২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষকের স্বার্থ রক্ষা

কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষাকে প্রাধান্য দেয়ার সুফল দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। প্রতিবছরই বাম্পার ফলন হচ্ছে। ষোলো কোটি মানুষের দেশটিতে নানা কারণে প্রতিবছর কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পেলেও মাটির উর্বরতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কুশলী কৃষকরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতার দিকে নিয়ে গেছেন। সরকারের নীতি এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হয়েছে। বীজ ও সারের কোন সঙ্কট নেই। কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ফলন বেশি হলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে সরবরাহে ঘাটতি থাকবে না। সেক্ষেত্রে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটা আশঙ্কাও উঁকি দিয়ে যায়। আবার আমদানিকৃত ফসল, বিশেষ করে চালের মূল্য তুলনামূলক কম দামে বাজারে সরবরাহ করা হলে সেক্ষেত্রেও কৃষকের ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বলাবাহুল্য, কৃষকদের স্বার্থরক্ষাকারী কৃষিবান্ধব সরকার এসবের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখে।

ফি বছর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বোরো ফসল ওঠার সময়টায় আমরা ধানের দাম বাড়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে থাকি। এবার ঘটে তার উল্টো, দাম কমেছিল। অপরদিকে চালের পাইকারি মূল্য কমে যায় ৭ থেকে ৯ শতাংশ। প্রতি কেজি চাল বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ টাকা এবং গম ৮ টাকা বেশি দরে সংগ্রহ করার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কৃষকের উৎপাদন খরচের চেয়ে ২০ শতাংশ মুনাফা দিয়ে নির্ধারণ করা হলেও সেই দামের সুফল কৃষক পেতে কিছুটা অসুবিধা হয় মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে। ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করার কারণেও সমস্যা হয়। অভিজ্ঞ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সমস্যা সমাধানে সে সময়ে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ধানের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে বাজারমূল্য না বাড়ানো হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। এ অবস্থায় কৃষককে সুরক্ষা দিতে হলে বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার বিকল্প থাকে না। আবার নিকট অতীতে দেশে যথেষ্ট ধান উৎপাদিত হওয়া সত্ত্বেও ভারত থেকে চাল আমদানি করে কৃষকদের বিপদগ্রস্ত করে তুলতেও দেখেছি আমরা। এ কথা অনস্বীকার্য, ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানির কারণে কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে গত মে মাসে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে এখন সেই চাল আমদানির শুল্ক আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি এবার বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩১ টাকা কেজি দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহ করছে সরকার। সরকারের এসব সিদ্ধান্ত কৃষককে অবশ্যই সুরক্ষা দেবে। আরেকটি বিষয়, এখন পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে দেশের গুদামগুলোয়। তাই আসন্ন আমন মৌসুমে নতুন করে চাল গুদামজাত করার ক্ষেত্রে স্থান সঙ্কট হতে পারে। এ সঙ্কটের ব্যাপারে সরকার সচেতন বলেই কম মূল্যে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা মনে করি কার্ডের মাধ্যমেও দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণের সুযোগ আছে। খাদ্য নিরাপত্তা দেয়ার জন্য তা প্রয়োজনও বটে। তাছাড়া গ্রাম পর্যায়ে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচীর ধরনে ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমেও শ্রমমূল্য হিসেবে চাল প্রদানের সুযোগ কাজে লাগানো যায়। তবে খাদ্য সংরক্ষণে আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরে এখনই দৃষ্টি দেয়া দরকার। কৃষকের মুখের হাসি অমলিন রাখার জন্য এ সব বিবেচনায় রাখতে হবে।