১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খাল কেটে কুমির আনলে কেউ রক্ষা পাবেন না

  • একে মোহাম্মাদ আলী শিকদার

সম্প্রতি লেখক-প্রকাশক হত্যা এবং কর্তব্যরত পুলিশ হত্যার হৈ-চৈয়ের মধ্যে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ খবর একটু উঁকি মেরে আড়ালে চলে গেছে। গত মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশের প্রায় সকল পত্রিকায় খবর বের হয়, পশ্চিমা বিশ্বের তরফ থেকে বিএনপির পক্ষে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আকিন গাম্প নামক একটি লবিস্ট ফার্মকে বিএনপি নিয়োগ দিয়েছে। যে কাজের জন্য লবিস্ট ফার্মকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার এক নম্বরে আছে বর্তমান সরকার যাতে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার বন্ধে বাধ্য হয় তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বকে কাজে লাগানো। বিএনপি নিচু গলায় এই খবরটি অস্বীকার করেছে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা যেভাবে এসেছে তাতে খবরটির বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে মানুষের মনে সন্দেহ থাকার কথা নয়।

তাছাড়া আগাগোড়া বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে একাধিকবার বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছে। সুতরাং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান সুস্পষ্ট, এতে কারও সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই বিচার বন্ধের জন্য পশ্চিমা বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাওয়া ভিন্ন কথা, গুরুতর কথা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের কথা। এতদিন এই বিচার বানচাল করার জন্য বিএনপি যা করেছে, তার হয়ত একটা সীমা ছিল। কিন্তু এখন সে কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের হস্তক্ষেপের জন্য লবিস্ট নিয়োগের ভয়াবহতা বিএনপি কি বুঝতে পারছে না? নাকি ক্ষমতার লোভে সকল দরজা-জানালায় কপাট লাগিয়ে অন্ধকারে কেবল ক্ষমতা আরোহণের সিঁড়ি ধরার চেষ্টা করছে। অন্ধকারে অন্য কেউ ক্ষমতার সিঁড়ি ধরিয়ে দিলে তার ভবিষ্যত কখনও ভাল হয় না।

অনেকেই বলছেন, দেশের চরম বিভাজনের রাজনীতি থেকে উত্তরণের জন্য সকল পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া দরকার। কথাটি সঠিক এবং অবশ্যই ভাল। কিন্তু শুভ আর অশুভ চিহ্নিত করার ব্যাপারে মানুষ এখন তো আর এক কাতারে দাঁড়াতে পারবে না। কারণ, বিএনপি যা বলবে তাকে সমর্থন দিতে হবে, এর জন্য যুক্তি অজুহাত বের করার ব্যাপারে লোক সর্বদা দ-ায়মান, বুদ্ধিজীবীরও অভাব নেই। অনেকে এখন জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্যের কথা বলছেন। আগেই বলেছি, এটা অত্যন্ত ভাল কথা। কিন্তু একটা উদাহরণ দিই। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল থেকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির হুকুম হলে সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত-শিবির দেশব্যাপী ভয়ঙ্কর তা-ব চালায়। সে সময়ে তারা জাতীয় পতাকায় আগুন দেয় এবং শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ভিন্ন কথা। কিন্তু জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দেয়ার পর ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্ত জাতির কি তখন জামায়াতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো উচিত ছিল না? এর থেকে বড় জাতীয় ইস্যু আর কি হতে পারে। কিন্তু আমরা কি দেখলাম। দেখলাম, জাতীয় পতাকা পোড়ানোর দৃশ্য টেলিভিশনসহ সকল সংবাদ মাধ্যমে দেখানোর পরেও বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে হুকুম দেয়া হলো বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন জামায়াত-শিবিরের আন্দোলনের সঙ্গে যোগ দেয়। ফলে বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবী এবং সুজন-সুশীল সকলে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। জামায়াতের পতাকা পোড়ানো প্রসঙ্গে তারা একটি কথাও বললেন না।

