২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিষ্টি বললে সবাই বুঝেছে জিলাপি আর বাতাসা

হাট! শব্দটির সঙ্গে সবাই পরিচিত। প্রবীণদের কাছে হাট ছিল খুবই প্রিয়। বলার সঙ্গে সঙ্গেই মানসপটে ভেসে ওঠে অতীত স্মৃতি। এখনও তারা হাতড়ে বেড়ান হাটের স্মৃতি। একসময় হাটই ছিল মানুষের যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র। সপ্তাহের এক বা দু’দিন বসে হাট। তাও আবার কয়েক ঘণ্টার জন্য। সপ্তাহজুড়ে চলেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অপেক্ষা। সব কিছুই মিলেছে সেখানে। হাট ছাড়া কোন কিছু কেনাবেচা কল্পনাই করা যায়নি।

গ্রাম বাংলার মানুষের কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিনোদন পর্যন্ত সবই ছিল হাট কেন্দ্রিক। বিয়ে-সাদির আলাপ- আলোচনা, চিঠি বিলি, জায়গীর রাখাসহ সব কাজই হয়েছে হাটে বসে। সময় বদলে দিয়েছে হাটের রূপ। এখন পাড়ায় মহল্লায়, গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে বাজার। আধুনিক যুগে হাটের অপর নাম বাজার। মার্কেট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক কাজী আবুল কালাম ইলিয়াস গ্রামীণ জনপদের হাট নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি দেখেছি হাটের মধ্যেই বিয়ে-সাদির কাজ সারা হয়েছে। ছেলে-মেয়ে দেখাদেখির কাজ হয়েছে হাটেই।

১৯৪০/৫০ সালের দিকে গ্রামের মানুষ প্রাত্যহিক সমস্ত কাজ তুলে রেখেছে হাটবারের অপেক্ষায়। তখন ডাক ঘরের পিয়নরা চিঠি বিলি করতে মানুষের বাড়ি বাড়ি যায়নি। হাটের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ছালা পেড়ে বসে থাকত। মানুষ সেখানে ভিড় করে যার যার চিঠি নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখনকার মতো এত বাজার ও শপিংমল তখন ছিল না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ গড়ে উঠছে বড় বড় বাজার বা শপিংমল। প্রবীণ এ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খায়ের বলেন, আগে বিয়ে সাদি পাকাপাকি হয়েছে হাটে বসে। আলাপ আলোচনা শেষে পাকা কথা দেয়ানেয়ার পর হাটে বসেই পেট পুরে মিষ্টি খেয়েছে বর-কনের স্বজনরা। মিষ্টি বলতে ছিল জিলাপি।

এক কেজি জিলাপি ৪/৫ জনে মিলে খেয়েছে। তখনকার মানুষ জিলাপি ও বাতাসাকে মিষ্টি বোঝাত। বিয়েতে মাটির হাঁড়ি ভর্তি মিষ্টি নেয়া হতো। তাও ছিল বাতাসা। বাতাসাই ছিল শুকুর মিঠাই। মাছিহাতা ইউনিয়নের আটলা বাজার ও চিনাইর বাজার দুটি আগে ছিল হাট। আশপাশে আর কোন হাট ছিল না। ইউনিয়নের লোকজন হাট থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা করেছে। তিনি বলেন, হাট থেকে এক টাকার মাছ কিনলে মানুষ কাঁধে করে নিয়ে আসতে পারেনি। হাটে চিকিৎসাও হয়েছে। ইনজেকশন দিতে হলে হাটে গিয়ে ডাক্তারের দরজায় ধর্ণা দিতে হতো। এ যুগের মতো এত হাসপাতাল-ক্লিনিক ছিল না। হেকিমী ওষুধের প্রচলন ছিল বেশি।

হাটের দিন গ্রাম্য চিকিৎসকরা তল্পিতল্পা নিয়ে মাদুর অথবা চাটাই বিছিয়ে হাটখোলায় বসত। রোগীরা মাদুরের পাশে গোল হয়ে বসে চিকিৎসা নিয়েছে। বিজেশ্বর গ্রামের মফিজুল ইসলাম বলেন, গোকর্ণ হাটে আশপাশের ৪/৫ গ্রামের মানুষ আসত। সবজি ছিল মানুষের বাড়িতে বাড়িতে। পেঁয়াজ, রসুন, আদা কাউকে কিনতে হয়নি। অভাব ছিল শুধু চালের। এক কানি জমিতে ধান হয়েছে তিন মণ। গাইন্ধা চাল ছিল বাজারের সেরা। এখন কানি প্রতি ৩০/৪০ মণ ধান হয়।

Ñরিয়াজউদ্দিন জামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে