১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শহর ছেড়ে গ্রামের পথে ব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এবার শহর ছেড়ে গ্রামের পথে হাঁটছে বেসরকারী ব্যাংকগুলো। সরকারী ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারী ব্যাংকগুলোও গ্রামে শাখা খুলতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৬৬টি শাখা নতুন খোলা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামেই খোলা হয়েছে ৩৭টি। এ সময়ে বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকেরই গ্রামীণ শাখা বেড়েছে ৩৬টি। তবে সার্বিকভাবে বেসরকারী ব্যাংকের চেয়ে সরকারী ব্যাংকেরই গ্রামীণ শাখাই বেশি। আর বিদেশী ব্যাংকের একটি শাখাও গ্রামে নেই।

জানা গেছে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে শহর ও গ্রামে সমান হারে শাখা খোলার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নির্দেশনার পর থেকেই বেসরকারী ব্যাংকগুলো শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ শাখা সম্প্রসারণে অধিক মনোযোগী হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এক সময় বেসরকারী ব্যাংকগুলো গ্রামীণ শাখা সম্প্রসারণে কম আগ্রহ দেখাত। কিন্তু এখন তা হচ্ছে না। গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্ব অনুধাবন করে শহরের ন্যায় গ্রামেও সমান অনুপাতে শাখা খুলছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, নতুন অনুমোদন পাওয়া ৯টি ব্যাংকসহ দেশে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ৫৬টি ব্যাংক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকের শাখা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৯৭টি। যা জুন শেষে ছিল ৯ হাজার ১৩১টি। এ হিসেবে গত তিন মাসে ব্যাংকের শাখা বেড়েছে ৬৬টি। এ সময়ে গ্রামীণ শাখা বেড়েছে ৩৭টি, আর শহর শাখা বেড়েছে ২৯টি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে গ্রামীণ শাখা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২২৪টি, যা জুন পর্যন্ত ছিল ৫ হাজার ১৮৭টি। এ হিসেবে তিন মাসে গ্রামীণ শাখা বেড়েছে ৩৭টি। অন্যদিকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শহর শাখা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৭৩টি, যা একই বছরের জুন শেষে ছিল ৩ হাজার ৯৪৪টি। এ হিসেবে তিন মাসে শহর শাখা বেড়েছে ২৯টি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৩টি। এর মধ্যে গ্রামীণ শাখা ২ হাজার ৩১৩টি ও শহর শাখা ১ হাজার ৩৬০টি।

গত জুন শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৬৯টি। এর মধ্যে গ্রামীণ শাখা ছিল ২ হাজার ৩১২টি। আর শহর শাখার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫৭টি। এ হিসেবে তিন মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের নতুন শাখা বেড়েছে মাত্র ৪টি। এ সময়ে এসব ব্যাংকের গ্রামীণ শাখা বেড়েছে ১টি। আর শহর শাখা বেড়েছে ২টি। অন্যদিকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারী ব্যাংকের শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৮টি শহরাঞ্চলে ও ১ হাজার ৬১৬টি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। গত জুন পর্যন্ত বেসরকারী ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৮২টি। এর মধ্যে গ্রামীণ শাখা ছিল ১ হাজার ৫৮০টি। আর শহর শাখা ছিল ২ হাজার ৪০২টি। ফলে তিন মাসে বেসরকারী ব্যাংকের নতুন শাখা বেড়েছে ৬২টি। এর মধ্যে গ্রামীণ শাখা বেড়েছে ৩৬টি। আর শহর শাখা বেড়েছে ২৬টি। তবে সর্বশেষ প্রান্তিকে বিশেষায়িত ও বিদেশী ব্যাংকগুলো কোন শাখা খুলেনি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বিশেষায়িত ব্যাংকের শাখা সংখ্যা আগের ১ হাজার ৪০৫টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি শহরাঞ্চলে ও ১ হাজার ২৯৫টি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। অন্যদিকে চলতি বছরের জুন শেষে বিদেশী মালিকানাধীন ৯টি ব্যাংকের মোট শাখা ছিল ৭৫টি। যার সব কটিই শহরে অবস্থিত ছিল। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন কোন শাখা না খোলায় তা একই জায়গায় অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ২০টি শাখা খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি গ্রামীণ ও ৭টি শহর শাখা রয়েছে।