২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আয়োজকদের মধ্যে মতবিরোধ তুঙ্গে

  • ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল লীগ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলের উন্নয়নকল্পে গত আগস্টে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইভেন্ট গ্রুপ ম্যানেজমেন্ট ‘সকার লীগ ইন্টারন্যাশনাল’ (এসএলআই)। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আয়োজনে প্রিমিয়ার লীগের সঙ্গে আগামী দুই বছরের জন্য সম্পৃক্ত হবার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে এসএলআইয়ের। লন্ডনের এই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ২০১২ সালেই ঢাকায় এসেছিলেন বাংলাদেশে ফ্রাঞ্চাইজি ফুটবল লীগ আয়োজন করতে। সে সময় আলোচনা বেশিদূর গড়ায়নি। তবে গত আগস্টে বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিনের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়। যদিও তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ‘বাংলাদেশ সুপার সকার লীগ’-এর বাস্তবায়ন আপাতত হচ্ছে না। কেননা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে সালাউদ্দিন তখন রাজি করিয়েছিলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল নিয়ে কাজ করার। এসএলআইয়ের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে রাজিও হন। শনিবার এসএলআই-এর চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কবির এবং পরিচালক জিলু মিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিলিত হন। সেখানে কবির বলেন, ‘আমাদের সব কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। এগুলোর একটি হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) যেভাবে প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল আয়োজন করে, কিভাবে ও কত টাকা ব্যয় করে সবকিছু চালায় সেটা পর্যবেক্ষণ করা। এরপর আমরা বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি বৈঠকে মিলিত হই।’

বৈঠকের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন কবির, ‘বৈঠকের বিস্তারিত এখনই বলা যাবে না। তবে যেটুকু আলোচনা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে বলতে পারি বাফুফের সঙ্গে অর্থ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আমাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’

রবিবার ঢাকার তিনটি ক্লাব পরিদর্শন করতে যাবেন কবির-জিলু। এগুলো হলো ঢাকা মোহামেডান, ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং রহমতগঞ্জ। একদিনে সব ক্লাব পরিদর্শন করার ইচ্ছা থাকলেও জ্যাম এবং দূরত্বের কারণে সেটা সম্ভব নয়। কবির বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব পরিদর্শন করেছি। ওটাকে শীর্ষস্থানীয় ক্লাব বলেই মনে হয়েছে। আমাদের প্ল্যান হচ্ছে টপ ক্লাব, মিডল ক্লাব এবং লোয়ার ক্লাবগুলোকে চিহ্নিত করে ক্লাবগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা।’

কবির আরও যোগ করেন, ‘আমরা এই লীগ আয়োজন করতে আগ্রহী। এতে বাফুফে এবং বাংলাদেশের ফুটবল ক্লাবগুলো উপকৃতই হবে।’

তবে আয়োজনের সময় নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বাফুফে চাইছে ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত হোক এই লীগ। তবে এসএলআইয়ের সুবিধা হবে যদি আগস্টে শুরু করা যায়। কেননা ওই সময় বিশ্ব ক্লাব ফুটবলে উইন্ডো ট্রান্সফারের সুযোগ থাকে। আগস্টে শুরু করা গেলে বাইরের খেলোয়াড়দের পক্ষে এই লীগে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া বর্ষা মৌসুম এবং মাঠ সমস্যাও একটা ব্যাপার। আয়োজনের সময়টা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ‘আমাদের পরামর্শ থাকবে বাফুফের প্রতি যেন আগস্টেই সবকিছু হয়। আশাকরি এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ কবিরের আশাবাদ।

মূলত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগকে আরও আকর্ষণীয় করা, লীগকে বিপণন করা এবং লীগের তহবিলের যোগান দেয়াÑ এসব দায়িত্বই পেতে যাচ্ছে এসএলআই। তবে সবকিছুই এখনও আছে প্রাথমিক পর্যায়ে। বাংলাদেশে ফ্রাঞ্চাইজি লীগ আয়োজনের ইচ্ছা নিয়ে আসলেও মূলত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ নিয়েও কাজ করার পূর্ব পরিকল্পনাও প্রতিষ্ঠানটির ছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

ইন্ডিয়ান সুপার লীগের (আইএসএল) আদলে বাংলাদেশে এই লীগের নাম তারা দিতে চায় বাংলাদেশ সুপার সকার লীগ (বিএসএসএল)। লীগ আয়োজনে বাংলাদেশের কোন স্পন্সর না পেলেও চলবে তাদের। কেননা তাদের সঙ্গে বৈশ্বিক অনেক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপ চুক্তি রয়েছে। তবে এ ধরনের লীগ আয়োজনের অভিজ্ঞতা তাদের না থাকলেও বাংলাদেশে তারা সফল হতে বদ্ধপরিকর। সেটাতে সক্ষম হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এরকম লীগ আয়োজিত হবে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। এই লীগ আয়োজনে বাফুফে ছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা লাগবে তাদের। সামগ্রিকভাবে সব পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলে এদেশের ফুটবল লাভবান হবে বলেই মনে করছেন বাফুফের কর্মকর্তারা।