১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কয়েকটি দেশের রেড এ্যালার্ট জারি করা ঠিক হয়নি ॥ মাতলুব

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যা ও সর্বশেষ প্যারিসে হামলাসহ বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে কোন প্রভাব পড়বে কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেছেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের বাংলাদেশে রেড এ্যালার্ট জারি করাটা অন্যায় হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী সিলেটে বোমা হামলার শিকার হয়েছেন। তখনও তারা রেড এ্যালার্ট জারি করেননি। আর এখন জাপানি নাগরিকের মৃত্যুতেই রেড এ্যালার্ট জারি করে দিয়েছে, এটা তাদের ঠিক হয়নি। মাতলুব বলেন, এগুলো বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে তেমন প্রভাব ফেলবে না। আমরা যথেষ্ট নিরাপদ আছি। আমাদের চিন্তার কিছু নেই। রবিবার সিলেট চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন অব চেম্বার এ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ জানান, গৌহাটিতে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি শাখা চালু হবে। এতে এই অঞ্চলের সঙ্গে আরও সংযোগ স্থাপন হবে। এছাড়া বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় মেঘালয়ের পাহাড়গুলোর ঝরনা ব্যবহার করে হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট স্থাপনের চিন্তা করছে সরকার। এফবিসিসিআইয়ের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারতের শিলংয়ে অনুষ্ঠিতব্য নর্থ-ইস্ট কানেকটিভি সামিট-২০১৫’তে যোগদান উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ১৬ ও ১৭ নবেম্বর শিলংয়ে এ সামিট অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নৌ, রেলওয়ে ও সড়ক পরিবহনের উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সামিটের আয়োজন করা হয়েছে।

আব্দুল মাতলুব বলেন, ভারত এখন বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশের সাহায্য ছাড়া তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি রাজ্যের উন্নয়ন করতে পারবে না। তাই তারা আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছে। এই সামিটে সিলেটের সীমান্ত দিয়ে ভারতের ৭টি রাজ্যে পণ্য রফতানির পথ সুগম করার ব্যাপারে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া সিলেটে ভারতীয় হাইকমিশনের শাখা স্থাপনের বিষয়টিও আলোচিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি সালাউদ্দিন আলী আহমদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া কয়লা ও পাথরনির্ভর শিল্পগুলোতেও অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। শিলংয়ের কানেকটিভি সামিটে এই দুটি পণ্য আমদানি শুরুর ব্যাপারেও আলোচনা করবো। সংবাদ সম্মেলনের পর পরই প্রতিনিধি দল শিলংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ীদের মাইন্ডসেট চেঞ্জ করতে হবে। তারা এখনও ঠিকাদারী ব্যবসা ও আমদানি-রফতানি নিয়েই আছেন। আর আছে ইংল্যান্ডের পয়সা। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেক বদলে গেছে। ইউরোপের অর্থনীতিতেও ধস নেমেছে। সিলেটের ব্যবসায়ীদের এই পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। গড়ে তুলতে হবে আরও শিল্প-কারখানা।