২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার কোটি টাকা

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত থাকায় বাজার মূলধনের পরিমাণও কমছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা নেমে এসেছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকায়। বাজার মূলধন কমার এ হার প্রায় ২ শতাংশ।

সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য খবরগুলোর মধ্যে ছিল কলমানির সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসা। খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরেই আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সুদের হার নিম্নমুখী। ঋণ প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ না হওয়ার পাশাপাশি কর্পোরেটদের জন্য বিদেশী ঋণের পথ সহজ হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য বাড়ছে। প্রায় দুই মাস ধরে দেশে কলমানির সুদের হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে অবস্থান করছে।

এদিকে বাজারের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা কাটছে না। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রায় ৬-৭ হাজার কোটি টাকার নিট শেয়ার বিক্রির বাধ্যবাধকতাই টানা দরপতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। অক্টোবরের শেষ দিকে ছয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয় সভায় ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বিষয়টি উত্থাপন না করলেও বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবির মুখে গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি)।

এরপর বুধবার সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার-সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি। এজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সম্ভব না হলে প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করে সময়সীমা বাড়ানো যায় কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫০৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ০.৯৬ শতাংশ।

গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮৪.৩৩ শতাংশ লেনদেন হয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে। এছাড়া ৩.৫৬ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ১০.৪৮ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং ১.৬৪ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে লেনদেন হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেয়া অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমেছে। ৩২৫টি ইস্যুর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ২৪৫টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টির দর। বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমে যাওয়ায় বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর তিন সূচকেরই পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৬৮.৫৮ পয়েন্ট। সূচক পতনের এ হার ১.৫২ শতাংশ। ৪ হাজার ৫০২.১৬ পয়েন্ট দিয়ে সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছিল। সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৩৩.৫৮ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে সূচক কমেছিল ৬২.৩৩ পয়েন্ট।

এছাড়া ডিএসই ৩০ সূচক ১.৩০ শতাংশ বা ২২.২৮ পয়েন্ট কমে ১৬৮৯.০৮ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ১.৫৭ শতাংশ বা ১৭.০১ পয়েন্ট কমে সপ্তাহ শেষে ১০৬৭.৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সপ্তাহ শেষে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে তিতাস গ্যাস। আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৫.১২ শতাংশ লেনদেন কমে গেলেও শীর্ষস্থান অক্ষুণœ রয়েছে এ কোম্পানির। সপ্তাহজুড়ে এ কোম্পানির ১২৯ কোটি ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৮.৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে তিতাস গ্যাসের। অপরদিকে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইফাদ অটোস। এ কোম্পানির ৮৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে, যা বিদায়ী সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৬ শতাংশ। অপরদিকে ৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা লেনদেনের ফলে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মা। লেনদেনে এরপর রয়েছে যথাক্রমে- সাইফ পাওয়ারটেক, ইউনাইটেড পাওয়ার, কেডিএস এক্সেসরিজ, কাশেম ড্রাই সেল, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো।