২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আসছে নবান্ন ॥ বেড়েছে কুলা ডালা ধামার কদর

সমুদ্র হক ॥ রাতে পোহালেই অঘ্রাণ। নতুন ধানের মাড়াই কাটাইয়ের সঙ্গে নবান্নের বাদ্য বেজে এখন দুয়ারে। গ্রামের গৃহস্থ ও কিষান ঘরে বইছে উৎসবের আমেজ। এই সময়ে প্রয়োজন বাঁশের তৈরি ধামা কুলা চালুন ডালাসহ নানা কিছু। ধান ভেনে ভরাতে হবে ডালায়। তার আগে ধামায় নিতে হবে হিসাবের জন্য। গ্রামীণ জীবনে আজও ধামায় ধান হিসাবের পদ্ধতি চালু আছে। প্রতিটি ধামায় সাধারণত ৫ কেজি করে ধান ওঠে। নানা মাপের ধামাও আছে। ডালারও অনেক ধরন। ছোট বড় মাঝারি। অগ্রহায়ণ আর পৌষ মাসে ধান চালের কাজের জন্য এসব জিনিসের দরকার। কুলা তো লাগবেই, তা ধান ঝেরে নেয়ার কাজই হোক আর চাল ঝাড়ার কাজেই হোক। এর বাইরে নানা কাজে কুলার কদর আলাদা। বিয়েশাদির অনুষ্ঠানে বরণ ডালার সঙ্গে, বরকণের পানচুনিতে, হলুদ অনুষ্ঠানে কুলা থাকতেই হবে। কুলা ডালা সাজাতেও হবে জরি দিয়ে মালা দিয়ে। না হলে আয়োজন হবে না। শীতের সময়টায় বিয়েশাদির অনুষ্ঠানও বেড়ে যায়। গৃহস্থালি কাজে ডালা ও কুলার কদর সবচেয়ে বেশি। ঘর গেরস্তালিতে কোন ডালায় চাল, ডাল কোন ডালায় কাঁচা তরিতরকারি রাখা হয়, তা গ্রামেই হোক আর শহরেই হোক। সংসার জীবনে বধূদের কাছে হেঁসেলের পাড়ে রান্নাঘরে এই জিনিসগুলো না হলেই নয়। শীতের মৌসুম শুরুর আগে গ্রামের হাটবাজারে বাঁশের তৈরি এসব জিনিস সাজিয়ে নিয়ে বসে কারিগররা। বগুড়ার সবচেয়ে বড় ওমরপুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিকের একেবারে শেষ প্রান্তে ডালা কুলা ধামাসহ নানা জিনিসের বেচাকেনা বেড়েছে। প্রতিটি পণ্য ৩০ টাকা থেকে এক শ’ টাকা দরের মধ্যে (মান অনুযায়ী)। দোকানিরা বললেন এসব জিনিসের বেচাকেনারও মৌসুম আছে। তাহলো শীতের সময়টা। ধান মাড়াই কাটাই নবান্নের উৎসবকে সামনে রেখে বেচাকেনা বাড়ে। তা চলে অনেকটা সময় ধরে। গ্রামীণমেলাগুলোতেও ডালা কুলা ধামার চাহিদা আছে। হালে এসব পণ্য বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। বড় এক্সপোর্টাররা গ্রামের হাট থেকে এগুলো কিনে বিদেশে পাঠাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রাও আসছে আবার বাঙালীর শিকড়ের সংস্কৃতির পরিচিতি ঘটছে বিদেশ বিভূঁইয়ে।