২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিম্বাবুইয়েকে ফের হোয়াইটওয়াশের লড়াই আজ

মিথুন আশরাফ ॥ মাত্র তিনদিনের ব্যবধান। এরমধ্যে একই প্রতিপক্ষকে টানা দুইবার হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব গড়তে পারে বাংলাদেশ। সেই হাতছানি দিচ্ছে। এজন্য আজ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে জিম্বাবুইয়েকে শুধু হারাতে পারলেই হয়ে যায়। তাহলে তিনদিন আগে বুধবার যে তৃতীয় ওয়ানডেতে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ, চারদিনের মাথায় টি২০তেও চিগুম্বুরাদের হোয়াইটওয়াশ করে দেবে মাশরাফিরা। প্রথম ওয়ানডেতে ১৪৫ রানে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫৮ রানে, তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬১ রানে জিম্বাবুইয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। এরপর শুক্রবার প্রথম টি২০তেও ৪ উইকেটে জিতে যায়। এখন টি২০ সিরিজেও জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে বাংলাদেশ?

প্রথম টি২০তে জিম্বাবুইয়ে খারাপ ব্যাটিং করেছে। এক ম্যালকম ওয়েলার ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি। আর তাই জিম্বাবুইয়ে ১৩১ রানের বেশি করতে পারেনি। কিন্তু যদি আর ২০ থেকে ৩০টি রান বেশি হত তাহলে ভালভাবেই বিপদে পড়তে পারত বাংলাদেশ। এ রান তুলতে গিয়ে ৫ উইকেট যে দ্রুতই হারিয়ে ফেলেছিল তারা। ৮০ রানেই দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়, সাব্বির রহমান রুম্মন, মুশফিকুর রহীম, নাসির হোসেন ও তামিম ইকবালকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর লিটন কুমার দাস ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং মাশরাফি বিন মর্তুজা মিলে যদি ভাল কিছু না করতে পারতেন, কোনভাবে হোঁচট খেতেন; তাহলেই বিপদ ঘনিয়ে আসত। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে দল জয় তুলে নেয়। কিন্তু আরও কিছু রান স্কোরবোর্ডে জমা থাকলে বাংলাদেশ বিপত্তিতে পড়ত বলাই যায়। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য প্রথম টি২০ থেকে শিক্ষা নিতে চান। দ্বিতীয় টি২০তে আরও ভাল করতে চান। সেই ভাল অবশ্যই জয়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে। বলেছেন, ‘আমরা ১৩০ রান তাড়া করতে গিয়ে এভাবে ব্যাটিং করতে চাইনি। স্বাভাবিক ব্যাটিং করলে জিততে পারতাম। খুব তাড়াহুড়ো করেছি। তারপরও জয়টা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এরকম চাইনি। সামনের ম্যাচে (দ্বিতীয় ম্যাচে) সুযোগ আছে। আশা করছি সবাই পরিকল্পনা করে খেলবে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘ছয় ওভারে টি২০তে মারতেই হবে। আমরা ৪৭ করে ফেলেছিলাম। তারপর আর মারা উচিত হয়নি।’ মাশরাফি দ্বিতীয় টি২০র আগে সতর্ক হয়ে গেছেন। এখন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা সতর্ক হলেই হয়। তাহলে জিম্বাবুইয়েকে হারানো খুব কষ্টের হবে না। অবশ্য সামনে টি২০ বিশ্বকাপ আছে। এর আগে এশিয়া কাপও আছে। যেটিও হবে টি২০ ফরমেটে। এ দুটি টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। বলতে গেলে, বাংলাদেশ এখন থেকেই পুরোদমে টি২০ খেলার মধ্যে ঢুকে গেছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলটি যেহেতু জিম্বাবুইয়ে, একটু একাদশ ওলট-পালট করে ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগও আছে। এরপর আর সেই সুযোগ মিলবে না। বাংলাদেশ দল তাই করতে চেয়েছে। আরাফাত সানিকে বসিয়ে রেখে জুবায়ের হোসেন লিখনকে খেলানো হয়েছে। যিনি কিনা ক্যারিয়ারের প্রথম টি২০ ম্যাচের প্রথম ওভারেই ১৭ রান দিয়েছেন। অবশ্য দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন। আবার সাব্বির রহমানকে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়েছে। মাশরাফি এসবের ব্যাখ্যা দিলেন এমন করে, ‘সবাইকে দেখার এটাই শেষ সুযোগ। (আরাফাত) সানি বাংলাদেশ দলের এখন সেরা বোলার। প্রথম ম্যাচ ছিল বলে জুবায়ের একটু চাপে ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ হলে কিছুটা রিল্যাক্স থাকত। চাপের মধ্যেই খেলোয়াড়কে দেখার সুযোগ থাকে। প্রথম ওভার কঠিন ছিল। দ্বিতীয় ওভারে সে ভালমতো কামব্যাক করেছে। সাকিব (আল হাসান) নাই বলে রুম্মনকে নিয়ে আসা (তিন নম্বরে) হয়েছে।’ বাংলাদেশ দল আজও জয় চায় জিম্বাবুইয়েকে টি২০ সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ করার জন্য। জিম্বাবুইয়ে দলও জয় চায়। কিন্তু এ জয়টি চায় যেন অন্তত বাংলাদেশে এসে একটি জয় নিয়ে জিম্বাবুইয়ে যেতে পারে। প্রথম টি২০তে জিতেছে বাংলাদেশ। তবে পুরো ম্যাচে বিনোদন যাকে বলে সেটি দিয়েছেন ওয়েলার। অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। ধুন্ধুমার ব্যাটিং করেছেন। এক ওভারে ১৭ রান ও আরেক ওভারে ২০ রান নিয়েছেন। একাই ২ ওভারে ৩৭ রান নিয়েছেন। যেখানে জিম্বাবুইয়ের রান ৯ ওভারে ছিল ৩৯, সেখানে ওয়েলার টানা দুই ওভারে ৩৭ রান নিয়ে ১১ ওভারের সময় জিম্বাবুইয়েকে ৭৬ রানে নিয়ে গেছেন। ২০ বলে অর্ধশতক করে জিম্বাবুইয়ের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টি২০তে সবচেয়ে কম বলে অর্ধশতকও করেছেন। ৩১ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। তাই ম্যাচ সেরাও হয়েছেন ওয়েলার। এ ব্যাটসম্যান মনে করেন, ‘আমাদের একটি জয় খুবই প্রয়োজন। যে করে হোক জয় চাই। একটি জয় নিয়ে দেশে যেতে চাই।’ যে জয় পাওয়ার সুযোগ আজই। জিম্বাবুইয়ে অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই আছেন। গতবছর শেষের দিকে যখন বাংলাদেশে খেলতে এসেছেন, তখনও দলকে টানা হারতে দেখেছেন। তিন টেস্ট ও পাঁচ ওয়ানডের সবকটিতে হেরেছে জিম্বাবুইয়ে। ওয়ানডেতে তখন চিগুম্বুরার নেতৃত্বেই খেলেছিল জিম্বাবুইয়ে। আবার যখন বাংলাদেশে এসেছেন খেলতে, তখনও শুধুই হার হচ্ছে নিয়তি। টানা চার ম্যাচ হেরে গেছেন। এবারের সফরে আজকের ম্যাচটিই জিম্বাবুইয়ের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচটিতে তাই চিগুম্বুরাও জয় তুলে নিতে চান। খালি হাতে দেশে ফিরতে চান না। শুধু বলেছেন, ‘আমরা ইতিবাচক থাকতে চাই।’