২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী মহাসমাবেশ ৪ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেশত্যাগের ধারা এখনো পাকিস্তান আমলের মতো এমন অভিযোগ করে সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে জাতীয় সংসদে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষা, সম-অধিকার ও সম-মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী মহাসমাবেশ’র ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। ৪ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলা একটায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে জাতীয় ঐক্যমতের দাবীনামা উত্থাপিত হবে।

রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে কমিশন গঠনের দাবি ও অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশ আয়োজনের এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রানা দাশগুপ্ত বলেন, পাকিস্তান আমলের মতো এখনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিশ্চিহ্ন করার পক্রিয়াটি চলছে। দুটি শক্তি এ পক্রিয়াটি অব্যাহত রেখেছে। একটি পক্ষের লক্ষ্য রাজনৈতিক। আর অন্য পক্ষটি ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষে নির্যাতন চলিয়ে যাচ্ছে। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেশত্যাগের ধারা পাকিস্তান আমলের মতোই। সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের আজ পর্যন্ত একটি বিচারও হয় নি। এমতাবস্থায় নির্যাতন বন্ধ করতে সংসদে একটি কমিটি গঠন করে সংখ্যালঘু কমার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হোক।

তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশে ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ সংখ্যালঘুর বসবাস ছিল। ২০১১ তে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। পাকিস্তান ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্জিত হলে সংখ্যালঘু জনজীবনের কাঙ্খিত পরিবর্তন ঘটে নি। পাকিস্তানের পরিসংখ্যানের মত বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোও সংখ্যালঘু কমার একই রকম ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরাজনৈতিক লুটেরা শক্তি সহায়সম্পদ গ্রাসের চেষ্টা চালিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সংখ্যলঘুদের পঙ্গু করতে চায়। আপামর ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক পরিমন্ডলের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রানা দাশগুপ্তের।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ৬ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে আমরা বলেছিলাম, আমরা ভালো নেই, শান্তিতে নেই, স্বস্তিতে নেই। বাস্তবিক অর্থে বিদ্যমান সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আমরা আরো উদ্বেগাকুল ও উৎকন্ঠিত হয়ে পড়েছি। তিনি সংখ্যালঘু হামলার কয়েকটি উদাহরণ টেনে বলেন, অব্যাহতভবে ভয়ের সংস্কৃতি সংখ্যালঘুকে ক্রমাগত গ্রাস করে আশাহীন ও আস্থাহীন করে তুলছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ, নিমচন্দ্র ভৌমিক, সুব্রত চৌধুরি, তাপস পাল, সাবিত্রী ভট্টাচার্য ও পদ্মাবতী দেবী।

নির্বাচিত সংবাদ