২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস প্যারিসে আইএসআই ঢাকায়

  • জাফর ওয়াজেদ

আইএস আর আইএসআই কত কাছাকাছি নাম। একটি সরাসরি জঙ্গী সংগঠন, যারা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে ইউরোপেও জঙ্গী হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে নৃশংসভাবে। ধ্বংস করছে সম্পদ। আরেকটি হচ্ছে জঙ্গী তৈরির ক্ষেত্র। যাদের গতিবিধি এই উপমহাদেশজুড়ে ব্যাপক। এরা মুম্বাইয়ে একযোগে ৬টি স্থানে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বহু মানুষ হতাহত করেছিল। অনুরূপ ফ্রান্সের সমৃদ্ধ রাজধানী প্যারিসে একসঙ্গে ৬টি স্থানে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। এর দায়ভার স্বীকার করেছে আইএস। কিন্তু আইএসআই যেহেতু গোয়েন্দা সংস্থা, তাই তারা বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন গঠনপূর্বক অস্ত্র ও অর্থবলে বলীয়ান করে ‘অপারেশনে’ নামায়। এবং সেই সংগঠন দায়ভার স্বীকার করে। ইদানীং তারা দৃষ্টি অন্যত্র ঘোরানোর জন্য আইএস ঘটিয়েছে বলে দাবি করছে। যদিও আইএসের জঙ্গী তৎপরতার সঙ্গে বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যাকা-ের মিল নেই। আইএস সশস্ত্র সামরিক বাহিনীর মতোই যুদ্ধ করছে, বিভিন্ন সমাবেশে সশস্ত্র এবং আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেনি। আত্মাহুতি আইএসআই চালু করেনি বলেই হয়ত মুম্বাই হামলা কিংবা দিল্লীর লোকসভা ভবনে হামলায়ও আত্মঘাতী কৌশল চালায়নি। বাংলাদেশে চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হচ্ছে। তালিকা তৈরি করে ও পূর্ব ঘোষণা দিয়ে তারা একের পর এক হত্যাকা- চালাচ্ছে দেশী অস্ত্র দিয়ে। শুধু বিদেশী হত্যায় তারা গুলি ব্যবহার করেছে। এছাড়া গ্রেনেড ও বোমা হামলা চালিয়েছে অতীতেও। চাপাতি, দা, কিরিচ ব্যবহার করে মানুষ হত্যার কাজটি আইএসআই-এরই কৌশল যা পাকিস্তানেও ঘটে। অবশ্য সে দেশে অস্ত্রের এত ছড়াছড়ি যে, গুলি করে হত্যা করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে যেন।

শুক্রবার রাতে প্যারিসে সংঘটিত আইএসের ঘটনা জানিয়ে দিল যে, তারা সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে হটে যেতে বাধ্য হলেও তাদের কর্মকা- থেমে থাকবে না। তা ইউরোপেও ছাড়িয়ে যাবে। সিনাইয়ে রুশ এয়ারক্রাফট আক্রমণ করেছে শুধু নয়, রাশিয়াকে তারা হুমকিও দিয়েছে যে, সেদেশে হামলা চালাবে। চেচনিয়ায় তাদের অনুসারী রয়েছে। আইএসকে একদিকে পৃষ্ঠপোষক করছে যারা, আবার নির্মূলও করতে চায়। তারা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী, এমনটা নয়। বরং যুদ্ধ, সংঘাত বিবাদ অব্যাহত থাক এটাই যেন কাম্য। যে সন্ত্রাসী কর্মকা-কে উসকে দিয়েছে শক্তিধর দেশুগলো, সেসবই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে তাদের গ্রাস করতে চায়। প্যারিস হামলা স্পষ্ট করেছে আইএসের কর্মকা- শুধু মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও অন্যান্য স্থানে হামলা চলবে। তারা এটাও পরিষ্কার করেছে যে, তাদের আত্মঘাতী হামলার এটাই শেষ নয়। বলা যায় শুরু মাত্র। এর আগেও ফ্রান্সে একটি পত্রিকা অফিসে হামলা চালিয়ে ২০ জনকে হত্যা করেছিল এই আইএস জঙ্গীরা। ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস ফ্রান্সে। যে দেশের মুসলিম তরুণদের একটি অংশের মনোজগতে আইএসের অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এদের অনেকে সিরিয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসে জঙ্গীবাদী চেতনার প্রসার ঘটাচ্ছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরেও ফ্রান্স আইএস জঙ্গী ঠেকাতে পারছে না। তদুপরি রয়েছে সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তানসহ উত্তর আফ্রিকার দেশ থেকে আসা শরণার্থীর চাপ। যাদের মধ্যে আইএস জঙ্গীদের অবস্থান থাকা বিচিত্র কিছু নয়। ইউরোপের আশঙ্কাটা সেখানেই যেখানে শরণার্থীদের মধ্যে আইএস মনোভাবাপন্ন থাকতে পারে। তেমনি প্রশিক্ষিত জঙ্গীও। তাই চাইলেই জঙ্গীদের নির্মূল করা সহজ নয়। প্যারিসের এই ভয়াবহ ও নৃশংস সিরিজ হামলা এবং হত্যাকা- শুধু ইউরোপ নয়, পুরো বিশ্বকেই নাড়া দিয়েছে। সেইসঙ্গে সতর্ক বার্তাও দিচ্ছে যে, বিশ্বশক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়তে না পারলে আইএস জঙ্গীদের থেকে কোন দেশই আর নিরাপদ থাকতে পারে না। আইএসের অর্থ ও অস্ত্রবলের যোগানদাতাদের নিবৃত্ত করা না গেলে এদের দাপট বাড়তেই থাকবে। মসজিদেও হামলা চালানোর মতো ঘৃণ্য কাজ করতে পারে। আইএস মূলত মানবতাবিরোধী। প্যারিসে হামলার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের নেটওয়ার্ক কাজ করেছে, যা স্পষ্ট করে আইএস ফ্রান্সে সন্ত্রাসী জাল বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রচার রয়েছে সিরিয়ায় আসাদবিরোধী বিদ্রোহী গ্রুপকে যুক্তরাষ্ট্র যে অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দিয়ে আসছে তা চলে যাচ্ছে আইএসের কাছে। সিরিয়ার সঙ্কট নিরসনে ১২টি দেশ একসঙ্গে বৈঠক করেও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সবাই কথা বললেও বাস্তবে তাই এই ইস্যুতে এক হতে পারছে না। ফলে আইএস তার শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে যাচ্ছে। প্যারিসের পরিস্থিতি আশঙ্কা বাড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। ফরাসী সরকার সবসময় দাবি করে আসছে, দেশটি নিরাপদে রয়েছে। কিন্তু জঙ্গীরা বুঝিয়ে দিয়েছে তারা নিরাপদ নয়। এই ঘটনা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস, সন্দেহ, বিদ্বেষ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, যা কাম্য নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের এই জঙ্গীদের সঙ্গে পাকিস্তানী জঙ্গী সংগঠনগুলোর যোগসূত্র থাকা স্বাভাবিক। আফগানিস্তানে তালেবান নামক জঙ্গী সংগঠনের স্রষ্টা আইএসআই আর সিআইএ। এই দুই সংগঠনের মধ্যে সম্পর্কটা অত্যন্ত গাঢ়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় আইএসআই সক্রিয়। তাদের অর্থায়নে এদেশে ডানপন্থী ও বামপন্থীদের মধ্যে চরম পন্থার বিকাশ ঘটেছিল। পাকিস্তান সংসদে তো জানানো হয়েছে, ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটকে অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। আর ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তা ইরফান রাজাকে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। বাংলাদেশে যেসব সন্ত্রাসী ও জঙ্গী সংগঠন রয়েছে তাদের কয়েকটাকে নিষিদ্ধ করা হলে সেসব সংগঠন এখনও সক্রিয়। এদের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হলেও বিচার ঝুলে আছে। শোনা যায়, বাংলাদেশে থাকা অবৈধ পাকিস্তানীর সংখ্যা কম নয়। অবৈধ এসব পাকিস্তানী পর্যটক বা মাল্টিপল ভিসায় বাংলাদেশে এসে আর ফিরে যায়নি। এদের অনেকে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে চালাচ্ছে জঙ্গী কার্যক্রম। একই সঙ্গে এসব নাগরিক হুন্ডি, আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ ও মাদকের ব্যবসার জন্য ঢাকাকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। কেউ বেসরকারী এনজিও বা কোন প্রকল্পের কাজে এসে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। বৈধ পাকিস্তানীদের সঙ্গে অনেক অবৈধ পাকিস্তানী বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। বৈধভাবে বসবাসকারীর সংখ্যা নয় হাজার। কিন্তু অবৈধভাবে রয়েছে এর কয়েকগুণ। এদের কেউ কেউ জঙ্গী কার্যক্রম, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ করছে। জঙ্গীদের প্রশিক্ষক হিসেবে এদের অনেকে এদেশে কাজ করছে। অনেকে বিভিন্ন ব্যবসার আড়লে অর্থায়ন করছে জঙ্গী কার্যক্রমে। পুলিশও বলেছে, অবৈধ পাকিস্তানীরা এদেশে অবস্থান করে নানা ধরনের অপরাধ করছে। পাশাপাশি এদের সঙ্গে দেশীয় জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ যোগসূত্র রয়েছে। এরা জাল মুদ্রার বাণিজ্য করে আসছে। এর আগে র‌্যাবের হাতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও লস্কর-ই-তৈয়বার কয়েকজন জঙ্গী ধরা পড়েছিল। যারা ঢাকায় কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে ঘনঘন বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করত। এ ধরনের অবৈধ পাকিস্তানী নাগরিকরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি বৈকি। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে দেশটির স্বাধীনতার পর থেকেই। তারা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তাদের থাবার বিস্তার ঘটিয়ে আসছে। এই দেশটিকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার কাজটিতে তারা ব্যর্থ হয়নি। পঁচাত্তরের পনেরো আগস্টের পর থেকে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলো বিনষ্ট শুরু হয়। এক্ষেত্রে তারা মাঠে নামায় একাত্তরের তাদের সহযোগী যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আলবদর বাহিনী, শান্তি কমিটির নেতাকর্মী এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত ও নেজামী ইসলামকে। বিশেষ করে পাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াত হয় এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। বাংলাদেশে জামায়াত নামক যে দলটি বিএনপির সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়ে আছে তার মূল দল পাকিস্তানভিত্তিক জামায়াত। তারই শাখা হিসেবে এরা কাজ করছে। আর এদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করে আসছে আইএসআই। স্বাধীনতার পর হতে আইএসআই অপতৎপরতা চালাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘাঁটি করে সশস্ত্র পন্থা বেছে নিয়েছিল। একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে পার্বত্যবাসীদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল। সেখানে সশস্ত্র সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সীমান্ত এলাকায় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ দিত আইএসআই। ভারতবিরোধী তৎপরতা চালাতে তারা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করত। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এই ঘাঁটি উচ্ছেদ করেন। এদের উচ্ছেদের পর বিলম্ব হলেও ভারত সরকারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সমঝোতার পথ ত্বরান্বিত হতে পেরেছে। শেখ হাসিনা সরকারই উলফার নেতাদের দেশের অভ্যন্তর থেকে আটক করতে পেরেছিল। অসমের সশস্ত্র সংগঠন উলফা নেতাকেও ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারতের ৭টি রাজ্যে শান্তি বজায় থাকলে তা বাংলাদেশের জন্যও স্থিতিশীলতা বজার রাখতে সহায়ক। এই অঞ্চলে হানাহানি, সংঘর্ষ, হামলা বন্ধ করায় শেখ হাসিনার ভূমিকাকে আইএসআই-এর ভাল চোখে দেখার কোন কারণ নেই। বাংলাদেশ থেকে তাদের পাততাড়ি গুটাতে হয়। কিন্তু তারা থেমে নেই। জামায়াত-বিএনপির মাধ্যমে তারা দেশজুড়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে প্রশিক্ষিত জঙ্গী নেতাদের অনেকে আটক থাকায় পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষক এসে এখন এদেশের তরুণদের নানা প্রলোভনের মাধ্যমে এবং শিবিরের ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে গোয়েন্দা পুলিশরা জানিয়েছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে আইএসআই শুরু থেকেই সক্রিয়। তাদের বাংলাদেশ প্রতিভূ সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের বিচারের রায় বানচাল করার জন্য নানা পথ ও পন্থা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে লেখক, বুদ্ধিজীবী, ব্লগার, ধর্মীয় নেতাসহ বিদেশী খুনের ঘটনাগুলোর একটাই উদ্দেশ্যÑ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা। একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতীয়মান করা।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোর বাংলাদেশে আইএস রয়েছে বলে বেশ সোচ্চার হয়ে ওঠার পেছনে কার্যকারণ অবশ্য রয়েছে। জল ঘোলা করে কারা কী চায় সে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেনও। এর পেছনে জামায়াত-বিএনপির লবিস্টদের অবদান রয়েছে। আইএসআই রয়েছে এবং তৎপরতা চালাচ্ছে সে কথা এরা বলে না। দিন কয়েক আগে কলকাতার স্টেটসম্যান পত্রিকার সম্পাদক মানস ঘোষের বাংলাদেশ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রাক্কালে ষড়যন্ত্রের যে নীলনক্সা পাকিস্তানে বসে আঁকা হয়েছিল, ঠিক তার চার দশক পরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআই আবার একই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এবারের ষড়যন্ত্র শুধু রাওয়ালপিন্ডিতে বসে করা হচ্ছে না। তার জাল ছড়িয়ে পড়েছে সুদূর লন্ডনে। যেখানে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যার সঙ্গে পশ্চিমী দেশও জড়িয়ে গেছে।’ মানস ঘোষ তার প্রতিবেদনে যে চিত্র তুলে ধরেছেন তার মূলে আঘাত হেনে তা ধ্বংস করা দেশ ও জাতি হিসেবে বাঙালীর অবশ্য কর্তব্য। বাংলাদেশ ধ্বংস হওয়ার জন্য জন্মলাভ করেনি। এই দেশ ধ্বংস করার জন্য শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, লেখক, মুক্তমনা মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করছে। সেইসঙ্গে বিদ্যার্জনকেও। আর এসব কিছুর পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াত জোট। কারণ তাদেরই বিরাট স্বার্থ এখানে জড়িত। এতে দেশ ও জাতি ধ্বংস হলেও তাদের কিছু আসে যায় না। আগামীকাল ১৭ নবেম্বর সাকা ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের শুনানি হবে। এ নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার তাদের সব তৎপরতা আগাম দমন করা আবশ্যক।