১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হোটেল কর্মীদের ভাষা ও দক্ষতা শেখার এ্যাপস

তল্লাশির পাট চুকিয়ে হোটেলে ঢোকাই এক বিড়ম্বনা। তার ওপর ভাষা না জানার ফলে রিসেপশনিস্ট বা কর্মচারীরা যদি শূন্য দৃষ্টি মেলে অতিথিদের দিকে তাকায় তাহলে সেটা তাদের জন্য বাড়তি দুঃস্বপ্নই বটে। তবে এটা হোটেল ওয়ালাদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসানেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

হোটেল রেস্তরাঁর মতো যেসব অতিথি সেবা শিল্প আছে সেগুলোর ক্ষেত্রে অতিথি বা খদ্দেরদের সন্তুষ্টি বা আনুগত্য লাভ ব্যবসা পরিচালনার জন্য একান্তই প্রয়োজন এদের মুনাফা বাড়ানোর একটা অপরিহার্য পূর্বশর্ত হলো খদ্দেরদের সঙ্গে যোগাযোগের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা। তাদের সঙ্গে কথা বলা ও কথা শোনা। অথচ চীনসহ এশিয়ার কিছু কিছু দেশে দেখা যায় হোটেলগুলোর রিসেপশনিস্ট-কর্মচারীরা বিদেশী খদ্দেরদের সঙ্গে কথা বলতে পারে না। ইংরেজী একটা বহুল প্রচলিত আন্তর্জাতিক ভাষা। সেই ভাষা তারা অনেকেই জানে না বা বলতে পারে না। ফলে খদ্দেরদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। তাদের প্রত্যাশিত সার্ভিসও দিতে পাবে না।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে এসেছেন পিকিংয়ে অবস্থিত ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুকোর সিইও ডেভিড টোপোলিওস্কি। তিনি বিপুল আয় অর্জনকারী এই শিল্পে ইংরেজী শিক্ষার ব্যবসা প্রসারিত করার এক আকর্ষণীয় সুযোগ খুঁজে পেয়েছেন অর্থাৎ ইংরেজী শিক্ষাকে শিশুদের শেখানোর বাইরে এশিয়ার কর্পোরেট বিশ্বেও ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর উপলব্ধিটা অপ্রত্যাশিতভাবেই ঘটেছিল ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় যখন সেখানকার এক হোটেল ম্যানেজার তাঁকে অতিথিসেবা শিল্পে নিয়োজিত স্টাফদের ভাষা ও দক্ষতা শেখানের আধুনিক সাজসরঞ্জামের অভাবের কথা জানায়।

এই শিল্পেøর বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সেই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মচারী নিয়োজিত থাকার কারণে উৎসাহিত হয়ে ডেভিড টোপোলিউস্কি তিন বছর আগে এশিয়ার বাজারকে টার্গেট করে কুকো কোর নামে হোটেল রেস্তরাঁর উপযোগী ইংরেজী ভাষার উৎকর্ষতা ও দক্ষতাবৃদ্ধির প্রতিষ্ঠান চালু করেন। টোপোলিউস্কি বলেন, এই শিল্প কত বিশাল সে সম্পর্কে আমার কোন ধারণা ছিল না। কিছু গবেষণাকাজ করার পরই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে এখানে ব্যবসা গড়ে তোলার অবিশ্বাস্য সুযোগ আছে।

বিশ্বিক জিডিপির ৯ শতাংশেরও বেশি আসে ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্প থেকে। এই খাতটিতেই বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক চাকরিজীবী নিয়োজিত। যাবতীয় চাকরির মধ্যে প্রতি ১১টির একটি চাকরি হচ্ছে এই শিল্পের। কুকো এখন এশিয়ার হোটেলগুলোতে ইংরেজী ও মান্দারিন ভাষা শেখার উপকরণ যোগাচ্ছে যেমন ভিডিও, কুইজ ইত্যাদি। বিষয়বস্তুগুলো ডেস্কটপ, ট্যাবলেট ও মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে। এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে কোম্পানি হোটেল কর্মচারীদের হাউসকিপিং ও ওয়েটারিংয়ের মতো এই শিল্পের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করারও ব্যবস্থা করেছে। গত বছর কুকো কোর চীনের বাজারে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে তারা ত্রিশটি হোটেলে ভাষা ও বৃত্তি শিক্ষার সরঞ্জাম দেবে। চীন থেকে কোম্পানিটি ঠিক কি পরিমাণ আয় করতে পারছে তা না জানালেও আভাস পাওয়া গেছে যে, বার্ষিক আয় ৭ ডিজিটের ডলারের অঙ্কে দাঁড়াবে।

চীনে কুকোর বেশিরভাগ খদ্দের হচ্ছে আন্তর্জাতিক হোটেল ব্রান্ড যা চীনা বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন ও পরিচালনাধীন। বড় ধরনের ক্লায়েন্টের মধ্যে রয়েছে সেন্ট রেপিস ও ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল। তাছাড়া ওয়ান্দা হোটেলসের মতো বড় ধরনের চীনা হোটেল চেনের সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে। চীনে আগত যে বিপুল সংখ্যক বিদেশী ট্যুরিস্ট ও ব্যবসায়ী আরাম-আয়েশে থাকার জায়গা খুঁজে তাদের আকৃষ্ট করার জন্য চীন বিশ্বমানের হোটেল নির্মাণ করছে। ফলে কুকো কোম্পানিরও কাজের প্রসার ঘটার বিরাট সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে টোপোলিউস্কি জানান।