২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে ৬ পৌরসভায় নির্বাচনী হাওয়া

  • পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবে তৃণমূলের আওয়ামী লীগ

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ নির্বাচন কমিশন থেকে দলীয় প্রতীক নিয়েই স্থানীয় সরকার (পৌর) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পরপরই দলীয় মনোনয়ন পেতে বরিশাল জেলার ৬টি পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা দলীয় মনোয়ন পেতে হাইকমান্ড ও মাঠ গোছাতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় গণসংযোগও শুরু করেছেন। প্রার্থীদের আনাগোনায় হাল্কা শীতের পরশ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়েছে পৌর এলাকাগুলোতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পাশাপাশি বসে নেই বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়াকার্স পার্টি, জাসদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতায় নির্বাচন নিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লা এমনকি বিভিন্ন অফিসেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তবে অধিকাংশ পৌরসভার আ’লীগ দলীয় মেয়র ও আ’লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান তীব্র কোন্দলের কারণে বর্তমান মেয়র পরিবর্তন করে দলের ত্যাগী নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জন্য সর্বস্তরে গণদাবি উঠেছে। অপরদিকে স্থানীয় এ নির্বাচনকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা।

বরিশাল নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন থেকে আগামী ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে সকল পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় জেলার গৌরনদী, উজিরপুর, মুলাদী, মেহেন্দিগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও বানারীপাড়া পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে পৌরবাসীর সামনে নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে বেছে নিয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে নেমেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার প্রবেশদ্বার গৌরনদী পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কর্মকা- প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন থেকে দলের তৃণমূল পর্যায়ের দলের ত্যাগী, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের একমাত্র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া। বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলকে সংগঠিত করে যাচ্ছেন পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম মনির-উজ-জামান মনির। এছাড়া বর্তমান মেয়র হারিছুর রহমান, সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা নুর আলম হাওলাদার এবং আ’লীগ নেতা ও বিশিষ্ট ঠিকাদার আলাউদ্দিন ভূঁইয়াও মেয়র প্রার্থী হবেন। উজিরপুর পৌরসভার সর্বপ্রথম নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ শিকদার বাচ্চু। মুলাদীতে বর্তমান আ’লীগ সমর্থিত মেয়র তরিকুল ইসলাম মিঠু, বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ খান, জাপা নেতা শুক্কুর আহমেদ খান, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সালেহ উদ্দিন হাওলাদার ও বিএনপি নেতা আসাদ মাহমুদ। বানারীপাড়ায় বর্তমান পৌর মেয়র গোলাম ছালেহ মঞ্জু মোল্লা, আ’লীগ নেতা এ্যাডভোকেট সুভাষচন্দ্র শীল, ওয়াকার্স পার্টির নেতা মন্টু কু-ু, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ শাহে আলম, গোলাম মাহাবুব মাস্টার ও শহীদুল ইসলাম। বাকেরগঞ্জে বর্তমান মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম, আ’লীগ নেতা মশিউর রহমান জমাদ্দার, সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া, শিল্পপতি পিয়াল আহম্মেদ তালুকদার রাজিব, এ্যাডভোকেট নাসির মাঝি, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মোল্লা ও নাসির জমাদ্দার বর্তমানে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। মেহেন্দিগঞ্জে আ’লীগ দলীয় বর্তমান মেয়র আলহাজ কামাল উদ্দিন খান, উপজেলা যুবলীগ নেতা পারভেজ চান, প্রবীণ আ’লীগ নেতা ইদ্রিস আলী ব্যাপারী, রফিকুল ইসলাম টেনু খন্দকার। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম লাবু, সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন দিপেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুক্তা ও পৌর বিএনপি সভাপতি সাহাবুদ্দিন হিমু।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও নিত্যনতুন পোস্টার ও ব্যানারে ছেঁয়ে গেছে এসব পৌর এলাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। স্থানীয় ও জাতীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার ফেস্টুনের মধ্যদিয়ে প্রার্থীরা জানান দিচ্ছেন নিজেদের প্রার্থিতা। ভোটাররা জানান, এবারের পৌর নির্বাচনে তারা প্রার্থিতা নিয়ে ভাবছেন। বিগত সময়ের পৌরসেবা, বর্তমান সময়ের কর্মকা- বিচার বিশ্লেষণ করেই তারা প্রার্থীদের সমর্থন দেবেন। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিশেষ করে যারা বিগত সময়ে পৌর এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও পরবর্তীতে নির্বাচিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়িত করেননি, এমনকি নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে কোণঠাসা করে রেখেছেন সে বিষয়টিও তারা মাথায় রেখে কাজ করবেন। সেক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ড থেকে প্রার্থী মনোনয়নে ভুল হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে তার চরম খেসারত দেয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

নির্বাচিত সংবাদ