১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ॥ এসেছিলেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ॥ এসেছিলেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ

অনলাইন ডেস্ক॥ ঢাকায় শনিবার রাতেই শেষ হয়েছে, তিন দিনের এক বড়সড় সঙ্গীত উৎসব।

‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ নামে এই সঙ্গীত আয়োজনটি ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে চলেছে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত।

শুক্রবার রাতে এই উৎসব দেখতে সেখানে জড়ো হয়েছিল অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

তিন দিন ধরে চলা এই সঙ্গীত আয়োজন চলার সময়, বহু মানুষকে দেখা গেছে এই অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ফেসবুকে বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সেলফি, চেকইন এবং নানারকম স্ট্যাটাস পোস্ট করতে।

এর এক সপ্তাহ আগেই ঢাকায় আরেকটি সঙ্গীত আয়োজন ‘জ্যাজ অ্যান্ড ব্লুজ ফেস্টিভ্যালেও’ দেখা গেছে এরকম বহু মানুষের উপস্থিতি।

আর 'বেঙ্গল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল নামে' কয়েক বছর ধরে চলা ধ্রুপদী সঙ্গীতের এক আন্তর্জাতিক বার্ষিক আয়োজনে তো সারারাত ধরে হাজার হাজার মানুষকে সমবেত হতে দেখা গেছে।

এমনকি ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রচণ্ড উত্তাল ও সহিংস হওয়া সত্ত্বেও প্রায় সারারাতই হাজার হাজার মানুষকে ধ্রুপদী সঙ্গীতের ওই আসরে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

টানা হরতালের মধ্যেও এই উৎসবের ভেন্যুর বাইরের সড়কে রাতভর পার্কিং করা থেকেছে কয়েক হাজার গাড়ি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই হাজার হাজার মানুষ, এরা কি সবাই ধ্রুপদী সঙ্গীত প্রেমী? কিংবা পল্লী গীতির ভক্ত? জ্যাজ বা ব্লুজ সঙ্গীতের আসর বসবার আগেই বা এই সঙ্গীত সম্পর্কে কতটা জানতো বাংলাদেশের মানুষ?

তরুণ লেখক ও বেতার ভাষ্যকার আশিফ এন্তাজ রবি বলছেন, "আমি ঢাকা শহরের সঙ্গীত প্রেমীদের উৎসাহকে, আকর্ষণকে কোনোভাবে খাটো করতে চাইছি না। কিন্তু অধিকাংশের ক্ষেত্রে এটা কেবল সঙ্গীত প্রেম নয়"।

“ঢাকায় কোন নাইট লাইফ নেই। রাতের বেলা পরিবারকে নিয়ে নিরাপদে যেতে পারি এমন কোনও জায়গা আসলেই আমাদের নেই”।

“সেখানে গেলে বিরক্ত করার কেউ নেই, স্বল্পমূল্যে খাবার সেখানে পাওয়া যায়, সারারাত সেখানে থাকা যায়, আড্ডা মারা যায়, সঙ্গীতের চাইতে এই ব্যাপারটা বেশী চিত্তাকর্ষক বলে আমার কাছে মনে হয়”, বলছিলেন মি. এন্তাজ।

এসব উৎসবে যোগ দেবার একটি মূল অনুষঙ্গ হিসেবে সেলফি বলে পরিচিত মোবাইল ফোনে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করার ব্যাপারটি উল্লেখ করেন মি. এন্তাজ।

তিনি নিজের একটি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, “আমি এরকম মানুষকেও দেখেছি, গান শুনতে এসেছেন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সেলফি-টেলফি তুলছেন, আবার চট করে বাসায় গিয়ে শাড়িটা বদলে এসেছেন”।

সূত্র : বিবিসি বাংলা