আজ যারা জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন তারা কি একবার জামায়াতের ওই জাতীয় পতাকা পোড়ানোর কথাটি মনে করছেন? এহেন গর্হিত কাজের পরেও জামায়াতের সঙ্গে মিত্রতা বজায় রেখে যারা আজ জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন, তারা কি আসলেই সৎ উদ্দেশ্যে সে কথা বলছেন? বিএনপির ওই অবস্থানের তো কোন পরিবর্তন আজ পর্যন্ত হয়নি। বরং সেই অবস্থানকে তারা আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরছেন, যার সর্বশেষ উদাহরণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বানচাল ও তা বন্ধের জন্য লবিস্ট হিসেবে বিএনপি কর্তৃক আকিন গাম্পকে নিয়োগ। এই অবস্থায় কোন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা কি সম্ভব? বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লবিস্ট ফার্ম আকিন গাম্পকে নিয়োগ দিতে পারে একথা বিশ্বাসের আরও কারণ আছে। ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ওয়াশিংটন টাইমস্্ পত্রিকায় বেগম খালেদা জিয়ার একটা লেখা ছাপা হয়। ওই লেখায় মুক্তিযুদ্ধের তথ্য বিকৃত হয় এবং জিএসপি সুবিধা বাতিলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। লেখাটি ছাপা হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে লেখাটির পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ ও মির্জা ফখরুল যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য দেন। কিন্তু ওই বছরেরই জুলাই মাসে লেখাটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে ব্যাপক হৈচৈ শুরু হয় এই মর্মে যে, দেশের একটি বড় দল, যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, সেই দলের শীর্ষ নেত্রী কি করে জিএসপি সুবিধা বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন। তখন বেগম খালেদা জিয়া (সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী) সংসদে বক্তব্যের মাধ্যমে লেখাটির কথা অস্বীকার করেন, বলেন, লেখাটি তাঁর নয়। বাংলাদেশের প্রধান দৈনিকগুলো সরাসরি ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করেন লেখাটি বেগম খালেদা জিয়ারই, সে কথাও পত্রিকায় ছাপা হয়। তাছাড়া লেখাটির যৌক্তিকতা নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরেও প্রচ- দ্বন্দ্ব ও বাক্বিত-া হয়। এ সম্পর্কে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও বিএনপির উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে বিএনপির অন্য নেতাদের বাক্বিত-ার কথোপকথন ইউটিউবে এবং পরে পত্রিকায় ছাপা হয়।

মূল কথায় ফিরে আসি। যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে লবিস্ট নিয়োগের অর্থ হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত এবং সংবিধানের ওপর হস্তক্ষেপ করার জন্য বিদেশী রাষ্ট্রকে আহ্বান জানানো। এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি বিদেশী হস্তক্ষেপের সমান। জামায়াত শুরু থেকে এই কাজ করছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। জামায়াতের জনসমর্থন নেই, তাদের কাছে মানুষের কোন প্রত্যাশা নেই। তারা তো বাংলাদেশের স্বাধীনতাই মানে না। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির মিত্রতা ও সখ্যের কথা সবার জানা। তাই বলে জামায়াতের মতো বিএনপিও একইভাবে রাষ্ট্রের সংবিধান ও সর্বোচ্চ বিচার ব্যবস্থার ওপর বিদেশীদের হস্তক্ষেপ করার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করবে তা কি ভাবা যায়? এর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে বিএনপির স্বতন্ত্র অবস্থান বলতে কিছু থাকল না। বেদনাদায়ক হলেও সত্য জামায়াত-বিএনপির এই চেষ্টার ফলে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সকল ধৃষ্টতার সীমা অতিক্রম করে মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর বিচারের বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার হওয়া উচিত বলে বিবৃতি দিয়েছে। নিজ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে বিএনপি একেবারে নিশ্চুপ থাকার কারণে এই সত্যটিই প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। এর পরিণতি যে কত ভয়াবহ হতে পারে তার সপক্ষে সম্প্রতি বিশ্ব অঙ্গন ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করছি।

