১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশী বন্ধুদের সঙ্গে ১৫ দিন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের শেষবর্ষে অধ্যয়নরত চারজন শিক্ষার্থী জাপানের শিনশু বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যাসো সংগঠনের সহায়তায় জাপানে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়। তারা হলেন- রাহাত, বারী, তানজিনা, আইরিন। জাপানী-কুরাতা, উদয়, ক্যান্ট্রি, কুমী ছাড়াও আরও দুইটি দেশ থেকে ৪ জন করে শিক্ষার্থী থাইল্যান্ড চক, মিন্ট, প্রলয়, অর্পণ কিম কেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে ড্যানী, আজিজা, ট্রয়া, গিনিও থেকে মোট ১২ জনের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম প্রোগাম ছিল।

১৫ দিনের সফরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ক্লাস, ল্যাব এক্সপেরিমেন্ট, মাঠ পরিদর্শন, সেমিনার, প্রেজেন্টেশন, মাঠে প্রত্যক্ষ কাজ, পার্টি, এক্সকারশনসহ আরও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক কাজ। জাপানের আবহাওয়া থেকে শুরু করে সংস্কৃতি, বাসস্থান, খাদ্য, আচরণ সবকিছুুই বাংলাদেশ থেকে ভিন্ন। কি অদ্ভুত এবং সুশৃঙ্খল দেশ, না দেখলে কাউকে বোঝানো বেশ মুশকিল।

প্রথমদিকে ওদের আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মিল রেখে চলতে একটু কষ্ট হলেও পরবর্তীতে মোটামুটি সবই খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি আমরা।

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জাপান জাপানই। জাপানের কাছে আমাদের অনেক কিছু শেখার ও জানার আছে। জাপানীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী জাতি। মানবিক গুণাবলীতে ভরপুর জাপানীরা মানবসেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিতে কখনও ভোলেন না। সুশৃঙ্খল জাতি হিসেবেও তারা বিশ্বে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির সবকিছুই দর্শনীয় এবং আকর্ষণীয়।

জাপানের যা দেখেছি এবং শিখেছি তা দেশের মানুষের কল্যাণে লাগাতে পারলেই আমাদের সার্থকতা। জাপানীরা শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, সবক্ষেত্রে কথা কম বলে, কাজ করে বেশি। পরিশ্রমী এবং পড়ুয়া জাতি হিসেবে পৃথিবীতে তাদের সুনাম রয়েছে। শৃঙ্খলাবোধই জাপানীদের উন্নতির মূল কারণ।

এই প্রোগামের মাধ্যমে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক যোগাযোগই বাড়েনি বরং প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্যবহারিক জ্ঞান, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলতে শিখিয়েছে। যা কিনা ভবিষ্যতেও আমাদের জন্য ঢালস্বরূপ হিসাবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ-জাপানের বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক এবং শুধু তাদের বন্ধুত্বই নয়, বরং তাদের কাছ যা কিছু শিক্ষণীয় আছে তা আমাদের জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে কাজে লাগুক-এমনই প্রত্যাশা।

আবুল বাশার মিরাজ