২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবশেষে কাজে যোগ দিয়েছেন স্পেনের আইসোলেক্সের কর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কয়েক দফা আল্টিমেটামের পর অবশেষে কাজে যোগ দিয়েছেন স্পেনের বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইসোলেক্সের কর্মীরা। রবিবার আইসোলেক্সের কর্মীরা বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের কাজে যোগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি (ইজিসিবি) সূত্র। দেশে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যাকা-ের পর আইসোলেক্সের কর্মীরা সরকারকে আকস্মিকভাবে চিঠি দিয়ে তিন বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে দেশে চলে যায়। সম্প্রতি অন্য বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোর জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রগুলোর মালিক বিভিন্ন কোম্পানি। ইজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল রবিবার বিকেলে জনকণ্ঠকে জানান, আইসোলেক্সের কর্মীরা কাজে যোগ দিয়েছে। আজই (রবিবার) তারা কাজে যোগ দেন। তবে সিদ্ধিরগঞ্জের নির্মাণাধীন বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে ৩৮ জনকে প্রত্যাহার করা হলেও কতজন ফিরে এসেছেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা জানার চেষ্টা করছি কত জন এসেছে। কিন্তু এখনও জানা সম্ভব হয়নি। তাদের স্থানীয় অফিস থেকে জানানো হয়েছে তারা কাজে যোগ দিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আইসোলেক্স কর্মী প্রত্যাহারের পর দেশের সকল বিদ্যুত কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরপরও গত সপ্তাহে ভোলা, বিবিয়ানা এবং ঘোড়াশাল বিদ্যুত কেন্দ্রর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুত বিভাগে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোতে দেশী বিদেশী কর্মীরা কাজ করছেন তাদের নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাগ্রহণ করা জরুরী। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, সাধারণ বিদেশী নাগরিকরা যেভাবে চলাফেরা করেন বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা সেভাবে থাকেন না। বড় বিদ্যুত কেন্দ্র কেপিআইভুক্ত। সেখানে সেনা সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। উপরন্তু তাদের আনসার এবং পুলিশ প্রহারাও বাড়ানো হয়েছিল। তারপরও এক তরফাভাবে আইসোলেক্স কর্মী প্রত্যাহার করে।

স্পেনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ৫ নবেম্বরের মধ্যে আইসোলেক্সের কর্মীদের কাজে যোগ দিতে বলে। স্পেনের রাষ্ট্রদূত বিষয়টির দায়িত্ব নিয়ে কর্মীদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেন। স্পেনের কোম্পানিটি গত ৫ এবং ৮ নবেম্বর কাজে যোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি। পুনরায় বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঠিকাদার কোম্পানিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, দুই বিদেশী নাগরিক হত্যাকা-ের পর মোট ৪১ জনকে তিনটি বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে আইসোলেক্স। এদের মধ্যে ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানির (ইজিসিবি) সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে ৩৮ জন, বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের বিবিয়ানা-৪৫০ মেগাওয়াটের ১ নম্বর ইউনিট থেকে দুজন এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির খুলনা-১৫০ মেগাওয়াট থেকে একজনকে প্রত্যাহার করা হয়। সেখানে আর্জেন্টিনা এবং বুলগেরিয়ার নাগরিকও ছিল। তাদেরও আইসোলেক্স প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাহার করে। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আইসোলেক্স ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক তরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সবগুলো বিদ্যুত কেন্দ্রই সরকারী বিদ্যুত কেন্দ্র। আইসোলেক্স এখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

তিনটি বিদ্যুত কেন্দ্র তিনটিই সঙ্কটে পড়ে। তবে সব থেকে সমস্যায় পড়বে ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি ইজিসিবি। বিদ্যুত কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ চলছে। অন্য দুটির একটিতে ভূমি উন্নয়ন হচ্ছে আর অন্যটি বিদ্যুত উৎপাদন করছে।