২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উন্নয়ন ফোরাম বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে অবকাঠামো খাত

  • আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠকে (বিডিএফ) বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে অবকাঠামো খাত। এ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের চাহিদা-সামর্থ্য এবং সহায়তার বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে। আজ রবিবার পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি শেষ হবে সোমবার। সেই সঙ্গে থাকবে ডেভেলপমেন্ট ফেয়ারও। বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে শনিবার আয়োজন করা হয় সংবাদ সম্মেলনের। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, ইউএসএআইডির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ইয়ানিনা জেরুজালেস্কি ও ইআরডির উপ-সচিব মনোয়ার আহমেদ।

মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে যেতে হলে অবকাঠামো খাতে প্রতিবছর বিনিয়োগ প্রয়োজন জিডিপির ৮ থেকে ১০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগ হচ্ছে জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রয়োজন এবং যোগানোর মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হবে। তাছাড়া বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন লিকুইন, এডিবির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়েঙ্কাই ঝাংসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। সেই সঙ্গে ভারত ও চীনসহ অপ্রচলিত উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। সবার সামনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে। তাছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নের কৌশল, চ্যালেঞ্জ ও ইতোমধ্যেই এমডিজিতে আমাদের অর্জনগুলোও তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে ডেভেলপমেন্ট ফেয়ারও। এতে বিভিন্ন খাতের মোট ৪১টি স্টল থাকবে। এর মধ্যে সরকারী ১৭টি স্টল, উন্নয়ন সহযোগীদের ১৬টি এবং এনজিও ও বেসরকারী সংস্থার ৮টি স্টল থাকবে।

ইয়ানিনা জেরুজালেস্কি বলেন, এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। ২০২১ সালের মধ্যে সরকারের মধ্য আয়ের দেশে যাওয়ার যে স্বপ্ন সে ক্ষেত্রে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য নিরসন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু রোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রগতি গর্ব করার মতো। এসব উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এই বৈঠক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ দুই দিনে সাতটি সেশনে সাতটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই সম্মিলিত সেশনে উপস্থাপন করা হবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এর মাধ্যমেই আগামী পাঁচ বছরে অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সম্পদের বিষয়টি আলোচনা হবে। এ সময় সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং পরিকল্পনা উপস্থাপনা করবেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

দু’দিনে অন্য যেসব এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে সেগুলো হচ্ছে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ : অবকাঠামো উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণ, সুশাসন ও উন্নয়ন : কার্যকরী উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্য ও মানসম্মত শিক্ষা : সকলের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সুরক্ষা : কাউকে অনগ্রসর না রাখা এবং লিঙ্গ সমতাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ধারায় আনয়ন।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ বৈঠক। সেখানে সাতটি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। এর জন্য সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের ৭ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ মূল্যায়ন বৈঠক। সূত্র জানায়, ২০০২ সালে প্যারিসে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এখন থেকে প্যারিসে নয় উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। সে হিসেবে ২০০৩ এবং ২০০৪ সালে ঢাকাতেই বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরোমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পর আর বৈঠক হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এ ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ওই সরকারের জনভিত্তি না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীরা বিডিএফ বৈঠকে বসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। এর পর দীর্ঘ ৫ বছর পর ২০১০ সালে এসে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক।