২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রূপগঞ্জে মহিলা লীগ নেত্রীকে কুপিয়ে ও ছুরি মেরে হত্যা

  • নেপথ্যে দু’কোটি টাকার জমি

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ১৪ নবেম্বর ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বামীসহ প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা আওয়ামী মহিলা লীগ নেত্রী হালিমা বেগম জরিনাকে (৩৫) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত শুক্রবার রাতের যে কোন সময় উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের টেংরারটেক এলাকায় ঘটে এ হত্যাকা-ের ঘটনা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ হালিমা বেগম জরিনার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহত হালিমা বেগম জরিনা ওই এলাকার রশিদ পাটুয়ারীর মেয়ে। তিনি স্থানীয় ভুলতা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের নেত্রী হিসেবে পরিচিত।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, সকালে নিজ বাড়ির পার্শ্বের একটি জমিতে আওয়ামী মহিলা লীগ নেত্রী হালিমা বেগম জরিনার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মৃতদেহটি উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ বছর পূর্বে হালিমা বেগম জরিনার সঙ্গে চাঁদপুরের আনোয়ার হোসেন নামে এক প্রবাসীর বিয়ে হয়। ওই সংসারের হৃদয় (১৫) নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বেশ কয়েক মাস আগে প্রথম স্বামী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে হালিমা বেগম জরিনা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। এরপর গত ৩ মাস আগে উপজেলার হাটাবো টেকপাড়া এলাকার জমির দালাল বিবাহিত নুর মোহাম্মাদের (৪০) সঙ্গে হালিমা বেগম জরিনার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর একটি জমি নিয়ে হালিমা বেগমের সঙ্গে দ্বিতীয় স্বামী নুর মোহাম্মদ ও তার লোকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরেই দ্বিতীয় স্বামীসহ তার লোকজন এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে পরিবারের ধারণা।

নিহত হালিমা বেগম জরিনার বাবা রশিদ পাটুয়ারী জানান, শুক্রবার রাত ৯টায় নুর মোহাম্মাদ নুরু তার ৩ বন্ধুকে নিয়ে তার বাড়িতে আসে। এ সময় হালিমা বেগম জরিনার সঙ্গে নুর মোহাম্মদসহ ওই ৩ বন্ধুর বাকবিত-া হয়। বাকবিত-ার এক পর্যায়ে রশিদ পাটুয়ারী এগিয়ে এলে তাকে চলে যেতে বলা হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিত-ার ফলে রশিদ পাটুয়ারী ওই স্থান ত্যাগ করে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে দেখতে পান একটি জমিতে হালিমা বেগম জরিনার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পড়ে আছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হালিমা বেগম জরিনার বাবা রশিদ পাটুয়ারী ৭০ শতাংশের একটি জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। ওই জমিটির বর্তমান মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি হওয়ার কথা। জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়নি বিধায় মেয়ে হালিমা বেগম জরিনাকে জমিটি ফের প্রকৃত মালিক বকুল রানীর কাছ থেকে ক্রয় করে তা বিক্রি করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। এদিকে, হালিমা বেগম জরিনার অজান্তে তার আপন ভাই দেলোয়ার হোসেন ও সহযোগী স্থানীয় ভূমিদস্যু ইকবাল হোসেন পাওয়ার দলিল মূলে বকুল রানীর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করে নেন। এর পর হালিমা বেগম জরিনার বর্তমান স্বামী নুর মোহাম্মদ, জহির, আজাহার, নাজমুল ও আরব হোসেনের কাছে রেজিস্ট্রি বায়নামূলে বিক্রি করে দেন দেলোয়ার হোসেন ও ইকবাল হোসেন। এ নিয়ে হালিমা বেগম জরিনার সঙ্গে বর্তমান স্বামী নুর মোহাম্মদ, জহির, আজাহার, নাজমুল, আরব হোসেন, ইকবাল হোসেন ও ভাই দেলোয়ার হোসেনের বিরোধ চলে আসছিল। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে হালিমা বেগম জরিনা স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন। আর এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই দ্বিতীয় স্বামী নুর মোহাম্মদসহ প্রতিপক্ষের লোকজন এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী মিসেস হাসিনা গাজী, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল মতিনসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ সময় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) বলেন, হালিমা বেগম জরিনার হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। খুনীরা যেই হোক না কেন তাদের খুঁজে বের করতে হবে। খুনীদের কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।

ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম জানান, ঘাতকরা জরিনাকে অন্য কোথাও মেরে এখানে ফেলে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃতদেহটির পাশে পড়ে থাকা একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হালিমা বেগম জরিনার স্বামী নুর মোহাম্মাদ পলাতক রয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।