সাদ্দাম হোসেনের আধুনিক, প্রগতিশীল ও কল্যাণ রাষ্ট্র ইরাক আজ ধ্বংসের মুখে, ভেঙ্গে তিন টুকরো হওয়ার পথে। এর পেছনে হয়ত বহুবিধ কারণ আছে। কিন্তু আহমদ সালাবী নামের একজন শিয়া সম্প্রদায়ের ইরাকী নেতা ২০০৩ সালে মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেন এই মর্মে যে, সাদ্দাম হোসেন ব্যাপক জনবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করেছে, যা যে কোন সময়ে পশ্চিমা স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে। সাদ্দামকে উৎখাত করার জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র হাতে পেয়ে যায় মোক্ষম অজুহাত। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্র বোঝায় যে, বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য সাদ্দামকে উৎখাত করতে হবে। তারপরের ঘটনা ও এর পরিণতি আমরা দেখেছি এবং এখনও দেখছি। ইরাকের বৃহৎ অংশ আজ ধর্মান্ধ জঙ্গীগোষ্ঠী আইএসের দখলে। সাদ্দাম ক্ষমতায় থাকলে তা কখনও সম্ভব হতো না। যুদ্ধ সমাপ্তির ১২ বছর পরেও ইরাকের কোন মানুষের নিরাপত্তা নেই। সাধারণ জনপদে বোমা বিস্ফোরণে প্রতিদিন নিহত হচ্ছে শত শত নিরীহ মানুষ। ইরাক পুনর্গঠনের নামে যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট হাউসগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ঠিকাদারি ব্যবসা করছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত ত্রিমুখী যুদ্ধে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক শ’ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জনবিধ্বংসী অস্ত্রের তথ্য ছিল সম্পূর্ণ ভুল। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর প্ররোচনায় ও তত্ত্বাবধানে আহমদ সালাবী এই মিথ্যা তথ্য তৈরি এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কাছে তুলে ধরে। সালাবী ভেবেছিল প্রভু সিআইএ তাঁকে ইরাকের ক্ষমতায় বসাবে। কিন্তু সালাবীর সে স্বপ্ন বাস্তবের মুখ দেখেনি। কয়েকদিন আগে আহমদ সালাবী ইরাকে মারা গেছে। প্রভু সিআইএ এবং নিজ সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর কেউ সালাবীর কোন খবর নেয়নি। বরং ইরাকের জনগণ সালাবীর মৃত্যুর খবর শুনে থু থু ফেলেছে। বিশ্ববাসী জানেন ২০০১ সালে আফগানিস্তান দখল করার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজেদের পছন্দের ব্যক্তি হামিদ কারজাইকে বিশ্ব ব্যাংক থেকে তুলে এনে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়। হামিদ কারজাই ২০০১ সাল থেকে এক নাগাড়ে ১৩ বছর আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ক্ষমতায় বসে হামিদ কারজাই বুঝেছেন যুক্তরাষ্ট্র কি জিনিস। তাই ২০১৪ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব সম্পর্কে সকলে যেন সতর্ক থাকেন। আফগানিস্তানের মানুষের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে যুদ্ধ করেছে।

খাল কেটে কুমির আনলে কি হয় তার আরেক উদাহরণ পাকিস্তান। আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের জন্য এবং আমেরিকার টাকায় ও আফগানিস্তানের ছদ্ম নামে কাশ্মীরের অভ্যন্তরে যুদ্ধের জন্য সশস্ত্র মুজাহিদ বাহিনী তৈরির লক্ষ্যে ২০০১ সালে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সকল সুবিধা প্রদানে সম্মত হয় পাকিস্তান। আফগানিস্তান থেকে তালেবান শাসন হটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের ভূমি ব্যবহারের সর্বাত্মক সুবিধা দেয়। আফগানিস্তানে থেকে তালেবান হটাবার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের নীতি পরিবর্তন করে। কাশ্মীরে মুজাহিদ পাঠানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ঘোর আপত্তি জানায় এবং পাকিস্তানের ভেতরে অবস্থান নেয়া তালেবান জঙ্গীদের ওপর অনুমতি ব্যতিরিকেই নির্বিচারে ড্রোন হামলা চালাতে থাকে, যা এখনও অব্যাহত আছে। ড্রোন হামলায় প্রতিনিয়ত জঙ্গীদের থেকে সাধারণ নিরীহ মানুষই বেশি নিহত হচ্ছে। পাকিস্তান না পারছে গিলতে, না পারছে উগড়াতে।

আফগানিস্তান ও কাশ্মীরে কোন লক্ষ্যই পাকিস্তানের অর্জিত হয়নি। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দী। সুতরাং এমন সব উদাহরণ সামনে থাকার পরও বিএনপি কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে পশ্চিমা বিশ্বে লবিস্ট নিয়োগ করল তা এদেশের মানুষকে উপলব্ধি করতে হবে। বিএনপিকেও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ক্ষমতার লোভে বা অন্য যে কোন কারণেই হোক না কেন, বিদেশী শক্তিকে দেশের অভ্যন্তরে ডেকে আনলে তার পরিণতি থেকে বিএনপিও রক্ষা পাবে না। ক্ষমতায় আরোহণের শর্টকাট রাস্তা সব সময়ই বিপজ্জনক। সাময়িক সুবিধা পেলেও শেষ বিচারে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপিত হবে। মীর জাফরকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিভাবে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল তা এখন ইতিহাসের অংশ হলেও ইরাকের আহমদ সালাবীর উদাহরণ এখনও জ্বলন্ত, পুরনো ইতিহাস নয়।

লেখক : ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক