২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এমন প্যারিস আগে কখনও দেখিনি’

এম নজরুল ইসলাম, প্যারিস, ১৫ নবেম্বর ॥ এবারের প্যারিস সফর ছিল পূর্বনির্ধারিত। ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্যারিসে আসার কথা ছিল ১৬ নবেম্বর। প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের যে কোন দেশে গেলে সেখানে তাঁর সম্মানে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। কিছুদিন আগে তিনি নেদারল্যান্ডস সফরে গেলে সেখানেও গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। প্যারিসেও তাঁর গণসংবর্ধনার নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৮ নবেম্বর। ইউরোপের যে কোন দেশে তিনি গেলে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সর্বাঙ্গ সুন্দর করতে অংশগ্রহণ করেন সবাই। এই উপলক্ষেই দুই দিন আগে ১৪ নবেম্বর শনিবার প্যারিস আসা। শনিবার খুব ভোরে ভিয়েনা-প্যারিস রুটের প্রথম ফ্লাইটের টিকিট করা ছিল আগে থেকেই। আগের রাতেই ঘটে যায় মর্মন্তুদ ঘটনা। ভিয়েনা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছেও দ্বিধায় ছিলাম, শেষ পর্যন্ত প্যারিস যেতে পারব কি না।

আমাদের বহন করা বিমানটি যখন প্যারিসের আকাশে, তখন স্থানীয় সময় সকাল আটটা। বাইরের আকাশ ঝলমলে, আলোকোজ্জ্বল। বিমানের ক্যাপ্টেন ঘোষণা করলেন, যাত্রীদের পাসপোর্ট ও আইডেনটিটি হাতে রাখতে হবে। বিমান থেকে নামার পর চেক আপ হবে। এমন ঘোষণা আগে কোনদিন শুনিনি। বিমান থেকে নামতেই যে দৃশ্যটি চোখে পড়ল, সেটিও আগে কখনও দেখিনি। বিমানের সিঁড়ির দুই পাশে নিরাপত্তা বাহিনীর সশস্ত্র দুই সদস্য দাঁড়ানো। যাহোক ১৫ মিনিটেই চেক আপ শেষ হলো। বাইরে বেরিয়ে আমার অবাক হওয়ার পালা। বিমানবন্দরের বাইরে যাত্রীদের স্বজনদের অপেক্ষা করার একটি জায়গা আছে। সেখানে চেয়ারগুলো সব খালি। আমি শুরুতে একটু ভয়ই পেয়ে গেলাম। বিমান বন্দরে নেমেছি বটে। শহরে যেতে পারব কি না, সে বিষয়ে মনে সংশয় দেখা দিল। একটু দূরে দৃষ্টি যেতেই দেখি সেখানে ফুলের তোড়া হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম আতিকুজ্জামান। এগিয়ে এলেন তিনি। আলিঙ্গন, কুশলাদি বিনিময় হলো। তার গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। বিমানবন্দর এলাকা থেকে বেরিয়ে এলাম প্রধান সড়কে। ১৯৯২Ñ৯৩ সাল থেকে প্যারিসে আসছি। এমন প্যারিস আমি আগে কখনও দেখিনি। সংস্কৃতির পাদপীঠ এমন আতঙ্ক ভাবতেও পারিনি। আতিক ভাই আমাকে নিয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরলেন। এমন জনমানবহীন রাস্তা আগে কখনও চোখে পড়েনি আমার।

শুক্রবার ব্যস্ত সন্ধ্যায় যেসব রেস্তরাঁ, সঙ্গীতানুষ্ঠানের হল ও স্টেডিয়ামে হামলা হয়েছে, সেসব জায়গা ঘুরে দেখলাম। মানুষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। সবার ভেতরে এক ধরনের ভয় বিরাজ করছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্যারিস আসার কথা ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের। এর মধ্যে রবিবারই জানা গেল প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিল হয়েছে। কাজেই ১৮ নবেম্বরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হচ্ছে না। ফিরে যাচ্ছি আবার ভিয়েনায়। কিন্তু যে অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার প্যারিস থেকে ফিরে যাচ্ছি, তা আগে কখনও হয়নি। এমন ভয় পাওয়া প্যারিসের চেহারা আমি আগে কখনও দেখিনি। মনে শুধু একটাই সান্ত¡না, প্যারিস কিংবা ফ্রান্সে বসবাসকারী বাঙালী কমিউনিটির কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। সাধারণত এ ধরনের ঘটনার পর হয়রানির শিকার হতে দেখা যায় অনেককেই। তেমন কোন ঘটনার কথাও শুনিনি।