২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশে নির্বাচনী সহিংসতা রাতারাতি বন্ধ হবে না : বার্নিকাট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের মতো বহুত্ববাদী সমাজে নির্বাচনী সহিংসতা সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। তিনি বলেন, সবার মধ্যে ভারসাম্য করা কঠিন। আবার সমাজে বিদ্যমান কিছু কিছু সমস্যার সমাধানও অত্যন্ত কঠিন। তবে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা জরুরী। এজন্য ধৈর্য ধরে লেগে থাকার মানসিকতা প্রয়োজন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের কনভেনশন হলে ‘পিস অ্যাম্বাসেডরদের’ জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধে সামাজিক ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ‘পিস অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করেন। দ্যা হাংগার প্রজেক্ট, আইএফইএস, ইউএসএইড ও ইউকেএইডের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের সহযোগিতা করে থাকে। অনুষ্ঠানে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের। অতিথির তালিকায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টম-লীর সদস্য সুরঞ্জিন সেনগুপ্তের নাম থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত আসেন নি। সর্বদলীয় অনুষ্ঠান হলেও সম্মেলনে বিএনপি-জামায়াতের কেউ ছিলেন না। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ২৮ উপজেলা থেকে আসা ৮৪ জন পিস অ্যাম্বাসেডরদের মধ্যে বিএনপির কয়েকজন কর্মী ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে বার্নিকাট সম্মেলনস্থলের সবাইকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ফ্রান্সের প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। অনুষ্ঠানে পিস অ্যাম্বাসেডরদের উদ্দেশে বার্নিকাট বলেন, আমার ৩০ বছরের কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আপনাদের সামনে যে কাজ (ঐক্য গড়া) রয়েছে তা সহজ হবে না। মানুষ অনকে সময় একগুঁয়ে হয়ে যায়। তাদের সঙ্গে সমঝোতা করাও কঠিন হয়ে পড়ে যা কাজের ক্ষেত্রে আপনাদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পরামর্শ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই দূত বলেন, আপনাকে ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকতে হবে। প্রচলিত পন্থায় কাজ না হলে খুঁজতে হবে বিকল্প উপায়। ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার শিক্ষা নিতে হবে। পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান অর্জন করতে হবে। আমাদের পৃথিবী এবং এর মানুষকে বুঝতে পারলে আমরা আরও ভালো ‘শান্তির দূত’ হতে পারবো। বার্নিকাট বলেন, বহুত্ববাদী সমাজে নির্বাচনী সহিংসতা রাতারাতি বন্ধ হবে না। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যত নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

অনুষ্ঠানে জিএম কাদের বলেন, সরকারের প্রভাব, পেশী শক্তি ও অর্থের মাধ্যমে নির্বাচন কলুষিত হয়। নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধে সুশাসন প্রয়োজন। কিন্তু জবাবদিহিতা না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। একদলের নিরবচ্ছিন্ন শাসন মানেই স্থিতিশীল সরকার নয়। মনে রাখতে হবে, ক্ষমতার মালিক হলো জনগণ, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জনগণের তরফে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখা এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরালো করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আজকে আমরা বিভক্ত জাতিতে পরিণত হয়েছি। এই বিভেদ দূর করতে হবে। যারা বিভ্রান্ত তাদেরকে বুঝিয়ে একত্রিত করতে হবে। আর যারা সংঘাত ছড়াচ্ছে তাদেরকে প্রতিহত করার লড়াইয়ে সবাইকে সামিল হতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের চারটি উপজেলার দুই আওয়ামী লীগ নেতা, একজন বিএনপি নেত্রী এবং একজন জাসদ নেতা নিজ নিজ এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।