২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর নির্বাচনে মেয়ররা দলীয় প্রতীকে, নির্দলীয় ভোট কাউন্সিলর পদে

  • অধ্যাদেশ রহিত করে সংসদে বিল উত্থাপন

সংসদ রিপোর্টার ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে শুধুমাত্র মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ রেখে রবিবার জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০১৫ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি উত্থাপনের ফলে পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলরদের দলীয় প্রতীক থাকছে না। কাউন্সিলরদের পদে নির্দলীয় ভোট হবে। শুধু মেয়র পদের প্রার্থীরা স্ব স্ব দলের রাজনৈতিক দলের প্রতীক বরাদ্দ পাবেন।

সংসদে সম্পূরক কার্যসূচীর অনুযায়ী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী তিন দিনের মধ্যে সংসদে উত্থাপনের জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সপ্তাহেই সংসদে আলোচিত বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশোধিত বিলে কাউন্সিলরদের দলীয় মনোনয়নের বিধানটি বাদ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সংসদে পৃথক দুটি বিল পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত উত্থাপিত পাস হওয়া দুটি বিল হচ্ছে উন্নয়ন সারসার্জ ও লেভি (আরোপ ও আদায়) বিল, ২০১৫ এবং বাংলাদেশ কয়েনেজ (এ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৫। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিল দুটি ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পৌরসভা নির্বাচনের আইন সংশোধন করে গত ২ নবেম্বর অধ্যাদেশ জারির দুই সপ্তাহের মাথায় তা রহিত করে ওই আইনের সংশোধন আনা হলো। সেক্ষেত্রে কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগটি বাদ দিয়ে শুধু মেয়র পদে দলীয়ভাবে ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে উত্থাপিত বিলে। কাউন্সিলর পদে আগের মতোই নির্দলীয়ভাবে ভোটের সুযোগ বহাল থাকল।

সংশোধিত বিলে বলা হয়েছে, পৌরসভা নির্বাচনের অংশগ্রহণের জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৫ রহিত হবে।

অধ্যাদেশে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের দল মনোনীত প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তাতে ছিলÑ কোন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিল পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ২০০৯ সালের আইনে পৌর মেয়রদের প্রার্থিতার জন্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এ রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রার্থী মনোনয়নের বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন। এ জন্যে রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট করে তাদের অংশগ্রহণ করার বিধান সংযোজন করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ হতে রাজনৈতিক দলের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দলীয়ভাবে মনোনীত প্রার্থীগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তিনি জানান, এতে প্রার্থীদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং যথাযথভাবে রাজনৈতিক অঙ্গীকার পালনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এই প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে জনগণকে আরও বেশি সেবা প্রদানে তৎপর থাকবেন। এক্ষেত্রে তাকে মনোনয়ন প্রদানকারী রাজনৈতিক দল তাদের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে এবং জনস্বার্থে প্রতিপালনে তার কর্মকা- নজরদারির আওতায় রাখতে পারবে।

ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর জন্য অপেক্ষা না করে এ আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয় গত ২ নবেম্বর। ৮ নবেম্বর সংসদের অষ্টম অধিবেশনের প্রথম দিন তা উপস্থাপন করা হয়। পরে ৯ নবেম্বর স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইনÑ ২০১৫’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এ ধারাবাহিকতায় রবিবার সংসদে সংশোধিত বিলটি উপস্থাপিত হলো।