১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বাতিলের সুযোগ নেই

  • নতুন বেতন স্কেলে আইনী জটিলতা

তপন বিশ্বাস ॥ একই তারিখে ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে এক বছর তা বন্ধ রাখা এবং কর্মরত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড বন্ধ করার আইনানুগ সুযোগ সীমিত। কেউ কেউ একে চাকরির বিধিমালা পরিপন্থী বলেও আখ্যায়িত করছেন। টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড বাতিল এবং এক বছর ইনক্রিমেন্ট প্রদান বন্ধ রাখলে এতে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ সংক্রান্ত মামলা হলে পুরো বেতন আদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর মামলা হলে বেতন স্কেল নিয়ে জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে অনেকের ধারণা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে চাকরিরতরা ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৯ বেতন আদেশে প্রদত্ত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের সুবিধা প্রাপ্তির শর্ত মেনে নিয়েই চাকরি করছেন। এই শর্তানুযায়ী অনেকে ইতোমধ্যে টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেডে পেয়েছেন। অনেকের প্রাপ্য হয়েছে। আবার অনেকে সময়সীমা প্রায় অতিক্রম করে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড না দেয়ার সুযোগ নেই। তাদের টাইম স্কেল/ সিলেকশন গ্রেড না দিলে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হবে বলে অনেকে মনে করেন। তবে ২০১৫ বেতন আদেশের পরে যারা চাকরিতে যোগদান করবেন কেবল তাদের ক্ষেত্রে এই বিধানটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ার শর্তাবলীতে এটি উল্লেখ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাকরিবিধি ও চাকরিসংক্রান্ত আইনানুযায়ী বেতন-ভাতাদি চাকরির একটি অপরিহার্য শর্ত। এই শর্তাবলী সরকার ও চাকরিজীবীদের অলঙ্ঘনীয়। এই শর্তাবলী উভয়ের মধ্যে কিছু আইনানুগ দায়িত্ব এবং অধিকার সৃষ্টি করে। এই জাতীয় অধিকারের মধ্যে চাকরিজীবীদের সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অপরদিকে সরকারের আইনানুগ দায়িত্ব হচ্ছে, যে সকল চাকরিজীবীর কাছ থেকে সরকার ইতোমধ্যে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেয়ার শর্তে সেবাগ্রহণ করেছে, তাদের জন্য টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিশ্চিত করা। এর ব্যত্যয় হলে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ সংক্রান্ত মামলা হলে পুরো বেতন আদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

এ ক্ষেত্রে যারা ২০১৫ বেতন আদেশ জারির আগে চাকরিতে যোগদান করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল রেখে যারা ২০১৫ বেতন স্কেল জারির পর চাকরিতে যোগদান করবেন তাদের ক্ষেত্রে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না দেয়ার বিধানটি প্রয়োগ করা হলে আইনানানুগ কোন জটিলতা থাকবে না। তবে সে ক্ষেত্রে নতুন বেতন স্কেলে বা নিয়োগের শর্তে তা উল্লেখ করতে হবে।

আইনবিদরা মনে করেন চাকরিতে কোন অধিকার একবার সৃষ্টি হলে তা কেড়ে নেয়া বা কর্তন করা হলে তা হবে সংবিধান ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এ জাতীয় কর্তনের ক্ষেত্রে বা সুবিধা বঞ্চনার ক্ষেত্রে চাকরিজীবীদের পক্ষে সুপ্রীমকোর্টে অনেক মামলার রায়ের নজির রয়েছে।

একই তারিখে ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন ॥ সকল ধরনের ও শ্রেণীর কর্মচারীর জন্য একই তারিখে ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন করার উদ্দেশ্যে আগামী ১ জুলাই, ২০১৬ পর্যন্ত ১ বছর সকলের জন্য ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রাখা আইনগতভাবে গোড়া থেকেই বেআইনী। কেননা ইনক্রিমেন্ট কোন ভাতা নয় এবং এটা সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আইনগত অবিচ্ছেদ্য অধিকার। চাকরি চলমান থাকলে ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি চলমান থাকবে এটাই আইনানুগ। আইনগত পদ্ধতি অনুযায়ী কোনরূপ শাস্তি প্রদান ব্যতিরেকে কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি কোনভাবেই বন্ধ রাখা আইনানুগ নয়। তাই সকলের জন্য একই তারিখে ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা চালু করার সরকারের এই ভাল উদ্দেশ্যটি সহজেই সফল হবে যদি নতুন ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ কার্যকরের তারিখ থেকেই অর্থাৎ চলতি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে একটি ইনক্রিমেন্ট সকল কর্মচারীকে প্রদানপূর্বক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য, কোন নতুন ব্যবস্থা প্রচলন করতে গেলে শুরুতে ভোক্তা নয় বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই ত্যাগ স্বীকার বা ছাড় দিতে হয় এবং এটাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু ভোক্তাগণ ছাড় দেবে কর্তৃপক্ষ হিসেবে সরকার ত্যাগ স্বীকার করবে না, যার ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে ভোক্তাগণ তথা সকল ধরনের কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হবে যা আইনানুগও নয়। আর্থিক বছরের বাজেট প্রণয়নের সুবিধার স্বার্থে একই তারিখে সকল কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট যোগ হওয়ার ব্যবস্থাটি চালু করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য, কারও ইনক্রিমেন্ট আগামী ১ বছরব্যাপী বন্ধ রাখা উদ্দেশ্য নয় এবং এটা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিতও নয়। মন্ত্রিসভা নীতি নির্ধারণ করেছে, বাস্তবায়নের পদ্ধতি অর্থ বিভাগ নিজস্ব বিবেচনায় প্রস্তাব করেছে, যা চূড়ান্তভাবে গেজেট আকারে জারি হয়নি বিধায় এখনও সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

১ম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তাগণকে চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড প্রদান ॥ টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিল করা হলেও ক্যাডার/নন-ক্যাডার নির্বিশেষে ১ম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তাগণকে চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে যথাসময়ে পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হয় না এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পদোন্নতিবিহীন পদের কারণে পদোন্নতি হয় না। তাদের যথার্থ সময়ে বিভিন্ন কারণে কাক্সিক্ষত পদোন্নতি না দেয়া গেলেও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি অন্তত আর্থিকভাবে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য উপ-সচিব/ পরিচালক বা সমমানের পদের বেতন স্কেল প্রদানের মাধ্যমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়া সম্ভব। বিষয়টি পুনর্বিবেচনাপূর্বক ‘অন্যবিধভাবে’ কোন বিধান ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন হবে। এতে বেশ কিছুসংখ্যক সরকারী কর্মচারীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ কিছুটা হলেও প্রশমিত করা সম্ভব বলে প্রতীয়মান হয়।