই পড়েন এবং সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘরে বই নিয়ে যান। গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক না থাকায় এলোমেলোভবে চলছে লাইব্রেরি সেবা। কোন বই কোথায় আছে তা খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমানে এই লাইব্রেরির দুটি ভবন। একটি এ্যাডওয়ার্ড পার্কের ভিতরে। আরেকটি পার্কের বাইরে। দুই লাইব্রেরির কার্যক্রম একীভূত করা হয়।

দেশের প্রাচীন উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬১ বছর আগে ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে। ওই সময়ে বগুড়ার ডেপুটি কালেক্টর মিঃ রয়েল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ১৮৯৭ সালে এক ভূমিকম্পে এই লাইব্রেরি ধসে পড়ে। এর ৪৩ বছর পর বগুড়া এ্যাডওয়ার্ড পার্কের ভিতের লাইব্রেরি পুনর্নিমিত হয়। সেই থেকে শহরের শিক্ষিত পরিবারের মধ্যে লাইব্রেরি কেন্দ্রিক পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে।

একটা সময় নিত্যদিন বিকেলে শহরের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী তরুণ ও বয়স্করা এই লাইব্রেরিতে নিয়মিত যাওয়া আসা করত। সকল দৈনিক সাপ্তাহিক পাক্ষিক মাসিক পত্র-পত্রিকা টেবিলে থাকত। সকল ধরনের বই ছিল। বর্তমানে পত্রিকা ও বইয়ের সংখ্যা কমে গিয়েছে। ১৯৮৪ সালে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লাইব্রেরিটি চলে যায়। এরপর লাইব্রেরির স্টাফ প্যাটার্ন হয় এ রকম প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদার একজন গ্রন্থাগারিক (লাইব্রেরিয়ান) দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদার একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক, একজন গ্রন্থাগার সহকারী, চতুর্থ শ্রেণীর একজন বুক শর্টার ও নৈশপ্রহরী। ২ হাজার ৩ সালে এ্যাডওয়ার্ড পার্কের দক্ষিণ পশ্চিমে সরকারী গণগ্রন্থাগার নির্মিত হয়। পরবর্তী বছরেই পার্কের ভিতরের বেসরকারী উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরিকে সরকারী গণগ্রন্থাগারের সঙ্গে একীভূত করা হয়। সরকারী গণগ্রন্থাগারের নামও হয় উডবার্ন সরকারী গণগ্রন্থাগার। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গণগ্রন্থাগার অধিদফতর জেলার পাবলিক লাইব্রেরির উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে। এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৯৮ সালের জানুয়ারি মাসে বেগম সেলিনা ইসলামকে বগুড়া উডবার্ন গণগ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ দেয়। কয়েক দিনের মধ্যে তিনি প্রেষণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে বদলি হন। তারপর এই পদটি দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যই রয়েছে। গ্রন্থাগারিকের অনুপস্থিতিতে সহকারী গ্রন্থাগারিক রোকানুজ্জামান দায়িত্ব পালন করতেন। চলতি বছর ২৭ এপ্রিল তিনি পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। বর্তমানে এই পদটিও ফাঁকা পড়ে আছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন শীঘ্রই একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ পাবে।

বর্তমানে গ্রন্থাগার সহকারী আনিসুল হক বুক শর্টার সোহরাব হোসেনকে নিয়ে পাঠক সামলাচ্ছেন। নতুন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাঠ কক্ষ। নিচের তলায় ছোট্ট মিলনায়তন। চতুর্থ তলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের স্পেস রাখা হয়েছে। বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজার। যার ৮ হাজার বই পূর্বের উডবার্ন লাইব্রেরি থেকে সংযুক্ত হওয়া। এই বইগুলো তৃতীয় তলায় তালাবদ্ধ রয়েছে। কেন এই বইগুলো তালাবদ্ধ এই বিষয়ে বলা হয়, নতুন র‌্যাক বানিয়ে রাখা হবে। গ্রন্থাগারিক না থাকায় এই কাজ করা যাচ্ছে না। পার্কের ভিতরে পুরনো উডবার্ন লাইব্রেরিকে সংস্কার করে ১২০ আসনের উন্নত মিলনায়তন বানানো হয়েছে।

উডবার্ন সরকারী গণগ্রন্থাগারের বর্তমান অবস্থা এ রকম- কোন বই কোথায় আছে তা সাজানো নেই। ক্যাটালগ অসম্পূর্ণ। পুরনো ভবনে কি বই যোগ হয়েছে তার তালিকাও নেই। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সকল দৈনিক কাগজ টেবিলে থাকে না। পাঠের ভাল ব্যবস্থা আছে ঠিকই তবে বই পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষের কথা, জনবল সঙ্কটে এই অবস্থা হয়ে আছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বলছেন বিষয়টি তারা অবগত। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা দূর করা হবে।