২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণপিটুনিতে ফরিদপুরে ৪ ডাকাতের মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ১৪ নবেম্বর ॥ ফরিদপুরে শুক্রবার শেষ রাতে গণপিটুনিতে চার ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীডাঙ্গি ও পাশের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে চরদুর্গাপুর গ্রামে গণপিটুনির এই ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত নিহত ডাকাতদের কোন পরিচয় জানা যায়নি। নিহত ডাকাতদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করে গ্রামবাসী পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে। এর আগে ডাকাতিকালে ডাকাতদের অস্ত্র ও লাঠির আঘাতে ৪ জন আহত হয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী থেকে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীডাঙ্গি ও সজনী রায়েরডাঙ্গি গ্রামের পাঁচ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১০/১২ জনের একটি ডাকাত দল প্রথমে সজনী রায়েরডাঙ্গি গ্রামের কবির মোল্লার বাড়িতে ডাকাতি শুরু করে। এ সময় ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে কবির মোল্লার ছেলে আকবর মোল্লা আহত হয়। পরে ডাকাতদল ওই বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নিজাম শেখ ও তার ভাই রশিদ শেখ এবং তাদের প্রতিবেশী মমিন শেখ ও তার ভাই মতিন শেখের বাড়িতে ডাকাতি করে। এ সময় ডাকাতদের অস্ত্র ও লাঠির আঘাতে মতিন শেখ, তার স্ত্রী দুলি বেগম, রশিদ শেখ ও তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম আহত হন। কয়েক বাড়িতে ডাকাতির খবর জানাজানি হয়ে গেলে গ্রামের মসজিদের মাইকে ডাকাতির কথা এবং ডাকাতদলকে প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়। এ সময় কয়েক গ্রামের কয়েক শত গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করে।

গ্রামবাসীদের ধাওয়ার মুখে ডাকাতদলের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে পালাতে থাকে। অন্যরা পালিয়ে গেলেও গ্রামবাসী ভোর ৫টার দিকে চরমাধবদিয়ার চৌধুরীডাঙ্গি এলাকার ধান ক্ষেতে লুকিয়ে থাকা ২ জন এবং পার্শ্ববর্তী ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন চর দুর্গাপুর গ্রাম থেকে আরও ২ জন ডাকাতকে ধরে বেদম পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। নিহত ডাকাতদের সবার বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। গ্রামবাসী তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশের কাছে জমা দেয়।

সকাল ৭টার দিকে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ চারটি উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজিমউদ্দিন জানিয়েছেন, চরমাধবদিয়া ও ঈশান গোপালপুর থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গণপিটুনিতেই তারা নিহত হয়েছে।

ডাকাতি হওয়া বাড়ির মালিক মতিন শেখ জানান, ডাকাত দলটি ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল ডাকাতি করে। পরে আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ডাকাতদের ধাওয়া করে গণপিটুনি দেয়।

চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান ম-ল বলেন, ডাকাত দলটি কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি করার সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা মারা যায়। তিনি বলেন, কয়েকমাস ধরে এ এলাকায় ডাকাতির ঘটনা তেমন একটা না ঘটলেও গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।

ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান চৌধুরী পংকজ বলেন, ডাকাতেরা চরমাধবদিয়ার কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে ২ জন পিটুনির শিকার হয়। পরে দু’ডাকাত পালিয়ে ঈশান গোপালপুরে এলে স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিলে তারা নিহত হয়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, ডাকাতির ঘটনা ঘটার পর গ্রামবাসী ধাওয়া করে চার ডাকাতকে ধরে পিটুনি দিলে তারা মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলিসহ একটি বিদেশী নাইন এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও একটি সিমকার্ড উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।