১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাজের অগ্রগতি ৩ মাসে ৮৪ শতাংশ বাড়িয়ে দেখানোয় ক্ষোভ ॥ যশলদিয়া পানি শোধনাগার মেগা প্রকল্প

  • জড়িতদের শাস্তি দাবি সংসদীয় কমিটির

নাজনীন আখতার ॥ পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার মেগা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি মাত্র তিন মাসে ৮৪ শতাংশ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে ১১ শতাংশ দেখানো হলেও আগস্টে কাজের অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ উল্লেখ করে সংসদীয় কমিটিতে প্রতিবেদন দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। এ প্রতিবেদনকে ‘কাল্পনিক’ উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করে এ ধরনের কাল্পনিক তথ্য উপাত্ত সরবরাহের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব করেছে কমিটি। এর সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগও।

উল্লেখ্য, রাজধানীবাসীর বিশুদ্ধ খাবার পানির চাহিদা মেটাতে গত ২৮ অক্টোবর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া এলাকায় ৯০ একর জমির ওপর পদ্মার পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চীন সরকারের ঋণ সহায়তায় করা হচ্ছে। ৪২ মাস মেয়াদী এ প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদন হয় ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর। ৩ হাজার ৫০৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পে নিজস্ব অর্থ এক হাজার ৯৫ কোটি টাকা। বাকি দুই হাজার ৪১৪ কোটি টাকা বিদেশী ঋণ। এ কাজে চীন সরকার চায় না সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে। উন্নয়ন সহযোগীর নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারিংয়ের কোন সুযোগ নেই। প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বুস্টার স্টেশন, দুই হাজার মিলিমিটার ব্যাসের ৩৩ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ এবং ইনটেক অবকাঠামো নির্মাণ। ওই প্রকল্পের ৩৩ কিলোমিটার লাইনের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৬০ কিলোমিটার লাইন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৯ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পানির লাইন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্য দিয়ে স্থাপন করা হবে।

জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি কমিটির এক বৈঠকে কাজের অগ্রগতি বিষয়ে তথ্যকে কাল্পনিক উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৬ষ্ঠ বৈঠকে ওয়াসার সরবরাহকৃত তথ্যের সঙ্গে ৮ম বৈঠকে সরবরাহকৃত তথ্যের কোন সামঞ্জস্য নেই। ৬ষ্ঠ বৈঠকে পদ্মা (যশলদিয়া) প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজের অগ্রগতি তথ্যে জানানো হয়, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ১১ শতাংশ। অথচ আগস্টে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কাজের অগ্রগতি দেখানো হয়েছে ৯৫ শতাংশ। কাজের পেমেন্ট দেখানো হয়েছে ৯৮ শতাংশ। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে? তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যেসব কর্মকর্তা এ ধরনের কাল্পনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হোক।

সভাপতির সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক বলেন, ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়মগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ ছাড়া আর কোন কাজ হয়নি। পদ্মা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ দেখানো অনৈতিক। বৈঠকে তিনি ওই প্রকল্পসহ ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তদন্ত করে দেখা হবে বলে কমিটিকে জানান।