২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম ছিল হাট

জায়গার নাম যাত্রাপুর। তিরিশ দশকের কথা। যোগাযোগ ব্যবস্থা তখন নদ-নদীকেন্দ্রিক। কুড়িগ্রাম শহর থেকে আট কিমি পূর্বে বাংলাদেশের বৃহত্তর নদ ব্রহ্মপুত্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নৌবন্দর। ঢাকা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা অঞ্চলের লোকজন ব্যবসাবাণিজ্যের জন্য আসাম, ধুবড়ী যেত এই নৌ- বন্দরের পথ ধরে। আসামের লোকজনও যোগাযোগ করতে আসত এখানে। এভাবে দুই অঞ্চলের মানুষের মিলিত স্থান হয়ে ওঠে যাত্রাপুর।

নদ-নদীকে ঘিরে বাংলার গ্রামীণ জনপদে হাটবাজার বসার যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে গড়ে ওঠে যাত্রাপুর হাট। নৌ-বন্দর না থাকলেও এই হাটটি এখনও কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম সর্ববৃহৎ হাট। নদে পানির স্রোত; উপরে মানুষের স্রোত- এমন গ্রামীণ আবহে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার বসে হাট।

১৬ নদ-নদী অববাহিকায় কুড়িগ্রামে রয়েছে ৪২০টি চর-দ্বীপচর। বছরের অর্ধেক সময় এসব চর পানিবন্দী থাকে। বাকি সময় নদ-নদীগুলো হয়ে পড়ে শুকনো খটখটে। এমন বাস্তবতায় চরের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়ে কঠিন। তাই তাদের একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হলো যাত্রাপুর হাট। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাছগাছি, মোগলবাসা, ঘোগাদাহ, ভোগডাঙ্গা, নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া, নারায়ণপুর, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের মানুষদের পদচারণায় মুখরিত থাকে যাত্রাপুর হাট। একই সঙ্গে হাটকে ঘিরে বসে এসব চর-দ্বীপচরের হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা। তাদের একজনের সঙ্গে অন্যজনের দেখা-সাক্ষাত হয় হাটে। খোশ-গল্পে মেতে ওঠে তারা। চলে রাত অবধি। কারও সঙ্গে দেখা না হলে অন্যের সাহায্যে খরবাখবর আদান প্রদান করে।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষের হাটকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখন গ্রামীণ মানুষদের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তির উপকরণ হাতের নাগালে যেতে শুরু করেছে। হাটে এখন পৌঁছে গেছে আধুনিক যোগাযোগের সব মাধ্যম। আর সেই ব্যবস্থা হানা দিচ্ছে চর থেকে চরাঞ্চলে।

Ñরাজু মোস্তাফিজ,

কুড়িগ্রাম থেকে

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া